চুল পড়া রোধে ২০টি ঘরোয়া প্রতিরোধ ও টিপস -প্রথম পর্ব

চুল পড়া রোধে ২০টি ঘরোয়া প্রতিরোধ ও টিপস   (প্রথম পর্ব)

চুল পড়া আজকের দিনে খুব সাধারণ সমস্যা সবার। কিন্তু, আপনি জানেন কি আমাদের অজ্ঞতার জন্য আমরা জানি না খুব সাধারণ কিন্তু ঘরোয়া কিছু প্রতিরোধের উপায় যার মাধ্যমে আমরা চুল পড়ার সমাধান করতে পারি।

নারী পুরুষ সবার জন্যই চুল পড়া সমস্যা। যদিও চুল পড়ার ক্ষেত্রে আপনার বংশগত জিন একটি বিশেষ ভুমিকা পালন করে। কিন্তু এর বাইরেও অনেক কারণ রয়েছে।চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে প্রতিটা পর্বে আলোচনা করব।

চুল পড়ার কারণ

চুল পড়া অনেক বিষয়ের কারণে সৃষ্ট হয় । যেমন-

১. দুশিন্তা

দুশিন্তা এখনকার জন্য সবার কাছে একটি সাধারণ ব্যাধি। এটি স্বাস্থ্যের স্বল্প জ্বর হতে শুরু করে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক মানুষের চুল পড়ার কারণ হল দুশিন্তা।

২. বংশগত কারণ

বংশগত কারণে চুল পড়ে, তা টাক রোগ বা এলোপেশিয়া নামে পরিচিত। আমেরিকা একাডেমীর চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, এটাই চুল পড়ার প্রচলিত কারণ। এই সমস্যাটি আপনার  মা অথবা বাবার থেকে জন্মসূত্রে থাকতে পারে। যদি আপনার মা বাবা এই সমস্যার ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন, তবে আপনি ও এই সমস্যার সম্মুখীন হবে।

৩. হরমোনের অসামঞ্জ্যতা

হরমোনের অসামঞ্জ্যতার কারণ হল রজোবন্ধ, গর্ভ অবস্তাই, থাইরয়েড গ্রন্থির ত্রুটি যার ফলে চুল পড়ে।

৪. অস্বাস্থ্যকর খাদ্য

অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের ফলে দেহ পুষ্টির অভাব দেখা দেয়, ফলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়ই। অপুষ্টির কারণে চুল পড়ে ও টাক ভাব দেখা দেয়। আহার ব্যাধির কারণে চুল পড়ার প্রবণতা অধিক বেড়ে যায়।

৫. স্ট্র্যেইট এবং কার্ল করা বা রাসায়নিক চিকিৎসা

আপনার চুলকে আরো দুর্বল করে ফেলে স্ট্র্যেইট এবং কার্ল করা রাসায়নিক চিকিত্সা। যা পার্লারে অফার করে যেমন চুল স্ট্র্যেইট এবং কার্ল করা। চুল পড়া আরো বৃদ্ধি পায় যখন ব্লো ড্রাই ঘন ঘন করা  হয় ।

৬. সোরিয়াসি

খুশকির এখন সহজ চিকিৎসা আছে। যদি তা গুরত্ব দেওয়া না হয়, তবে তা আঁশযুক্ত ঘা হয়ে যায় যা সোরায়সিস নামে পরিচিত । এই দীর্ঘমেয়াদী চর্মরোগ তখনই হয় যখন চর্মের কোষগুলো দ্রুত বাড়তে থাকে,চর্মে পুরু, সাদা, রূপালী অথবা লাল ঘা হয়।

৭. প্রোটিনের  ঘাটতি

আমাদের চুল গঠনকারী প্রোটিনের নাম হলো কেরাটিন। খাদ্যে এই প্রোটিনের অভাবে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে চুল শুষ্ক এবং সহজে ভেঙ্গে যায়। এটা থাইরয়েড সমস্যার একটা উপসর্গ, এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে কক্ষনোই চুল পড়া বন্ধের ঔষধ সেবন করা উচিত না, পরামর্শ ছাড়া।

৮. আয়রনের ঘাটতি অথবা রক্তাল্পতা

রক্তাল্পতা সেইসব মহিলাদের মধ্যে দেখা গেছে যারা আয়রন সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করেনা। রক্তে লোহিত রক্ত কণিকার পরিমান কমে গেলে এটা হয়ে থাকে। এই কণিকাগুলো আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন বহন করে যা আমাদের শক্তি যোগায়।

রক্তাল্পতা চুল পড়ার বড় কারণ, কারন চুলের গোড়ায় যথেস্ট পরিমান রক্ত প্রবাহ হয় না।

মেয়েদের চুল পড়ার অন্যান্য কারনগুলো হল, পক্বতা, ভিটামিন বি ৬ ও ফলিক এসিডের অভাব, অতিরিক্ত স্টাইলিং এবং থাইরয়েড ।

এবার আসুন জেনে নিই চুল গজানোর সহজ উপায়ঃ ঘরোয়া প্রতিরোধ এর উপায় –

  1. নারকেল তেল
  2. এলভেরা
  3. নিম
  4. আমলকী
  5. ত্বক দই
  6. মেথি
  7. যষ্টিমধু শিকড় 
  8. বিট রুট
  9. পিয়াজের রস
  10. জবা ফুল
  11. গ্রিন টি
  12. নারকেল তেল মাসাজ
  13. ডিমের সাদা অংশ
  14. গোল আলু
  15. লেবুর রস
  16. ধনে পাতার রস
  17. মেহেদী
  18. কারী পাতা
  19. মধু , অলিভ ওয়েল ও দারুচিনি
  20. এলভেরা , আমলকী, সিকাকাই, নিম পাউডার

Comments

comments

Join the discussion

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।