ওয়ান প্লাস ৫টি রিভিউ (OnePlus5T)

ওয়ান প্লাস ৫টি রিভিউ (OnePlus5T) 


ওয়ান প্লাস ৫টি আসছে ওয়ান প্লাস ৫ এর দামে, কিন্তু ফিচারে কি থাকছে কোন পরিবর্তন? 

নতুন ওয়ান প্লাস ৫টি (OnePlus5T) বাজারে আসছে নভেম্বর ২০১৭ এর শেষের দিকে। স্মার্ট ফোনটি ওয়ান প্লাস ৫ এর পরবর্তী ফোন, মজার ব্যাপার হল দুটি ফোনের দাম একই রাখা হয়েছে।

নতুন মোড়কে পুরোনো ৫ কেই আবারো বাজারে আনছে নাতো ওয়ান প্লাস?

ওয়ান প্লাস ৫টি রিভিউ

চলুন দেখি কি আছে নতুন স্মার্ট ফোন ওয়ান প্লাস ৫টি(OnePlus5T) তে।

খুব সাম্প্রতিক সময়ের ফোন ওয়ান প্লাস ৫টি (OnePlus5T), ২০১৭ সালের সেরা ধামাকা বলেই মনে হচ্ছে, “ফ্লাগশিপ কিলার” নামটি ঠিকই মানিয়ে যাবে।

যদিও ফোনটি ওয়ান প্লাস ৫ এর পুরোপুরি কপি এবং দামও একই তারপরেও নতুন কিছু চমকও রয়েছে।

দীর্ঘদিন ব্যবহারে ফোনটির পারফর্মেন্স কেমন সেটা আমরা পরে সময়মত আলোচনা করবো, আজ বলবো এর প্রথম ইম্প্রেশন নিয়ে।

স্মার্টফোন প্রেমীদের জন্য বছরের শেষ ভাগে কি ওয়ান প্লাস ৫টি পেরেছে আনন্দ হয়ে আসতে নাকি ৬ এর পথপানে চায়তে  হবে চলুন দেখি।

প্রথমেই এর কিছু ভাল দিক এবং খারাপ দিকের দিকে ছোটখাট একটা নজর বুলিয়ে নেয়, তারপর দেখব বিস্তারিত

পজিটিভ দিকঃ

  • চমৎকার ডিসপ্লে
  • আপডেট ফিচার
  • ইম্প্রেসিভ ব্যাটারি লাইফ

নেগেটিভ দিক

  • ক্যামেরায় জুম সুবিধা নেই
  • ফাস্ট চারজিং এর কথা এখনো জানানো হয়নি

 

 

স্পেসিফিকেশন

এবার একটু নজর বুলিয়ে নেই স্পেসিফিকেশনের দিকে

  • ডিসপ্লেঃ ৬ ইঞ্চি অপ্টিক এমুলেড, ২১৬০*১০৮০ রেজুলেশন
  • প্রসেসরঃ অক্টা কোর কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫
  • র‍্যাম এবং ইন্টারনাল স্টোরেজঃ ৮জিবি (স্টোরেজ ১২৮ জিবি) এবং ৬ জিবি (স্টোরেজ ৬৪ জিবি)
  • ক্যামেরাঃ ফ্রন্ট ১৬ মেগাপিক্সেল, ব্যাক ১৬+২০ মেগাপিক্সেল
  • ব্যাটারিঃ ৩৩০০ এমএএইচ, নন রিমুভেবল
  • সফটওয়্যারঃ অ্যান্ড্রয়েড 7.1.1 (নুগাট)
  • ডাইমেনশন এবং ওজনঃ ১৫৬.১*৭৫*৭.৩ মিলি মিটার এবং ১৬২ গ্রাম

 

 

বাংলাদেশে ওয়ান প্লাস ৫টি এর দাম

ওয়ান প্লাস ৫টি তার পূর্বসূরি ওয়ান প্লাস ৫ এর দামেই বাজারে এশেছে, সুতরাং সেই অনুপাতে বাংলাদেশে ৬৪ জিবি ভার্সনের দাম পড়তে পারে প্রায় ৪৩,০০০ টাকা এবং ১২৮ জিবি ভার্সনের ৪৭,০০০ টাকা। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে দাম যে খুব বেশি নয় সেটা বলতেই হয়।

 

আনবক্সিং ওয়ান প্লাস ৫টি

আনবক্সের পর প্রথমেই রয়েছে ওয়ান প্লাস ৫টি স্মার্ট ফোন, তার নিচেই আছে একটি লাল রঙের হেডফোন এবং বেশ বড় সাইজের ২০ ওয়াটের ড্যাশ চারজার, প্রথমবারের মত ওয়ান প্লাস ফোনের সাথে একটি কেস দিচ্ছ সাথে রয়েছে ইন্সট্রাকশন বুক।

oneplus-5t

যেখানে অনেক কোম্পানিই হেডফোন জ্যাকের পরিবর্তে ইউএসবি টাইপ-সি এর দিকে ঝুঁকে পড়ছে সেখানে ওয়ান প্লাস এখুনো আগের যায়গায় রয়েছে।

ডিজাইন

ওয়ান প্লাস ৫টি যদিও পুরোনো ফোনেরই অনুরুপ তারপরও নতুন বলেই পরিচিত।৬ ইঞ্চির বিশাল ডিসপ্লের ডিজাইন এমন ভাবে করা হয়েছে যে ফ্রন্টের স্ক্রিন অনেক বড় দেখায় এবং স্মার্ট ফোন প্রেমীদের ২০১৭ সালের অন্যতম পছন্দ ছিল এই স্ক্রীন।

অবশ্য এর কারন হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার ব্যাক সাইডে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

এর বিশাল স্ক্রিনের উপরে-নিচে কিছু কিছু বেযেল দেখতে পাওয়া যায়। ফোনটিকে প্রথম দেখায় বেশ প্রিমিয়াম লুকেরই মনে হয়, তবে চলুন দেখি আর কি আছে এতে মন ভোলানোর মত।

ফোনের বামপাশের উপরে আছে স্লাইডার সুইচ তার ঠিক নিচেই আছে ভলিউম রকার। নিচের দিকে রয়েছে ইউএসবি পোর্ট, প্রাইমারি মাইক্রোফোন, হেডফোন জ্যাক এবং স্পীকার গ্রীল।

ডান দিকে রয়েছে সিম কার্ড স্লট যেখান ডুয়াল ন্যানো সিম ব্যবহার করা যাবে। ব্যাক সাইডে উপরের দিকে ডুয়াল ক্যামেরা আর তার পাশেই আছে ফ্ল্যাশ।

তার নিচে আছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার এবং তার নিচে আছে ওয়ানপ্লাসের ব্র্যান্ড লোগো।

ডিসপ্লে

ডীসপ্লের স্ক্রিন অপটিক এমুলেড ফুল এইচডি ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিন, ১৬এম কালার এবং ফোনটির এস্পেক্ট রেশিও ১৮:৯ এবং রেজুলেশন ২১৬০*১০৮০ পিক্সেল।

১৫৬.১*৭৫*৭.৩ মিলিমিটার আয়তনের ওয়ান প্লাস ৫টি এর ওজন ১৬২ গ্রাম। এর ফ্রন্টে রয়েছে করনিং গোরিলা গ্লাস, ফ্রেম এবং ব্যাক এলোমিনিয়ামের তৈরি।

ব্যাক পার্টের কিনারা গুলো কিছুটা কার্ভ হওয়ায় ফোনটির হ্যান্ডফিল খুব ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে ওয়ান প্লাস ৫টি পেয়েছে দারুন চমৎকার এবং আকর্ষণীয় লুক।

নিদেনপক্ষে এর আউটলুকের জন্য হলেও ফোনপ্রেমীদের ফোনটির কথা ভাবতেই হবে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।

ক্যামেরা

যদিও ওয়ান প্লাস ৫টি এর ক্যামেরা দেখলে প্রাথমিকভাবে মনে হতে যে এখানে কোন পরিবর্তন আনা হয় নি, সাধু সাবধান! এখানে পাচ্ছেন বড়সড় চমক। ১.৬ x অপটিক্যাল টেলিফটো লেন্স এর পরিবর্তে ১*২০ মেগাপিকেল শুটার যার কারনে ব্যবহারকারী বেশি আলোয় ৪ পিক্সেল গ্রুপ ক্যাপচার করতে পারবে

এবং

oneplus5t-productreviewbd

অপেক্ষাকৃত লো লাইটেও ভালো পারফরমেন্স দিবে। সর্বমোট ৫২ মেগাপক্সেল রয়েছে ক্যামেরায়, ব্যাকে রয়েছে ডুয়াল ক্যামেরা, ১৬ মেগাপিক্সেল এবং ২০ মেগাপিক্সেল সাথে আছে ফেজ ডিটেকশন অটোফোকাস, ডুয়াল এলইডি ফ্ল্যাশ।

ফিচারে পাচ্ছেন জিও ট্যাগিং, টাচ ফোকাস, ফেস ডিটেকশন, প্যানারোমা ইত্যাদি। ফ্রন্টে রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।

অল্প কথায় বলতে গেলে রেগুলার লাইটে ক্যামেরা পারফর্মেন্স বেশ ভালো পক্ষান্তরে লো লাইটে ক্যাপচার খারাপ নয়, তবে ওয়ান প্লাসের কাছে আরো একটু বেশি চাইতে দোষ নেই।

হার্ডওয়ার

ক্যামেরা ছাড়া ওয়ান প্লাস ৫টি এর বডিতে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেয়। সবকিছুই ওয়ান প্লাস ৫ এর অনুরুপ। একইরকম এলোমিনিয়াম এলোই সেল বডি এবং ৫ এর মতই এন্টেনা লাইন তবে এর বডি সামান্য কিছুটা বড়।

ট্যাক্টেল পাওয়ার বাটন এবং ভলিউম রকারেও কোন স্থান পরিবর্তন নেই।

সফটওয়্যার

এবার কথা বলবো স্মার্টফোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে, চলুন দেখি ওয়ান প্লাস ৫টি এর সফটওয়্যার কি বলে।

ফোনটির অপারেটিং সিস্টেম হল অক্সিজেন ওএস ভিত্তিক অ্যান্ড্রয়েড 7.1.1 (নুগাট) যদিও ২০১৭ সালের শেষের দিকে  অ্যান্ড্রয়েড 8.0 (অরিও) তে আপগ্রেড হবে বলে জানানো হয়েছে।

চিপসেট হিসেবে থাকছে কোয়ালকম এমএসএম৮৯৯৮ স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫। চিপসেট দেখে আশা করা যায় পারফর্মেন্স বেশ ভালোই হবে।

নতুন ফিচার

ওয়ান প্লাস ৫টি এর অসাধারণ কিছু ফিচারের মধ্যে একটি হচ্ছে ফেস আনলক ফিচার।

পরীক্ষায় দেখা যায় যে অন্যান্য ডিভাইসের সাথে তুলনা করলে ৫টি এর আনলক ফিচারটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কাজ করে, এক কথায় সুপার ফাস্ট যেটা খুবি ইম্প্রেশিভ। নিন্দুকেরা প্রশ্ন উঠাতে পারে যে সুপারফাস্ট কাজ করার পাশাপাশি কতটুকু নিরাপত্তা দিতে পারে।

তো সেক্ষেত্রে বেশ কিছু ছবি দিয়ে আনলক করার চেষ্টা করা হলে নিন্দুকদের কাঁচকলা দেখিয়ে লক খুলবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় ফিচারটি।

তবে এরপরও খুঁতখুঁতে কারো যদি এই ফিচারের নিরাপত্তা নিয়ে কোন আপত্তি থাকে  তাহলে তার জন্য রয়েছে আরো একটি চমৎকার ফিচার ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার। ওয়ান প্লাস বলছে এটিও ১-৫ সেকেন্ডের মধ্যেই আপনার হুকুম তামিল করবে।

ওয়ান প্লাস ৫টি এর অন্যতম আকর্ষণীয় ফিচার হল প্যারালাল অ্যাপস। এই অ্যাপস এর কাজ হল ক্লোন তৈরির মাধ্যমে একইসাথে মাল্টিপল একাউন্ট লগ ইন এর সুযোগ করে দেয়া।

প্যারালাল অ্যাপস তাদের জন্য খুব ইউজফুল যারা একসাথে ব্যক্তিগত ও পাবলিক একাউন্ট পরিচালনা করতে চান যেমন ইন্সট্রাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাট।

আরো একটি পরিবর্তিত সফটওয়্যার হল আপডেটেড রিডিং এবং গেমিং মোড। এই ফিচার যদিও ওয়ান প্লাস ৫ এ আগেও আমরা দেখেছি কিন্তু দারুন কিছু পারফর্মেন্স  উপহার দেয়ার জন্য কোম্পানি এর সাথে বিভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

রিডিং মোডে ডিভাইসটি সাদাকালো হয়ে যায় এবং টেক্সট উপযোগী ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে।

ব্যাটারি

ফোনটিতে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে ৩৩০০ এমএএইচ নন রিমুভেবল যা আমরা ওয়ান প্লাস ৫ এও দেখেছি। সত্যি বলতে ডিসপ্লের সাইজ এর কথা চিন্তা করে প্রথমে কিছুটা সন্দেহ হয়েছিল ব্যটারি লাইফ নিয়ে কিন্তু টেস্টে দেখা গেল এখানেও ওয়ান প্লাস ৫টি এর জয় হয়েছে, ফোনটি টানা সাড়ে পাঁচ ঘন্টা অন-স্ক্রিন থাকতে পেরেছে।

ওয়ান প্লাস ৩ (One Plus 3) রিভিউ – Product Review BD

 ওয়ান প্লাস -৫(One Plus-5) – Product Review BD

Comments

comments

Join the discussion

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।