চুলের বৃদ্ধিতে বা সমস্যায় ঘরোয়া সমাধান-part-2

চুল পড়ে যাওয়া আপনাকে আপনার বয়সের আগেই বুড়ো করে ফেলবে। কিন্তু আমাদের এই ব্যস্ত আর জীবন জাবনের চাপ এর কারনে চুল পড়া উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে গেছে। কিন্তু এই সমস্যা রোধে আমাদের ঘরোয়া উপায়ে সমাধান খুজতে হবে -রাসায়নিক উপাদান যুক্ত ট্রিটমেন্ট না নিয়ে।

আর কেনইবা আমরা সেসব করব না কারণ এসব কিছুই আমারা আমাদের রান্নাঘরেই পাব। কিন্তু আপনাকে  অপেক্ষা করতে হবে। এগুলি করতে সময় লাগবে আর কেনইবা আপনি আপনার রূপচর্চার সময়টুকু  এই ব্যস্ত জীবন থেকে বের করবেন না-যা আপনার সুন্দর থাকা নিয়ে কথা।

তো আসুন আমরা চুল বৃদ্ধির বা নুতন চুল গজানোর ঘরোয়া উপায় নিয়ে কথা বলি

আগের পর্বে  চুল পড়ে যাচ্ছে তাহলে পার্লারে নয় রান্নাঘরে চলুন

৪) মেথি 

আপনার কি লাগবে –

     ১) ১ চা চামচ মেথি পেস্ট

     ২) ২ চা চামচ নারকেলের দুধ

আপনাকে কি করতে হবে

১) মেথি পেস্ট আর নারকেল দুধ ভালোভাবে মেশান।

২)এই মাস্ক চুলে আর মাথার ত্বকে ভাল ভাবে লাগান আর ৩০ মিনিট রাখুন।

৪)ডাণ্ডা পানি দিয়ে প্রথমে ধুয়ে ফেলুন এরপর চুলে শ্যাম্পু করুন।

 

কতদিন অন্তর অন্তর আপনাকে এটা করতে হবে –

      ১৫ দিনে একবার এই পেস্ট মাথায় লাগান।

এটি কেন ভাল কাজ দেয়

মেথি দুই রকম ভাবে কাজ করে- এটি চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে- আর চুলের প্রাকৃতিক রঙ ধরে রাখে।

৫) গোল আলুর রস

আপনার কি লাগবে –

     ১) ১ টি গোল আলু

আপনাকে কি করতে হবে

১) আলুর খোসা ফেলে এটিকে ব্লেন্ড করে রস বের করুন।

২)এই রস চুলে আর মাথার ত্বকে ভাল ভাবে লাগান আর ১৫ মিনিট রাখুন।

৪)এরপর চুলে শ্যাম্পু করুন।

 

কতদিন অন্তর অন্তর আপনাকে এটা করতে হবে –

      আপনি যখন মাথায় শ্যাম্পু করবেন তখন এই রস লাগাতে পারেন। 

এটি কেন ভাল কাজ দেয়

অনেক মানুষই গোলআলুর রসের মধ্যে যে চুল বৃদ্ধির উপাদান আছে তা জানে না। গোল আলু ভিটামিন এ, বি আর সি সমৃদ্ধ। এগুলি শরীর আর চুলের জন্য খুব দরকারী। আপনার চুল যদি পড়ে যেতে থাকে তাহলেও আপনি এই গোল আলুর রস ব্যবহার করতে পারেন যা অনেক উপকার দেবে আপনার চুলে।

৬) মেহেদী

আপনার কি লাগবে –

     ১) এক কাপ শুকনো মেহেদী

     ২) এক কাপ টক দই।

আপনাকে কি করতে হবে

১)শুকনো মেহেদির গুড়া আর টক দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।

২)এই মাস্ক চুলের গোঁড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগান।

৩) এটি না শুঁকানো পর্যন্ত চুলে রাখুন।

৪)এরপর চুলে শ্যাম্পু করুন।

কতদিন অন্তর অন্তর আপনাকে এটা করতে হবে –

      মাসে একবার এই পেস্ট মাথায় লাগান।

এটি কেন ভাল কাজ দেয়

মেহেদী একটি প্রাকৃতিক কন্ডিশানার যা আপনার রুক্ষ প্রাণহীন চুলে মসৃণতা আর উজ্জলতা ফিরিয়ে আনে। এটি চুলের রঙ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। আপনার চুলের গোঁড়াকে শক্ত করে আপনার চুলের বৃদ্ধিকে তরান্বিত করে।

৭) গোল মরিচ

আপনার কি লাগবে –

     ১) ১ চা চামচ গোল মরিচের গুড়া

     ২) ২ চা চামচ অলিভ ওয়েল

 

আপনাকে কি করতে হবে

১) গোল মরিচের গুড়া আর অলিভে ওয়েল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।

২)এই পেস্ট চুলে আর মাথার ত্বকে ভালভাবে লাগান । যেখানে চুল বেশী পড়ে যাচ্ছে সেখানে বেশী লাগান। আর ৩০ মিনিট রাখুন।

৪)ডাণ্ডা পানি দিয়ে এরপর চুল ধুয়ে ফেলুন।

 

কতদিন অন্তর অন্তর আপনাকে এটা করতে হবে –

     মাসে  একবার এই উপায় অবলম্বন করতে পারেন।

এটি কেন  কার্যকরী  

গোল মরিচের গুড়া চুলের বৃদ্ধি ঘটায় আর চুল পড়া রোধ করে। গোল মরিচে আছে কাপ্সিনাইন যা নুতন চুল গজানোর জন্য দরকারী। মরিচের গুড়া যখন আপনি আপনার মাথায় দেবেন এটি মাথার স্নায়ুতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে এবং চুলে পুষ্টি শোসন করে চুলের বৃদ্ধি ঘটায়।

৮) নারকেলের দুধ

আপনার কি লাগবে –    

     নারকেলের দুধ

আপনাকে কি করতে হবে

১)নারকেল থেকে দুধ বের করে চুলে আর মাথার ত্বকে ভাল ভাবে লাগান আর সারারাত এটি মাথায় রাখুন।

২)ডাণ্ডা পানি দিয়ে প্রথমে ধুয়ে ফেলুন এরপর চুলে শ্যাম্পু করুন।

কতদিন অন্তর অন্তর আপনাকে এটা করতে হবে –

     আপনি যখন মাথায় শ্যাম্পু করবেন তার আগের দিন রাতেই এটি করতে পারেন।

 

এটি কেন  কার্যকরী 

নারকেলের দুধ প্রোটিন, আয়রন আর অন্যান্য পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ যা চুলের বৃদ্ধিতে দারুণ কার্যকর।

৯) গ্রিন টি

আপনার কি লাগবে –

     গ্রিন টি

আপনাকে কি করতে হবে

১)কুসুম গরম গ্রিন টি চুলে আর মাথার ত্বকে ভালভাবে লাগান আর ১ ঘণ্টা এটি মাথায় রাখুন।

২)ডাণ্ডা পানি দিয়ে প্রথমে ধুয়ে ফেলুন।

কতদিন অন্তর অন্তর আপনাকে এটা করতে হবে –

     আপনি যখন মাথায় শ্যাম্পু করবেন তার আগে এটি করতে পারেন।

এটি কেন  কার্যকরী 

     গ্রিন টিতে এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা চুল পড়া রোধ করে  চুলের বৃদ্ধি দ্রুততর করে।

১০) নারকেল তেল

আপনার কি লাগবে –    

     নারকেলের তেল

আপনাকে কি করতে হবে

১)নারকেল তেল চুলে আর মাথার ত্বকে ভালভাবে লাগান আর সারারাত এটি মাথায় রাখুন।

২)পরদিন সকালে চুলে শ্যাম্পু করুন।

কতদিন অন্তর অন্তর আপনাকে এটা করতে হবে –

     আপনি যখন মাথায় শ্যাম্পু করবেন তার আগের দিন রাতেই এটি করতে পারেন।

এটি কেন  কার্যকরী 

এটি সবচেয়ে ভাল প্রাকৃতিক কন্ডিশানার। যুগ যুগ ধরে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।  নারকেলের তেল পটাসিয়াম সমৃদ্ধ যা মাথার ত্বক সাস্থ্যময় রাখে, নুতন চুল গজাতে সাহায্য করে আর নষ্ট হয়ে যাওয়া চুল পুনরুজ্জিবিত করে তোলে। এটি খুসকি দূর করে, চুলের আগা ভেঙ্গে যাওয়া কমায় আর চুল পড়া রোধ করে।

১১) জিরা

আপনার কি লাগবে

     ১) ১ চা চামচ জিরা

     ২) ১/২ ক্যাপ অলিভ ওয়েল বা ক্যাস্টর ওয়েল

আপনাকে কি করতে হবে

১)অলিভ ওয়েল বা ক্যাস্টর ওয়েল  এ সারারাত জিরা ভিজিয়ে রাখুন।

২) পরদিন সকালে এটি পেস্ট মাথায় লাগান আর ১৫ মিনিট এটি মাথায় রাখুন।

২)এরপর চুলে শ্যাম্পু করুন।

কতদিন অন্তর অন্তর আপনাকে এটা করতে হবে –

     আপনি যখন মাথায় শ্যাম্পু করবেন তার আগে এটি করতে পারেন।

কেন এটি কার্যকরী

     জিরাতে অনেক পুষ্টি উপাদান আছে যা চুলকে ঝলমলে করতে আর সাস্থ্যময় করতে ভীষণ কার্যকরী ।

১২) গোল মরিচের বীজ

আপনার কি লাগবে

     ১) ২ চা চামচ গোল মরিচের গুড়া

     ২) ১/২ ক্যাপ লেবুর রস

আপনাকে কি করতে হবে

১) গল্মরিচের বীজ আর লেবুর রস মিশিয়ে ব্লন্ড করে খুব মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন।

২) চুলের গোঁড়ায় এই পেস্ট লাগান।

৩) মাথাকে একটি হালকা গরম তোয়ালে দিয়ে ডেকে রাখুন।

৪) আধ ঘণ্টা পড়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

কতদিন অন্তর অন্তর আপনাকে এটা করতে হবে –

     ১৫ দিন পর পর আপনি এটি মাথায় লাগাতে পারেন ভাল ফলাফলের জন্য।

এটি কেন কার্যকরী

 

কাল গোল মরিচের বীজ একটি আয়ুর্বেদিক যা আপনার চুল নরম করে তোলে আর চুল এর গুনগত মাণ বাড়ায় ।

১৩) জবা ফুল

আপনার কি লাগবে

     ১) ২ টি জবা ফুল

     ২) ২ চা চামচ নারকেল তেল বা তিলের তেল

আপনাকে কি করতে হবে

     ১) তিলের তেল বা নারকেল তেলের সাথে জবা ফুলের পেস্ট তৈরি করুন।

     ২) চুলে সমান ভাবে এটি লাগান।

     ৩) কিছুক্ষন পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কত দিন অন্তর অন্তর এটি ব্যাবহার করতে হবে

যখনই আপনি চুল শ্যাম্পু করবেন তার আগেই এটি ব্যবহার করতে পারেন।

কেন এটি ভাল কাজ করে

     জবাকে চুলের যত্নের ফুল বলা হয়। এটি খুসকি দূর করতে আর চুল বাড়াতে কার্যকর।

১৪) আমলকী

আপনার কি লাগবে

     ১) ২ চা চামচ আমলকী পাউডার বা রস

     ২) ২ চা চামচ লেবুর রস

আপনাকে কি করতে হবে

     ১) লেবুর রসের সাথে আমলকির পাউডার বা রস মিশিয়ে নিন।

     ২) এই মিক্সার মাথার ত্বকে, চুলের গোঁড়ায় ভালভাবে লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

     ৩) হালকা গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

 

কতদিন অন্তর অন্তর এটি করবেন

     মাসে একবার আপনি এই মিক্সার চুলে লাগালে পারেন। চুল উজ্জ্বল আর শাইনি হয়ে উঠবে।

এটি কেন ভাল কাজ করে

     আমলকীতে শক্তিশালি এন্টিঅক্সিড ন্ট আছে আর রয়েছে ভিটামিন সি। তাই এটি চুলের বৃদ্ধিতে কার্যকর ।

১৫) রসুন

আপনার কি লাগবে

     ১) ২ কোয়া রসুন

     ২) ১ ক্যাপ অলিভ ওয়েল বা নারকেল তেল

আপনাকে কি করতে হবে

     ১) ক্রাস রসুন অলিভ ওয়েল বা নারকেল এর সাথে সিদ্ধ করুন।

     ২) এই তেল চুলের গোঁড়ায় গোঁড়ায় লাগান।

     ৩)  চুল ভাল ভাবে শ্যাম্পু করুন।

কত দিন অন্তর অন্তর আপনাকে এটা করতে হবে

     ভাল ফলাফলের জন্য সপ্তাহে ৩ বার এটি ট্রাই করুন।

কেন এটি ভাল কাজ করে

     চুল পড়া রোধে রসুন বহুল ব্যবহৃত একটি উপাদান যা চুল নুতন জন্মাতে ও মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে।

Coming soon  3rd part

 

Comments

comments

Join the discussion

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।