এসি কিনার আগে জেনে নিন বিভিন্ন এসির মূল্য

আপনার সিদান্ত নেয়ার সুবিধার্থে জেনে নিন বিভিন্ন ক্যাটেগরির এসির মূল্য, এই গরমে ঘরে একটি এসি আজকাল ভীষণ জরুরী হয়ে পরেছে। বিশেষ করে ঘরে যদি বাচ্চা থাকে তবে তো এটি এখন অত্যাবশ্যক । শীত এবং গরম দুটোতেই বাচ্চারা অসুস্থ হয় বেশী।

আপনার বাসায় যদি এসি না থাকে বা আপনি যদি এসি কেনার কথা ভাবছেন এমন হয় তবে আমাদের এই লিখাটি আগে একটু পড়ে নিন এসির বাজারে যাওয়ার আগে। কারণ আপনার কাছে এসি সম্পর্কে যত বেশী তথ্য থাকবে , এটি কিনতে আপনার তত সুবিধা হবে।

শুরুর কথা – এসির মূল্য 

আপনার এসি কিনতে হবে আপনার বাড়ী বা বাসার প্রকারভেদ অনুযায়ী। সাধারণত আমাদের দেশের বাসার সব রুমেই জানালা থাকে। আর জানালা থাকে পছন্দ আর আপনার বাজেট অনুযায়ী ভাল ব্রান্ডের উইন্ডো এসি কিনে লাগাতে পারেন । আপনার রুমের আয়তন ছোট হলে এটটই সবচেয়ে ভাল হয় ।

তাই আসুন এসি কেনার আগে জেনে নিন ১৫ টি দুর্দান্ত ও গুরুত্বপূর্ন টিপস, প্রয়োজনীয় তথ্য , যে কিভাবে কোন এসিটি আপনার ঘরে জন্য কেনা সবচেয়ে উপযুক্ত হবে।

আর এক্ষেত্রে এসির এসির মূল্য ও একটু কম ।

তবে বড় রুমের জন্য ‘স্প্লিট এসি’ ই পারফেক্ট। বিশেষ করে মাস্টার বেড বা বসার ঘরের জন্য ‘স্প্লিট এসি’ জরুরী কারণ এর অনেক স্পেস ডাণ্ডা করার জন্য ‘স্প্লিট এসি’ কার্যকরী। এছাড়া অফিস রুম যেখানে অনেক সময় জানালা থাকে না -সেখানেও ‘স্প্লিট এসি’ রাখতে হবে।

এসি কিনতে যাওয়ার আগে আপনি আপনার ঘরে পরিমাপ ঠিকভাবে করে নিন।

স্কয়ার ফিটের হিসাব করে নিন। আপনার ঘরের আয়তন যদি সর্বোচ্চ ১৪০ স্কয়ার ফিট হয় তবে আপনাকে ১ টন ক্ষমতা সম্পন্ন এসি কিনতে হবে। তবে আয়তন বাড়ার সাথে সাথে এসির কার্যক্ষমতার ও পরিবর্তন করতে হয়।

তাই ১৪০ থেকে ১৯৬ স্কয়ার ফিটের রুমের জন্য ১.৫ টনের ক্ষমতাসম্পন্ন এসি কেনা জরুরী । এছাড়া উপরের ফ্লোরগুলি বেশী গরম হয়।

আপনার বাসা যদি সবচেয়ে উঁচু ফ্লোর বা টপ ফ্লোরে হয় তবে রুম ছোট হলেও বেশী ক্ষমতাসম্পন্ন এসি কিনে তে হবে আপনাকে।

এসি কেনার আগে আরও কয়েকটি বিষয় জানতে হবে যেমন-  ইনভার্টার কিংবা ইকোন্যামি নামক পাওয়ার সেভিং যা আপনার এসি খরচ কমাবে।

এসির দাম : মুল্যের তারতম্য

দেশে এখন দেশি ও বিদেশী অনেক কোম্পানির এসিই পাওয়া যায় । দেশীয় কোম্পানির মধ্যে ‘ওয়ালটন’ বিভিন্ন মডেলের এসি বাজারে এনেছে। তাদের বিভিন্ন শো-রুমে ৪ টি ভিন্ন প্রকারের এসি পাওয়া যাবে।

Walton-AC-productreviewbd

এগুলর মূল্য শুরু হয়েছে ৩২,০০০ টাকা থেকে আর সর্বোচ্চ ৫৫,৭০০ টাকা পর্যন্ত ওয়ালটন এর এসি রয়েছে। এদের এসিগুলতে ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি আর ৩ বছরের সার্ভিস বা সেবা ওয়ারেন্টই রয়েছে।

এছাড়া বিদেশি কোম্পানির মধ্যে প্যানাসনিক, সনি,এলজি, ক্যারিয়ার, শার্প ,ওয়ারপুল হেইজ এন্ড হেয়ার এর এসির বিপুল চাহিদা রয়েছে বাংলাদেশের বাজারে।

তুলুনামুলকভাবে বিদেশি কোম্পানির এসি দাম বেশী। যেমন-‘প্যানাসনিক’ ব্র্যান্ডের ১ টন ক্ষমতা সম্পন্ন ইনভার্টার এসির দাম পড়বে ৭৫,০০০ টাকা। আর ১.৫ টনের এসি দাম হবে ১,০০০০০ বা তার কাছাকাছি । তবে এদের ইকনমি এসি দাম একটু কম। ১ থেকে ১.৫ টনের ক্ষমতা সম্পন্ন এসি মূল্য প্রায় ৭৩,০০০ টাকা থেকে ৯৫,০০০ টাকার মধ্যে ।

panasonic-sc-small

আবার আপনি যদি ১ টনের প্যনাসনিক ইনভার্টার এবং ইকোনমি অপশন একই সাথে পেতে চান তবে আপনি তা ৮৫,০০০ টাকা থেকে ১,৫০,০০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন। প্যনাসনিক তাদের এসিতে ২ বছরের পার্টস ওয়ারেন্টি আর ৩ বছরের আফটার সেলস সার্ভিস প্রদান করে।

আবার এলজি এর এসির কথায় আসি ।এলজি’র নিজস্ব শো রুমে অনেক মডেলের স্প্লিট এসি পাবেন আপনি । ১ থেকে ১.৫ টনের এসির দাম শুরু ৫৫,০০০ তাকে আর সর্বোচ্চ ১,১০,০০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে কার্যক্ষমতা আর বিভিন্ন বিকল্প ভেদে ।

জেনারেলের ১.৫ টনের উইন্ডো এসির দাম ৫২,০০০ টাকা থাকে ৫৫,০০০ হাজার টাকা। জেনারেলের ২ টনের একই এসির মূল্য ৬৫,০০০ টাকা থেকে ৬৯,০০০ টাকা। আর সবচেয়ে কম দামের এসির মধ্যে আছে ক্যারিয়ারের এসি । জেগুলি উইন্ডো এসি আর দাম ৪৫,০০০ টাকা থেকে ৬০,০০০ টাকা।

ogeneral-ac-productreviewbd

‘স্যামস্যাং’য়ের ১ টন ক্ষমতার এসির দাম ৫২,০০০ টাকা থেকে ৫৫,০০০ টাকার মধ্যে।ওয়ারপুল এর ১ থেকে ২ টনের এসির দাম ৭৪,০০০ টাকা আর সর্বোচ্চ ৯৫,০০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে এই কোম্পানির এসিগুলি। ১ থেকে ২ টনের ক্ষমতার র‌্যাংগস এর এসির দাম শুরু ৫১,০০০ টাকায় আর শেষ ৬৪,০০০ টাকা। একই মাপের ক্যারিয়ার ব্রান্ডের এসি পাওয়া যাবে ৪৫,০০০ টাকা থেকে ৯৫,০০০ টাকার মধ্যে ।

samsung_ac-productreviewbd

এসির যত্ন

এসির যত্ন বিশেষ জরুরী আপনার এসি কে ঠিকমতো কার্যকরী রাখতে । এসির প্রথম সমস্যা শুরু হয় এর ঠান্ডাকরার ক্ষমতা কমে যায় । সাধারণত এর নেটে বেশী ময়লা জমা হলে এর ঠান্ডা  বাতাস ভালো ভাবে বের হতে পারে না আর তখন আপনার রুমও ভালোভাবে ঠান্ডা হবে না। তাই নিয়মিত এর নেট খুলে ডাস্ট ক্লিনিং করতে হবে। আর এটা আপনি নিজেই করতে পারেন অতি সহজেই ।

আর ঠান্ডা হওয়া একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে এটি নির্দেশ করে যে এসির ভেতরে গ্যাস শেষ। এক্ষেত্রে আপনি আপনার গ্রাহক সেবা প্রদানকারী কোম্পানির মাধ্যমে গ্যাস রিফিল করিয়ে নিবেন যতদিন আফটার সেলস সার্ভিস পাবেন ততদিন। এর পড়ে আপ[নাকে সার্ভিস চার্জ প্রদান করে সার্ভিসিং করাতে হবে।

তবে অন্য যেকোনো মেসিনের মতই আপনার এসিকে পরিষ্কার রাখতে হবে। আর বাচ্চাদের কাছে এর রিমোট দিবেন না যখন তখন এসি অন আর অফ যাতে না করে। নিয়ন মেনে চললে আপনার এসিও নিয়ম করে ভাল চলবে।

Comments

comments

Join the discussion

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।