গাড়ির ১০টি টায়ার ও ব্রেক সমস্যাঃ গাড়ীচালকদের জন্য

গাড়ির ১০টি টায়ার ও ব্রেক সমস্যাঃ গাড়ীচালকদের জন্য

10-tyre-and-break-problems-for-car-driver-3

যেকোনো গাড়ী বা মোটরসাইকেল এর ড্রাইভারের নিরাপত্তা নির্ভর করে নির্ভরযোগ্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ মন্দনের উপর অথবা গাড়ির টায়ার ও ব্রেকের উপর। আপনার গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে এই দুইটি জিনিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত গাড়ির ক্ষেত্রে, সময়ের সাথে সাথে টায়ার ও ব্রেকের কার্যক্ষমতা আগের চেয়ে কমতে থাকে। যার ফলে নিরাপত্তারও ভয় থাকে। যেকোনো বিপদজনক মুহূর্ত এড়িয়ে চলতে হলে নিয়মিত গাড়ীর টায়ার ও ব্রেকের অবস্থা লক্ষ্য রাখতে হবে।

১। কম স্ফীত এবং অধিক স্ফীত টায়ারঃ

গাড়ির চাকা একটি নির্দিষ্ট বায়ুচাপে সর্বোত্তম কাজ করে। এই বায়ুচাপের পরিমাণ কম বা বেশি থাকা ভালো নয়। কম স্ফীত গাড়ির চাকা ঘূর্ণন প্রতিরোধ বৃদ্ধি করে, জ্বালানী অপচয় করে, এছাড়াও এর কর্মক্ষমতা খুব কম থাকে। আবার চাকার অতিরিক্ত স্ফীতি গাড়ির চলাচলকে সঙ্কুচিত করে এবং স্থায়িত্ব কমিয়ে আনে। বেশি স্ফীত চাকা পাংচার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি যেহেতু এসব চাকা অনুন্নত রাস্তায় ভালো চলতে পারে না। এটি প্রায় অসম্ভব যে একটি চাকা সবদিকে সমান চাপ প্রাপ্ত হয়।

২। অমসৃণ টায়ারঃ

সবকিছুর সঠিকভাবে স্থাপনের পর আপনার গাড়ির চাকার বহিরাবরণটিও সঠিক হওয়া উচিত। একটি যদি অন্যটি থেকে ভিন্ন হয় তবে তা একটি সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। এতে করে চাকার নিজস্ব সমস্যা যেমন স্ফীতি সমস্যা অথবা বেল্টের সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও চাকার ভুল প্রান্তিককরণ হতে পারে। অবশ্যই অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে চাকার এই মসৃণতা পরীক্ষা করানো উচিত।

৩। টায়ারের কম গভীরতা সম্পন্ন খাঁজঃ

গাড়ীতে চাকার খাঁজ চাকার কার্যক্ষমতা বাড়ায়, পানি বা অন্য যেকোনো ধ্বংসাবশেষ এর মধ্যে চলতে সহায়তা করে। আপনি যদি নিজে আপনার গাড়ির চাকার খাঁজ গভীরতা পরীক্ষা করতে চান তবে তা খুবই সহজ। এর জন্য আপনাকে একটি মুদ্রা বা পয়সা নিতে হবে এবং চাকার মধ্যবর্তী খাঁজ বরাবর মুদ্রাটি রেখে দেখতে হবে। যদি আপনি মুদ্রাটির উপরের বেশিরভাগ অংশ দেখতে পান তবে আপনার গাড়ীর চাকাটি পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

৪। টায়ারের বহিরাবরণে ক্ষুদ্র ভগ্নদশা বা বুদবুদঃ

রাস্তার অনুন্নত অবস্থার জন্য আপনার গাড়ীর চাকার বহিরাবরণে বুদবুদের মত সৃষ্টি হতে পারে। এই অবস্থা তখন হয় যখন ভিতরের অংশে ভগ্নদশা সৃষ্টি হয় অথবা বায়ু লিক করে। এই স্ফীত দূর্বল জায়গাটি যেকোনো সময় ফেটে যেতে পারে, তাই চাকা দ্রুত পরিবর্তন করাই নিরাপদ।

৫। টায়ার পাংচারঃ

যেকোনো ধরনের ধারালো বস্তু যেমন – পেরেক, স্ক্রু, কাঠ বা ধাতু চাকায় আটকে যেয়ে চাকা পাংচার হতে পারে। আপনি একটি প্লাগ বা প্যাচ ব্যবহার করে এই পাংচারের পরিমাণ ১/৪ অংশ হলে তা সারানো সম্ভব।

10-tyre-and-break-problems-for-car-driver-2

৬। ব্রেক নষ্টঃ

গাড়ির সবচেয়ে বড় সমস্যা ব্রেক নষ্ট হওয়া। এই সমস্যার মানে একটি ব্রেক প্যাড ব্রেক রটার স্পর্শ করছে যা বিপদজনক। আপনার গাড়ীর ব্রেকটি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। গতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন ব্রেক প্যাড লাগানো আবশ্যক।

৭। স্পন্দিত প্যাডেলঃ

আপনার গাড়ির প্যাডেলে স্পন্দন থাকলে আপনার ব্রেকে সমস্যা হতে পারে। সাধারণত ব্রেক রটার অত্যাধিক গরম হয়ে গেলে ব্রেক প্যাডেলে স্পন্দন সৃষ্টি হতে পারে। নতুন রটার স্থাপনের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।

৮। ব্রেকে বাধাদানঃ

গাড়ির দিক স্টিয়ারিং হুইল দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। ব্রেক লাইন আটকে গেলে অথবা তাতে ক্যালিপার আটকে গেলে ব্রেক পাম্প করলে গাড়িতে ডান বা বাম দিকে টান পড়তে পারে। যার ফলে ব্রেক করা হলে গাড়ির দিক পরিবর্তন হয়ে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

৯। প্যাডেলের স্পঞ্জ অবস্থা

যদি আপনার গাড়ীর ব্রেক প্যাডেলে স্পঞ্জের মত অনুভূতি হয় অথবা কম ধাক্কা পায়, তবে আপনার গাড়ীর ব্রেক প্যাডেলে লিক থাকতে পারে। এতে করে ভিতরে বাতাস অথবা পানি যাওয়া সম্ভাবনা থাকে।

১০। নষ্ট ব্রেক লাইট

মাঝে মাঝে ব্রেক ঠিক মত কাজ করলেও এর মধ্যে সমস্যা থাকতে পারে। ব্রেক লাইট নষ্ট থাকা একটি বড় সমস্যা। গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে এই নষ্ট ব্রেক লাইটের জন্য ড্রাইভার সমস্যায় পরতে পারে। তাই মাঝে মাঝে ব্রেক লাইট বাল্ব পরীক্ষা করা উচিত।

 

আরও দেখুনঃ

Comments

comments

Join the discussion

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।