মোটর সাইকেলের মাইলেজ পাওয়ার 10 টি কার্যকরী টিপস

মোটরসাইকেলের  মাইলেজ পাওয়ার ১০ টি কার্যকরী টিপস


এক একটি মোটরসাইকেলের মাইলেজ একেক রকম। তবু একটি বাইক কতটা মাইলেজ দেবে তা নির্ভর করে বাইকটির মালিক বাইকটির যত্ন, সময় মত সার্ভিসিং ও টিউনিং করান কিনা তার উপর। মোটরসাইকেলের মাইলেজ বেশী হলে বাইকটির রানিং খরচ অনেক কম হয়।

কীভাবে মোটরসাইকেলের  মাইলেজ বাড়ানো যায়?

মাইলেজ বৃদ্ধি কারার আগে আপনাকে জানতে হবে মাইলেজ কেন কমে সেই বিষয়টি। কেন মোটরসাইকেল প্রত্যাশিত মাইলেজ দিচ্ছেনা?

নতুন বাইক কেনার পরে বেশ কিছুদিন অপেক্ষাকৃত কম মাইলেজ পাওয়া যায় এটা স্বাভাবিক ব্যপার।

বিঃ দ্রঃ বাইকটি কেনার পর ১০০০ -১৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চালানোর পরে যতক্ষণ না দু’তিনবার সার্ভিস করানো হয়, ততক্ষণ সচরাচর মাইলেজ বাড়ে না।

 

১: নিয়মিত আপনার মোটরসাইকেলের চাকা  পরীক্ষা করে দেখবেন যে চাকাগুলি সহজভাবে ঘুরছে কিনা। চাকা জ্যাম হয়ে যাওয়ার একটি সাধারণ  কারণ হল ব্রেক খুব বেশি টাইট হয়ে যাওয়া ।

এছাড়া, চাকার বেয়ারিং ভেংগে বা নষ্ট হয়ে গেলেও আপনার মোটর সাইকেলের চাকা জ্যাম হতে পারে। চাকার জ্যামের কারনে চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিনে বেশী চাপ পরে যার ফলশ্রুতিতে আপনার বাইকের মাইলেজ কমে যেতে পারে।

চাকার জ্যামকে কখনই অবহেলা করবেন না। সময়মতো ব্যবস্থা নিন । কারণ অতিরিক্ত টাইট থাকার জন্য যেকোন সময় নাটটি গোঁড়া থেকে ভেঙ্গে যেতে পারে আর যার ফলে আপনি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন ।

২:নাজুক পিস্টন-রিং আপনার মাইলেজ কমিয়ে দিতে পারে। পিস্টন-রিং দুর্বল হলে ওয়েল পিস্টন চেম্বারে প্রবেশ করে আর পেট্রলের দাহ্যতা  কমিয়ে দিয়ে মাইলেজ কমিয়ে দেয় অনিবার্যভাবে।

৩: চাকার জ্যাম হওয়ার  আরেক টি প্রধান কারণ হল চেইন অতিমাত্রায় টাইট থাকা । চেইনে যদি  ধুলাবালুর কারনে ময়লা দেখা দেয় আর নিয়মিত লুব্রিকেন্ট করা না হয় তবে আপনার আখাংকিত মাইলেজ কমে যেতে পারে । ম্যানুয়াল  দেখে যথাযথ ভাবে চেইনটিকে টাইট করুন।

বিঃ দ্রঃ  স্প্রোকে দ্রুত ক্ষয় হবে যদি আপনার চেইনটি অতি মাত্রায় টাইট থাকে আর এর ফলে চলন্ত অবস্থায় চেইন ছিড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে অনায়সেই।

৪: মেকানিক দের ভাষায় যাকে বলে টেপিটমিলানো  যার মানে হল  ভালভ ক্লিয়ারেন্স যা  আপনার মোটর সাইকেলের মাইলেজ ও শক্তি কমিয়ে আনে। অতিরিক্ত টাইট ভালভ  ইঞ্জিনের শব্দকে হ্রাস করে কিন্তু এর প্রভাব পড়ে টাইমিং চেইনের উপর । এর ফলে ইঞ্জিন ভালোভাবে ঘুরতে পারেনা। এটা, ইঞ্জিনের জ্বালানী খরচ বাড়িয়ে দেয় আর সাথে সাথে টাইমিং চেইনটাও আর টেকসই হয়না।

একিইভাবে বেশি ভালভ ক্লিয়ারেন্স ও মাইলেজের জন্য ভাল নয় । তাই, ভালব ক্লিয়ারেন্স যত ভালো হবে আপনার বাইকের পারফর্মেন্সও বাড়াবে এবং মাইলেজ বৃদ্ধি করবে।

৫:সব গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা যাবে না। শুধুমাত্র কোম্পানি নির্ধারিত গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করলে বাইকের ইঞ্জিনের লাইফের স্থায়ীত্বও বৃদ্ধি পায় ।

৬: কার্বুরেটর এর প্রসঙ্গে আমাদের অবশ্যই ফোকাস করা উচিৎ। কার্বুরেটর দিয়ে আপনি ফুয়েল বাড়াতে বা কমাতে পারবেন। কিন্তু, এখানে বেশি হাত দেয়া যাবে না। কার্বুরেটর এবং এর  অ্যাডজাস্টমেন্ত স্ক্রুগুলি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ।কার্বুরেটর কখনো কম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মেকানিক দ্বারা টিউন করানো যাবে না । অনভিজ্ঞ মেকানিক দ্বারা টিউন করা হলে কার্বুরেটর নষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে আর উচ্চমূল্যে আর একটি কিনতে হবে।

৭:ভাল মানের স্পার্ক প্লাগ ব্যবহারে অভ্যাস করুন। বাজারে এখন ngkirridium plug পাওয়া যাচ্ছে সব যায়গায়।

৮: টায়ার প্রেশার প্রতি ১৫ দিনে একবার  চেক করুন এবং প্রস্তুতকারকের পরামর্শ অনুযায়ী টায়ার প্রেশার  বজায় রাখুন।

৯: প্রস্ততকারক যে মাপের চাকা নির্ধারণ করেছে, সেই মাপের চাকা ব্যবহার  করলে মাইলেজ ঠিক থাকে অন্যথায় মাইলেজ হ্রাস পায়।

১০:এয়ার ফিল্টার হল অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা মাদের সব সবসময় মাথায়  রাখতে হবে। সার্ভিসিং এর সময়  এয়ার ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করবেন আর নির্ধারিত সময় পর পর বদলে ফেলুন।

এয়ার ফিল্টার ময়লা হলে আপনার মোটর সাইকেলের মাইলেজ কমে যাবে।

জেনে নেওয়া যাক মোটরসাইকেলের মাইলেজ বৃদ্ধির কয়েকটি টিপস।

১) কার্বুরেটর নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কার্বুরেটরে ধুলোবালি জমে জেট এবং ফ্লোট বোল নিডল জ্যাম হয়ে যায়। এর ফলে জ্বালানি বেশি খরচ বেশি হয়। যার ফলে মাইলেজ কমে যায়। তাই সব সময়  কার্বুরেটর পরিষ্কার রাখতে হবে।

২)  ভালভ পরিষ্কার রাখাটা জরুরি। কারণ এয়ার ফিল্টার বুজে গেলে ইঞ্জিন তুলনামূলকভাবে বেশি জ্বালানি খরচ করে।

৩) বাইকের ম্যানুয়ালে যে গিয়ার চেঞ্জ গতি নির্দিষ্ট করা আছে, সেই গতিই বজায় রাখলে ঠিকঠাক মাইলেজ পাওয়া যায়।

৪) বাইকটি স্টার্ট দেওয়ার পরে প্রথম ৪০০ মিটার যতটা সম্ভব আস্তে যাবেন।

৫) ক্লাচ এবং ব্রেক যতটা কম ব্যবহার করবেন ততই ভাল। এর ফলে অনেকটা জ্বালানি সাশ্রয় হয়।

৬) সম্ভব হলে ট্রাফিক সিগন্যালের সময় আাপনার বাইকের ইন্জিন বন্ধ রাখুন ।

৭) কোম্পানি নির্ধারিত গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করুন । সময়মত  ইঞ্জিন অয়েল  চেঞ্জ করুন ।

৮) আপনার বাইকের টিউবের প্রেশার নির্ধারিত মানের রাখুন তাই কিছুদিন পরপর টিউবের প্রেশার করান ।

পাশাপাশি নিম্নমানের পেট্রল/অকটেন এর ব্যবহার, RPM বেশী করে রাখা, সিগনালে স্টার্ট বন্ধ না করা,  বারবার ব্রেক করে আবার গতি বাড়িয়ে দেয়া, ইত্যাদি কারনে মাইলেজ কমে যেতে পারে।

তাই, আপনার প্রিয় মোটর সাইকেলের খুব যত্ন নিন , তাকেও ভাল রাখুন, আপনিও ভাল থাকুন ।

মোটরসাইকেল চালানোর কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ,নূতনদের জন্য

বাইক চালকদের জন্য এক্সপার্টদের ১০ টি নিরাপত্তা টিপস – Product Review BD

নুতন মোটরবাইক কেনার ১0 টি অত্যাবশ্যক টিপস – Product Review BD

মোটর সাইকেল চালানোর নিয়ম: বাইক চালানোর নিয়মাবলী – YouTube

Comments

comments

Join the discussion

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।