আইফোন ৮ প্লাস বনাম আইফোন ৭ প্লাস

আইফোন ৮ প্লাস বনাম আইফোন ৭ প্লাস


আইফোন ৮ প্লাস বনাম আইফোন ৭ প্লাসঃ শুধু কি নামেই পরিবর্তন নাকি ফিচারেও আছে একটু বেশি কিছু?

এবছরের সেপ্টেম্বার মাসে বাৎসরিক অনুষ্ঠানে আইফোন ৮, আইফোন ৮ প্লাস এবং আইফোন ১০ লঞ্চের আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দেয় অ্যাপল।

আইফোন ১০ অ্যাপলের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন, পুরোপুরি রিডিজাইন করা ফোনটিতে রয়েছে প্রান্ত বরাবর ওএলইডি ডিসপ্লে এবং

ট্রু ডেফথ ফ্রন্ট ক্যামেরা সাথে আছে ফেস আইডি ফেসিয়াল রেকগনিশন, কিন্তু অসাধারণ সব ফিচারের সাথে স্বাভাবিকভাবেই দামটাও অনেকটা বেড়ে যাবে,

বাংলাদেশে যেটার দাম আনুমানিক ১,১০০০০ টাকা হতে পারে।

আইফোন ৮ প্লাস (iPhone 8 Plus) স্মার্টফোন রিভিউ

আইফোন ৮ এবং আইফোন ৮ প্লাসকে খুব স্বাভাবিকভাবেই আইফোন ৭ এবং আইফোন ৭ প্লাস এর উত্তরাধিকারী বলা যায়, তবে তাদের মাঝে নাটকীয় কোন পরিবর্তন দেখা যায় না শুধু মাত্র দাম ছাড়া এবং

কিছু কিছু যায়গায় উন্নতি ছাড়া যেমন ফাস্টার এ১১ বায়োনিক চিপস এবং ওয়্যারলেস চারজার ইত্যাদি।

আপনার যদি একটি আইফোন ৭ প্লাস থাকে অথবা ইচ্ছে থাকে একটা কেনার তবে আপনি জেনে খুবই অবাক হবেন যে, বছর-পুরোনো স্মার্টফোনের গাদাখানেক রয়েছে আইফোন ৮ প্লাসে।

আইফোন ৮ প্লাস বনাম আইফোন ৭ প্লাস

এই কারনেই আমরা নতুন এবং অপরিবর্তিত ফিচার এবং টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন গুলির একটি তালিকা তৈরি করেছি।

বিস্তারিত জানতে আমাদের সাথেই থাকুন……

আইফোন ৮ প্লাস বনাম আইফোন ৭ প্লাসঃ একই রকম আছে কি কি?

  • টাচ আইডিঃ আইফোন ৮ প্লাস এবং আইফোন ৭ প্লাস উভয় ফোনেই টাচ আইডি ফিঙ্গারপ্রিন্ট অথেনটিকেশন সহ হোম বাটন আছে।
  • ফ্রন্ট ক্যামেরাঃ ফ্রন্ট-ফেসিং ক্যামেরায় ৭ মেগাপিক্সেল সেন্সরের সাথে এফ/২.২ অ্যাপারচার, রেটিনা ফ্ল্যাশ এবং ১০৮০পি এইচডি ভিডিও রেকর্ডিং আছে আইফোন ৮ প্লাস এবং আইফোন ৭ প্লাস উভয় ফোনেই। কিন্তু ফ্রন্ট-ফেসিং পোট্রেট মুড এবং অ্যানোমোজি সাপোর্ট করে না।
  • ওয়াটার রেজিস্টেন্সঃ আইফোন ৮ প্লাস এবং আইফোন ৭ প্লাস উভয় ফোনেই আইপি৬৭ রেটেড স্প্ল্যাশ, পানি এবং ডাস্ট রেজিস্টেন্স আছে।
  • মেমরিঃ উভয় মডেলের ফোনেই র‍্যাম আছে ৩ জিবি।
  • ব্যাটারি লাইফঃ আইফোন ৮ প্লাস এবং আইফোন ৭ প্লাস উভয় ফোনেই রয়েছে একই ব্যাটারি লাইফ। অ্যাপলের টেস্টিং অনুসারেঃ
    • টক টাইমঃ ২১ ঘন্টা পর্যন্ত
    • ইন্টারনেটঃ ১৩ ঘন্টা পর্যন্ত
    • ভিডিও প্লেব্যাকঃ ১৪ ঘন্টা পর্যন্ত
    • অডিও প্লেব্যাকঃ ৬০ ঘন্টা পর্যন্ত
  • উভয় মডেলের ফোনেই একটি লাইটেনিং কানেক্টর রয়েছে কিন্তু ৩.৫ মিলি মিটারের হেডফোন জ্যাক নেই।
  • উভয় মডেলের ফোনই এলটিই এডভান্স, VoLTE, 11ac ওয়াই ফাই এবং ওয়াই ফাই কলিং সাপোর্ট করে।

আইফোন ৮ প্লাস বনাম আইফোন ৭ প্লাসঃ অনুরুপ কি কি?

  • ফোনের ডিসপ্লে গুলোঃ রেটিনা এইচডি ডিসপ্লে নামে আইফোন ৮ প্লাস এবং আইফোন ৭ প্লাস উভয় ফোনেই ৫.৫ ইঞ্চি এলসিডি ডিসপ্লে আছে সাথে আছে ১৯২০*১০৮০ রেজুলেশন।
  • ডিসপ্লের অন্যান্য সকল টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন গুলি বলতে গেলে অনুরূপই আছে, ১৩০০:১ কন্ট্রাস্ট রেশিও, ৩ডি টাচ, ওয়াইড কালার (পি৩) সাপোর্ট এবং ৬২৫সিডি/এম২ ম্যাক্স ব্রাইটনেস (625 cd/m2 max brightness)।
  • দুটি ফোনের ডিসপ্লের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হল আইফোন ৮ প্লাসে ট্রু টোন ডিসপ্লে রয়েছে, অর্থাৎ যেটা স্বয়ংক্রিয় ভাবে এর চারপাশের পরিবেশের যে আলো তার কালার টেম্পারেচারের সাথে ম্যাচ করার জন্য ডিসপ্লের কালার এবং ইনটেনসিটি এডোপ্ট করে নেয়।

বিষয়টা জটিল হয়ে যাচ্ছে কি? একটি উদাহারন দিলে আশাকরি পরিষ্কার বুঝতে পারবেন। ধরুন আপনি একটি উজ্জ্বল আলোর বাল্ব এর আলো ঝলমলে ঘরে দাঁড়িয়ে আছেন, তাহলে আপনার ডিসপ্লে হবে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ এবং হলদেটে।

অপরদিকে আপনি যদি মেঘলা আবহাওয়ায় ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন তবে ডিসপ্লে হবে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা এবং নীলচে।

  • রিয়ার ক্যামেরাঃ আইফোন ৮ প্লাস এবং আইফোন ৭ প্লাস উভয় ফোনেই আছে ১২ মেগাপিক্সেল রিয়ার ফেসিং ডুয়াল ক্যামেরা। আরো আছে টেলিফটো লেন্স সাথে এফ/২.৮(ƒ/2.8) অ্যাপারচার এবং অয়াইড এঙ্গেল লেন্স সাথে এফ/১.৮(ƒ/1.8) অ্যাপারচার।
  • আইফোন ৮ প্লাসের আছে পোট্রেট লাইটিং বিটা সাপোর্ট, কিন্তু অন্যান্য সকল রিয়ার ক্যামেরার টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন মুলত কাগজে কলমে একই।
  • যায়হোক, অ্যাপলের বক্তব্য হল, আইফোন ৮ প্লাসের রিয়ার ক্যামেরা অনেকটা উন্নত করা হয়েছে যেমনঃ বেশ বড়সড় ফাস্টার সেন্সর, নতুন কালার ফিল্টার এবং ডিপার পিক্সেল ইত্যাদি।
  • সাইজ এবং ওজনঃ আইফোন ৭ প্লাসের তুলনায় আইফোন ৮ প্লাসের ওজন হালকা ভারি, যথাক্রমে ৭.১৩ আউন্স এবং ৬.৬৩ আউন্স। আইফোন ৮ প্লাস আইফোন ৭ প্লাসের তুলনায় মারজিনালি কিছুটা মোটাও, খুব বেশি না, মাত্র ০.২মিলিমিটার। সুতরাং এর সাথে খুব টাইট কেস নাও ফিট হতে পারে।

আইফোন ৮ প্লাস বনাম আইফোন ৭ প্লাসঃ পার্থক্য গুলো কি কি?

  • গ্লাস ব্যাকড ডিজাইনঃ আইফোন ৮ প্লাসে আইফোন ৭ প্লাসের মতই আছে একটি নতুন গ্লাস ব্যাকড ডিজাইন সাথে আছে একইরকম কালার ম্যাচিঙের ৭০০০ সিরিজ এলুমিনিয়ামের চারধার, গ্লাস ফ্রন্ট। অ্যাপলের বক্তব্য হল, যে কোন স্মার্ট ফোনের তুলনায় তাদের রিয়ার গ্লাস সবচেয়ে শক্ত “৫০ শতাংশ গভীর শক্তিশালী স্তর বিশিষ্ট”।
  • পারফর্মেন্সঃ আইফোন ৮ প্লাসে আছে অ্যাপলের সর্বাধুনিক এ১১ বায়োনিক চিপ (A11 Bionic chip)। আইফোন ৭ প্লাসের এ১০ এর চেয়ে ৮ প্লাসে অতিরিক্ত দুটি পারফর্মেন্স কোর রয়েছে, একটি হল ২৫ শতাংশ ফাস্টার এবং অপরটি হল এর চারটি হাই ইফেসিয়েন্সি কোর যেটি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ফাস্টার।
  • এ১১ চিপে এম১০ তুলনায় আরো আছে একটি নিউরাল ইঞ্জিন এবং আরো বেশি শক্তিশালী এম১১ মোশোন কো প্রসেসর।
  • ওয়্যারলেস চারজিংঃ ওআই স্ট্যান্ডার্ড এর উপর ভিত্তি করে আইফোন ৮ প্লাস ওয়্যারলেস চারজিং সাপোর্ট করতে পারে। কোন ইনডাক্টিভ চারজিং প্যাডের উপরে রেখে ডিভাইসটিকে চার্জ করা যাবে যেমন অ্যাপলের আসন্ন এয়ারপাওয়ার ম্যাট অথবা একসেসরি মেকারদের তৈরি করা আরো থার্ড পার্টি অপশন রয়েছে যেমন Mophie, Belkin, এবং Incipio।
  • ফাস্ট চারজিং ঃ আইফোন ৮ প্লাসে “ফাস্ট চারজিং সম্ভব”, ফাস্ট চারজিং বলতে বোঝায় ডিভাইসটি যে কোন ১২ ইঞ্চি ম্যাকবুক এবং ২০১৬ অথবা তার পরবর্তী ম্যাকবুক প্রো মডেলগুলো সহ পৃথকভাবে বিক্রিত অ্যাপলের ২৯ওয়াট, ৬১ওয়াট অথবা ৮৭ওয়াটের ইউএসবি-সি পাওয়ার এডাপ্টার এর মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই ব্যাটারির ৫০ শতাংশ চার্জ দেয়া সম্ভব।
  • ফিউয়ার কালারওয়ে সমুহঃ ফোনগুলোর বাহ্যিক রংগুলোতেও ভিন্নতা রয়েছে যেমনঃ আইফোন ৮ প্লাসের রংগুলো হচ্ছে গ্লাস-ব্যাকড সিলভার, স্পেস গ্রে এবং সোনালীর নতুন একটি শেড। অপরদিকে আইফোন ৭ প্লাস সচরাচর যে রংগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে তা হল এলুমিনিয়াম-ব্যাকড ব্ল্যাক, গোল্ড, জেট ব্ল্যাক, রোজ গোল্ড এবং সিলভার।
  • ব্লুটুথঃ ফোন দুটির ব্লুটুথ ফিচারে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে, আইফোন ৮ প্লাসে রয়েছে ব্লুটুথ ৫.০ অপরদিকে আইফোন ৭ প্লাসে রয়েছে ব্লুটুথ ৪.২।
  • এখানেই শেষ নয় ভিন্নতা, আইফোন ৮ প্লাস ৬০ এফপিএস পর্যন্ত ৪কে ভিডিও ধারন করতে পারে, অপরদিকে আইফোন ৭ প্লাস ৩০ এফপিএস পর্যন্ত ৪কে ভিডিও ধারন করতে পারে।

শেষ কথাঃ

আইফোন ৮ প্লাসের নতুন প্রধান ফিচার গুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন গ্লাস ব্যাকড ডিজাইন, ট্রু টোন ডিসপ্লে, ফাস্টার এ১১ বায়োনিক চিপ, ওয়্যারলেস চারজিং, ফাস্ট চারজিং,৬০ এফপিএস পর্যন্ত ৪কে ভিডিও ধারনে সক্ষমতা এবং ব্লুটুথ ৫.০।

সর্বোপরি এই ফিচারগুলো আইফোন ৮ প্লাসকে আইফোন ৭ প্লাসের তুলনায় নিশ্চিতভাবেই অনেক আপগ্রেড করেছে, যেভাবেই হোক আর যে কারনেই হোক আইফোন ৭ প্লাসে উক্ত ফিচারগুলো অ্যাপলের দেয়া হয় নি।

পাশাপাশি আইফোন ১০ এ যে ফিচারগুলো রয়েছে সেগুলো এখানে তুলনীয় নয়।

আইফোন ৮ এবং আইফোন ৮ প্লাসের ফোনগুলো পেতে হলে দেশের যে কোন বড় বড় স্মার্টফোন শোরুম গুলোতে চোখ রাখুন।

২৫৬ জিবি এর আইফোন ৮ প্লাসের দাম বাংলাদেশে পড়বে আনুমানিক ১,২৫,০০০ টাকা যেটা আইফোন ৭ প্লাসের চেয়ে ১১,২০০ টাকা বেশি, অর্থাৎ ৭ প্লাস পেতে পারেন আনুমানিক ১,১৩,২০০ টাকায়।

Comments

comments

Join the discussion

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।