কিভাবে একটি ভারী মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রন করবেন: সেরা ১০ টি টিপস

কিভাবে একটি ভারী মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রন করবেন: সেরা ১০ টি টিপস

যখন একটি হেভি মোটরসাইকেল চলতে থাকে, তখন এটি বড় মনে হয় না। কিন্তু যখন স্লো স্পীড বা টাইট স্পট এ হ্যান্ডেল করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।

আপনি কখনো কি দেখেছেন, কোন রাইডার ধীর গতিতে বড় হারলেইস ওব্লিং চালাচ্ছে কিংবা মাটিতে পা দিয়ে ইউ টার্ন করার চেষ্টা করছে? এরপর থমকে গিয়ে বাইক থেকে পড়তে?

আমি জানি, আমি এটা করেছি এবং অনেক জায়গায় এটা হতে দেখেছি। কিছু চালক রয়েছে, যাদের কোন সমস্যা হয় না। আপনি নিচের ভিডিওটিতে দেখবেন,  মোটরসাইকেল গেমস এ  বাইক রাইডিং।

 

কিভাবে হবেন একজন দক্ষ মোটর বাইক চালক

 

এসব করতে অনেক দক্ষতা ও অনুশীলন এর প্রয়োজন। কিন্তু কিছু বিষয় লক্ষ করলে আপনার কাছে খুব সহজ হয়ে উঠবে।

আমরা, আপনার জন্য সেরা ১০ টি টিপস নিয়ে এসেছি। যা আপনাকে একটি হেভি মোটরসাইকেল স্লো রাইডিং ও ম্যানইউভ্রিং করতে সাহায্য করবে।

১। পার্কিংঃ

যখন আপনি পার্ক করার জন্য জায়গা ঠিক করবেন, তখন সমান, স্মুথ, নন-স্লিপারি জায়গা নির্বাচন করুন। এতে আপনার বাইক এর ব্যালেন্স ঠিক থাকবে। উচুনিচু থাকলে আপনার বাইকটি অনেক হেভি মনে হবে। যখন বাইকটি সাইড স্ট্যান্ড এ দাড় করাবেন, তখন ডান দিকে বার ঘুরিয়ে লক করে দিন। এরপর নিচের ছবির মত ডান হ্যান্ডেল দুই হাত দিয়ে শক্ত করে ধরুন।

ব্রেক সহ ধরবেন। এখন খেয়াল করুন, হ্যান্ডেল বার সবদিকে ঘুরানো যায় কিনা এবং কতটুকু হেভি মনে হয়।

IMG_4729

মোটরবাইক নিয়ে রেল লাইন রোড ক্রসিং করবেন কীভাবে

২। স্মুথঃ

সবসময় স্মুথলি মোটরসাইকেল চালানোর চেষ্টা করবেন। এতে আপনি অনেক ফাস্ট রাইড করতে পারবেন ও ওজন থেকে নিরাপদ থাকতে পারবেন। একটি হেভি বাইক এর ক্ষেত্রে আপনাকে স্লো স্পীড এ স্টেডিয়ার হয়ে রাইড করতে হবে। সকল ব্রেক, থ্রোটল এবং স্টিয়ারিং যথাসম্ভব স্মুথলি এডজাস্টমেন্ট করবেন।

৩। হেড আপঃ

বাইক স্লোলি রাইড করার সময় কখনো নিচের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। বাইক ব্যালেন্স করতে অবশ্যই যেদিকে যাবেন সেদিকে তাকাবেন।

৪। ব্রেকঃ

স্লো স্পীড এর সময়, ফ্রন্ট ব্রেক থেকে বিরত থাকুন। নয়ত, কখনো পড়ে যাওয়া থেকে নিজে রক্ষা করতে পারবেন না। রেয়ার ব্রেক খুব স্মুথলি ব্যবহার করুন। এতে স্লো স্পীড এর মধ্যেও আপনি বাইক কন্ট্রোল করতে ও স্টেডি থাকতে পারবেন। বাইক ফুল স্টপ করতে আপনি ফ্রন্ট ব্রেক ব্যবহার করুন।

বাইক ফুল স্টপ করার জন্য আস্তে আস্তে রাইট ফুট ব্রেক ব্যবহার করুন এবং আপনার বাম পা মাটিতে রাখুন।

বৃষ্টির মধ্যে বাইক চালানোর নিয়ম কানুন

 

৫। ক্লাচ এবং থ্রোটলঃ

বর্তমান মডার্ন ইএফআই বাইক গুলোতে স্মুথ এক্সিলিরেশন করা খুব কঠিন। কিন্তু এগুলো খুবই ভাল। যাই হোক, আপনিও খুব স্মুথার করতে পারবেন, যদি আপনি সামান্য ক্লাচ ধরে এবং থ্রোটল স্টেডি ভাবে ধরে রাখতে পারেন। এটি অনেকটা অভার-রেভিং এর মত সাউন্ড করবে। কিন্তু আপনাকে অনেক স্মুথার করবে এবং অনেক বেশি কন্ট্রোল করতে পারবেন।

৬। পায়ের অবস্থানঃ

আপনি যদি একটি বড় বাইকে ক্লিন টার্ন নিয়ে থাকেন, তবে বুঝতেই পারছেন এটা কেমন কঠিন। প্রথমেই ক্লিন টার্ন নেওয়ার জন্য আপনার পা নিচে নামাতে হবে। তাই, ডান দিকে হলে ডান পা এবং বাম দিকে হলে বাম নামিয়ে টার্ন নিতে হবে।

এখন আপনিই ঠিক করুন কোন দিকে যেতে চান। এটি আপনার রাইডিং এর সাথে এডজাস্ট করবে। শুনতে অবাক লাগছে, কিন্তু একবার পরীক্ষা করে দেখুন, এটি কেমন কাজ করে।

IMG_4730

বাইক চালকদের জন্য এক্সপার্টদের ১০ টি নিরাপত্তা টিপস

৭। বাইক কাত করাঃ

কঠিন টার্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে স্টিয়ারিং ও কতটুকু কাত করবেন তার কম্বিনেশন এর উপর নির্ভর করে। অনেকেই মনে করেন, স্লোলি ড্রাইভ করতে স্টিয়ার কন্ট্রোল করতে হয়। এটা অবশ্য কঠিন যে, হেভি বাইক কাত করতে অনেক কষ্ট হয় এবং পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।

আপনি বাইক কাত করার পুর্বে আপনার পা সামনের দিকে নিচে নামিয়ে টার্নিং করুন।

৮। বেশি স্টিয়ার করবেন নাঃ

হয়ত অনেকেই দেখেছেন একজন বাইক চালক বড় একটি বাইক নিয়ে খালি রাস্তায় এদিক ওদিক করছে, ঠিক ভাবে কন্ট্রোল করতে পারছে না। এর মানে সে নার্ভাস এবং আনব্যালেন্সড। এজন্য প্রয়োজন ভালোভাবে ব্যালেন্স করার সেন্স।

এটি দীর্ঘশ্বাসও হতে পারে, নিজেকে ঠিক ভাবে তৈরী করুন, গাধার মত কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। এটা সম্পুর্ন আপনার মেন্টালি ব্যাপার।

৯। কনুই বাহিরে রাখুনঃ

বাইক চালানোর সময় আপনি আপনার কনুই শরীরের সাথে চাপিয়ে রাখলে আপনার অনেকটা কন্ট্রোল কমে যায়। সহজে, আপনি কনুই বাহির করে উপর দিকে রাখলে খুব ভালো ভাবে কন্ট্রোল করতে পারবেন।

যখন আপনি স্লো স্পীড এ টাইট টার্ন নিবেন, তখন যেদিকে টার্ন করবেন, তার বিপরীত কনুই দিক নির্দেশ করবে এবং আপনি টার্ন করার সময় ভালোভাবে কন্ট্রোল করতে পারবেন।

IMG_7758

বাইক হেলমেট কিনবেন কীভাবেঃ কোন সাইজের হেলমেট নির্বাচন করবেন ও এর যত্ন।

১০। সোজা বসে থাকুনঃ

অনেকটা ঠিক ভাবে বসে ব্যালেন্সড করার মত। এটি আপনাকে বাইক কাত করতে সাহায্য করবে। বাইক কাত সময় সোজা হয়ে বসে থাকুন এবং বাইক কে আপনার জন্য কাজ করতে দিন। বাইক যখন কাত হবে, তখন আপনার ব্যালেন্স ঠিক রাখুন। নিচের ছবির মত আপনি সোজা হয়ে বসে থেকে আপনার পায়ের মাধ্যমে ডিরেকশন ঠিক করুন।

IMG_4743

আরও পড়ুন

 

Comments

comments

Join the discussion

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।