কিভাবে সাইকেল চালাতে হয়ঃ সাইকেল চালানো শুরু করার টিপস

কিভাবে সাইকেল চালাতে হয়- সাইকেল চালানো শুরু করার টিপস

যারা কেবলমাত্র সাইকেল চালানো শুরু করেছে তাদের অনেকেই শিশু এবং তারা সবেমাত্র সাইকেল চালানো শিখছে, আবার অনেকে আছেন যারা বেশ বয়স্ক, কিন্তু এ ব্যাপারে তাদের জ্ঞান একজন শিশু থেকে বেশী। আবার অনেকে আছেন যারা অনেক বছর ধরে সাইকেল চালান না, কিন্তু আরেকবার চালানো শুরু করছেন।

এমন অনেকেই রয়েছেন যারা শুধুমাত্র চিত্তবিনোদনের জন্য মাঝেমধ্যে সাইকেল চালিয়ে থাকেন, কিন্তু এখন নিয়মিত সাইকেল চালাতে চান। আসলে সাইকেল চালানো অনেক অবস্থানে থেকেই শুরু করা যায়, অতএব আপনাকে এই লেখাগুলো পড়ে বুঝতে হবে সৃজনশীলতার সাহায্যে।

bike-size-to-buy

শিশু (এবং বয়স্ক) দের সাইকেল চালানো শেখার ধাপসমূহঃ

ভারসাম্য অনুভব করা-

কোন সাইজের বাইসাইকেল আপনার দরকার

এমন একটি সাইকেল নিন, যেটির সিট এমনভাবে নিচু করা যায় যেন চালক সিটে বসেও তাঁর দুই পা মাটিতে রাখতে পারে। যদি কোন প্রকার ট্রেনিং হুইল থাকে তাহলে সেগুলো খুলে ফেলুন। আপনি চাইলে প্যাডেলও খুলে ফেলতে পারেন, কিন্তু বেশিরভাগ নতুন চালক প্যাডেল লাগানো অবস্থায় ও শিখতে পারে।

……………….

এমন একটি মাঠ খুঁজুন যেখানে ঘাস রয়েছে এবং প্রায় ৩০ গজ এর মত মসৃণ ঢালু রাস্তা রয়েছে যা আবার পরে যেয়ে সমতল হয়ে যায়, বা সামান্য উপর দিকে ওঠে।

…………………

সাধারণত, সামান্য ঘাস রয়েছে এমন মাঠে চালানো ভাল। এর ফলে চাকায় বেশী বাঁধে না, এবং চালানোর সময়ে পড়ে গেলেও কোন ক্ষতি হয় না। ক্ষেত্রবিশেষে শক্ত যায়গাতেও চালাতে পারেন, কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে এটি যেন ঢালু না হয়ে একদমই সমতল হয়।

…………………..

একটি হেলমেট পরে নিন, ও জুতার ফিতা গুঁজে নিন। ফুল প্যান্ট পড়ুন ( রাবার দিয়ে বেঁধে রাখুন বা মোজার সাথে গুঁজে রাখুন) হাতে ভাল মানের গ্লাভস পড়ুন, ফলে আরও বেশী সুরক্ষা পাবেন।

………………

কোন একটি উঁচু স্থানে ১৫ গজ উপরে উঠুন, প্রয়োজন হলে চালক উঠার সময়ে সাইকেল ধরে রাখুন। তাঁর দুই পা মাটিতে নামানোর পরে সাইকেল টি ছেড়ে দিন, তাহলে পড়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকবে না। চালককে বাহবা দিন।

………………..

চালককে বলুন তাঁর পা মাটি থেকে এক বা দুই ইঞ্চি উপরে রেখে ঢালু স্থান দিয়ে নীচে নামতে বলুন এবং তাঁর পেছনে আপনিও নামতে থাকুন। এই কাজটি মূলত সাইকেলে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য করতে হবে।

…………………

চালক যাতে সোজা রেখে চালানো শিখতে পারে, এর জন্য আপনাকে সাইকেল হাত দিয়ে ধরা রাখা পরিহার করতে হবে। ঢাল থেকে নামার সময়ে সাইকেল ধীরে চলবে, এবং এ সময়ে তারা পড়ে যাওয়ার ভয় পেলে পা নামিয়ে ফেলতে পারবে।

………………..

চালক প্রথমে হয়ত কয়েকবার আপনাকে তাঁর পাশে থাকতে বলতে পারে চালানোর সময়ে, তাঁর পাশে থাকুন কিন্তু সাইকেল হাত দিয়ে ধরবেন না।

চালককে ভারসাম্য বুঝে উঠতে দিন।

প্রতিবার ভাল করায় তাকে বাহবা দিন। তারা কতক্ষন ভারসাম্য রাখতে পারে সে সময়ের দিকে খেয়াল রাখুন, কতক্ষন ভারসাম্য রাখা যায় তা দিয়ে খেলা বানাতে পারেন। আশা করা যায়, প্রতিবারে তারা আরও ভাল করতে শিখবে।

 WSD-Standard-Vert

পরামর্শ- এই কাজগুলো করার সময়ে যদি সাইকেল চালক তাঁর কনুঈ(এবং পা) সাইকেল এর কাছে রাখেন, তাহলে তারা আরো ভালভাবে ভারসাম্য বজায়ে রাখতে পারবে এবং বারবার দিক পাল্টাবে না।

 

মেয়েদের বাইক কেনার দিক নির্দেশনা

প্যাডেল লাগিয়ে নেয়া-

যদি প্যাডেল খোলা থাকে, তাহলে প্যাডেল আবার লাগিয়ে নিন (হাত দিয়ে প্যাডেল লাগিয়ে নিতে পারেন, যেন একটা আরেকটার জায়গায় না বসে, এটি বেশ সহজ কাজ) এখন চালককে বলুন প্যাডেল এ পা রেখে চালাতে।

প্রথমে শুধু এক প্যাডেল, এবং পরবর্তীতে দুই প্যাডেলে একত্রে। কয়েকবার এভাবে চালানোর পরে চালককে বলুন চলার সাথে প্যাডেলিং করা শুরু করতে।

যতক্ষন পর্যন্ত সাইকেল চালকের অভ্যাসে পরিণত না হয় তাকে দিয়ে প্যাডেলিং করাতে থাকুন, এরপরে আস্তে আস্তে বাড়াতে থাকুন। চালক যখন প্যাডেল করে চালানোর অভ্যাস করে ফেলবেন তখন তাকে বলুন পিঠ আগের চেয়ে সামান্য উঁচু রেখে আরো কয়েকবার প্যাডেলিং করে চালাতে।

আপনি কিছু জিনিস অনুশীলন করাতে পারেন চালক কে দিয়ে, যেখানে তারা সাধারনত যে সময়ে থামায়, তাঁর চেয়ে দ্রুত সাইকেল থামাবে।

 

সোজা সাইকেল চালানো-

একটি মাঠের সমতল স্থান বা একটি খালি, অব্যবহৃত পার্কিং লটে যান, সেখানে সোজা একটি লাইনে চালানো, বসে ভারসাম্য রাখা, থামানো ও ঘুরানোর চর্চা করতে পারবেন।

 বসে ভারসাম্য রাখা-

একটি প্যাডেল হাতলের দিকে মুখ করে রাখুন (ঘড়ির কাঁটার ২টার দিকে) এর ফলে চালক দৃঢ় ভাবে প্যাডেলে চাপ দিতে পারবে, যার ফলে সাইকেল সামনে এগিয়ে যাবে এবং যতক্ষন আরেক পা প্যাডেলের উপর না আসে ততক্ষন চালক ভারসাম্য রাখতে পারবেন।

বাচ্চারা সাধারণত সব কাজ খুব জলদি করতে চায়, তাই এক্ষেত্রে তারা সহজ উপায় খুঁজতে যেয়ে বেশ নড়বরে ভাবে চালানো শুরু করে। তাদের কে অভ্যাস করাতে হবে যেন তারা প্রতিবার ভাল ভাবে চালাতে পারে।

  সোজা চালানো-

নাক বরাবর সামনে তাকাতে হবে। হাতের কনুই ও পায়ের হাঁটু হাল্কা ভাবে রাখতে হবে এবং আস্তে আস্তে প্যাডেল ঘুরাতে হবে। নতুন চালক যখন তাঁর ঘাড় ডানে-বামে কাত করে, তাঁর হাত ও শরীরও সেদিকেই যায়। এর ফলে সাইকেল ও দিক পরিবর্তন করে।

  থামানো-

 দুই ব্রেক একসাথে চাপতে হবে (সাইকেলের সামনে ও পেছনে উভয় পাশে যদি ব্রেক থাকে) শুধুমাত্র সামনের ব্রেক চাপলে, পেছনের চাকা উঁচু হয়ে চালক পড়ে যেতে পারেন, আর শুধুমাত্র পেছনের চাকা ব্যবহার করার ফলে মাত্র ২০-৩০ থামানোর শক্তি কাজে লাগে, ফলে সাইকেল এর পেছনের চাকা পিছলে যেতে পারে।

 

কোন সাইজের বাইসাইকেল আপনার দরকার বিষয় সম্পর্কে এখানে জানতে পারবেন

দেখুন আপনার বাচ্চার পায়ের পাতা সমান ভাবে মাটিতে রাখতে পারে কিনা সাইকেলে বসা অবস্থায় ।

আরও লক্ষ্য করুন তার হাত হ্যান্ডেল বারে ব্রেক ঠিকমতো ধরতে পারে কিনা।

সাইকেল ঘোরানো-

  1. কোন চক্কর আসলে সাইকেল এর গতি কমিয়ে ফালতে হবে। সামান্য নুয়ে পড়া ও সামান্য হ্যান্ডেল চালিয়ে ঘোরাতে পারবেন সাইকেল। প্যাডেল উঁচু রাখুন এবং কর্নারের দিকে খেয়াল রাখুন। আস্তে আস্তে গতি বাড়াতে থাকুন।
  2. চালক যখন তাঁর আশেপাশে গাড়ী আছে এমন অবস্থায় যাও্যার জন্য প্রস্তুত হবেন তখন তাকে আশেপাশের গাড়ীর দিকে খেয়াল রেখে চালাতে হবে, এর ফলে চালক রাস্তায় হঠাৎ পড়ে যাওয়া, গতি পরিবর্তন হওয়া, রোডের ভুল পাশ দিয়ে চালানো থেকে বিরত রাখে।

সাইকেল চলানো-

  1. শিশু রা সাইকেল চালানো শিখে ফেললে তারা চাইবে সাইকেল চালিয়ে দূরে ঘুরতে যেতে, সেক্ষেত্রে আপনার উচিৎ হবে ব্যাপার টা তাদের কাছে আকর্ষনীয় করে তোলা, হাল্কা খাবার নিয়ে আসুন, বিশ্রামের সময়কাল নির্ধারন করুন (প্রতি ১ মাইল পর পর), মজার কিছু করার জন্য যাত্রাবিরতি রাখুন (যেমন- খেলার জন্য, গল্প করার জন্য) এবং সাথে আপনার বাচ্চার বন্ধুদেরও আমন্ত্রন করতে পারেন।
  2. এবং সাইকেল চালানোর সময়ে সুরক্ষার দিকে নজর রাখুন। কারণ এ ব্যাপারটির দিকে সবচেয়ে বেশী খেয়াল রাখা উচিৎ।
  3. মনে রাখবেন, সাইকেল চালাতে যেয়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত দের মধ্যে সবচেয়ে বেশী হয়ে থাকে ১০-১৪ বছর বয়সী রা। এ কারণে হেলমেট একটি অত্যাবশ্যক জিনিস।

 

সাইকেল চালানোর সাধারণ ভুল-ভ্রান্তি ও কিছু টিপস-

নতুন সাইকেল দিয়ে কখনও চালানো শেখা উচিৎ নয়। এর ফলে আপনার নতুন সাইকেল এর প্রতি টান কমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে এমন একটি সাইকেল ব্যবহার করা উচিৎ, যা চালক পূর্বে দেখেছে (ট্রেইনিং হুইল সহ অথবা চালকের বড় ভাইয়ের) বা তাঁর কোন ভাইয়ের।

এর ফলে চালকের কাছে মনে হবে নতুন সাইকেল টি তাঁর জন্য একটি উপহার কারণ, সে সাইকেল চালানো শিখে ফেলেছে। চালকের যদি একান্তই নতুন সাইকেল চালানোর প্রয়োজন হয়ে থাকে তাহলে সাইকেলে ট্রেইনিং হুইল লাগিয়ে নিন, এবং অভ্যস্ত হয়ে গেলে খুলে ফেলুন।

কখনও একটি ট্রেইনিং হুইল দিয়ে চালককে চালানো শিখাবেন না। কারণ, এর ফলে ভারসাম্য বজায় রাখা শিখতে পারা যায় না এবং এটি অস্থায়ী হওয়ায় চালাতে সমস্যা হয়।

আপনি যদি বাচ্চাকে সাইকেল চালনো শেখানোর সময়ে ধরে রাখার বা পাশে থেকে চালানোর পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন, তবে কখনও না ধরে থাকা অবস্থায় বা পাশে না থেকেও বলবেন না যে আপনি ধরে আছেন।

কারণ, যদি আপনার বাচ্চা চালানোর সময় পড়ে যায়, এতে তার আত্মবিশ্বাস ও আপনার প্রতি ভরসা কমে যায়। আপনি তার সাথে দৌড়ে চলার আগে তাকে জানিয়ে নিন যে, যখন আপনি দেখবেন সে নিজ থেকে ভারসাম্য রাখতে পারছে তখন আপনি তাঁর সাইকেল ছেড়ে দিবেন।

একই ভাবে এই পদ্ধতি সাইকেল চালাতে অনুসরণ করতে থাকুন যতদিন পর্যন্ত তারা এটি সম্পূর্ণভাবে আয়ত্তে না আনতে পারছে।

ভাববেন না যে, এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে কখনও সে সাইকেল থেকে পড়ে যাবে না, আপনার তাকে সবসময় সাহস যোগানোর জন্য, উৎসাহিত করার জন্য ও ব্যান্ডেজ লাগানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে যেন আগামী দিনে সে আবারও সাইকেল চালাতে পারে।

ক্যামেলিয়া দুরন্ত বাইসাইকেল ২০ ইঞ্চি -রিভিউ: rfl সাইকেল 

সাইকেল price:

সাইকেলের উচ্চতা নির্ধারিত হয় এর চাকার মাপে।

 চীনের ফনিক্স সিঙ্গেল বার ২৮ ইঞ্চির সাইকেলের দাম ৫০৫০-৬২৫০, ভারতের হিরো জেড ২৮ ইঞ্চি ৪৩০০-৪৪০০,

 ভারতের হিরো রয়েল ২৮ ইঞ্চি ৪৪০০-৪৫০০ ,

চীনের রেঞ্জার ম্যাক্স ২৬ ইঞ্চি সাইকেলের দাম ৪৫০০ টাকা।

 হিরো জেড মাস্টার সাইকেলের দাম  ২৬ ইঞ্চি ৪৪০০ টাকা। আবার ফনিক্স বাংলাদেশি ২৮ ইঞ্চি সিঙ্গেল বার ও ডাবল বার যন্ত্রাংশভেদে দাম ৩৬০০-৪০০০ টাকা।

 

Comments

comments

Join the discussion

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।