যে ৭ টি ভুলের কারণে আপনার অনলাইন সিকিউরিটি হুমকির সুম্মুখিন হতে পারে

যে ৭ টি ভুলের কারণে আপনার অনলাইন সিকিউরিটি  হুমকির সুম্মুখিন হতে পারে

প্রতিনিয়িতই আমরা অনলাইনে বিভিন্ন জায়গায় এবং বিভিন্ন কাজের প্রয়োজনে নিজেদের পার্সোনাল ডিটেইলস শেয়ার করে থাকি । এছাড়াও প্রায় সবাই এখন কাজের প্রয়োজনে জিমেইল , টুইটার , বিভিন্ন ব্লগ সাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো ব্যবহার করে থাকি ।

এসব কাজের জন্য প্রয়োজন পরে একাউন্ট ওপেন করার আর সেই একাউন্ট ওপেন করার পর সিকিউরিটি জোরদার করার জন্য আমরা পাসওয়ার্ড সহ বিভিন্ন প্রোটেকশন সিস্টেম চালু করে রাখি ।

কিন্তু, ভেবে দেখেছেন কি আপনার এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্সোনাল তথ্য আরেকজনের হাতে চলে গেলে কি হতে পারে ?

অনলাইনে যেমন কাজের ধরণ এবং প্রয়োজন বাড়ছে ঠিক তেমনি বাড়ছে অনলাইন সিকিউরিটি সিস্টেম ডেভলপ করার  তাড়াহুড়ো ।

কিন্তু, এসকল কিছুর মাঝেও হ্যাকার দের অস্তিত্ব চারিদিকে বিদ্যমান এবং সুযোগ পেলেই তারা আপনার তথ্য হাতিয়ে নিতে ফেলতে পারে আপনাকে খুব বড় ধরণের বিপদের মুখে ।

তাই চলুন জেনে নেই, ৭টি সাধারণ ভুল সম্পর্কে যেগুলো সঠিক ভাবে লক্ষ্য করে আমরা আমাদের অনলাইন সিকিউরিটি সিস্টেম রাখতে পারি শক্তিশালী এবং পার্সোনাল ডাটা রাখতে পারি সুরক্ষিত ।

 

১। দুর্বল পাসওয়ার্ড

আমরা অনেকেই সহজে মনে রাখার জন্য সাধারণ পাসওয়ার্ড এর ব্যবহার করে থাকি । সেটা অনলাইনে হোক কিংবা বাসার ওয়াইফাই কানেকশনের ক্ষেত্রে এমনকি মোবাইলের লক স্ক্রিনের জন্যও ।

কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি যা আপনার কাছে সহজ তা কিন্তু আরেকজনের কাছেও সহজেই ব্রেক করার মত একটা বিষয়ে পরিণত হতে পারে । খুব সহজেই আপনার পাসওয়ার্ড ব্রেক করে আপনাকে যে কেও করতে পারে হেনস্তার শিকার ।

অনেকেই একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন একাউন্ট এর মাঝে ব্যবহার করে এটি আরেকটি বাজে দিক ।

আপনার একটা পাসওয়ার্ড জানার ফলে হ্যাকার অন্যান্য বিভিন্ন একাউন্টের মাঝেও একই পাসওয়ার্ড যে প্রবেশ করাবেনা তার কি গ্যারান্টি আছে কোন ? তাই এসব কাজ থেকে বিরত থাকুন ।

প্রয়োজনে কোথাও পাসওয়ার্ড লিখে রাখুন যা শুধু আপনি জানবেন । ভুলে গেলে তাহলে খুঁজে পেতেও কোন সমস্যা হবে না ।

২। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এর ব্যবহার না করা

জানেন কিনা জানিনা, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এর ব্যবহার আপনার অনলাইন জগত রাখতে পারে অনেক বেশি সিকিউর এবং সহজ । এর ফলে আপনি আপনার সকল সাইটের মাঝে অনায়াসে পাসওয়ার্ড সেভ করে রেখেই লগ ইন করতে পারেন

এবং

প্রত্যেক আলাদা আলাদা সাইটের পাসওয়ার্ড গুলো এটি সেভ এবং প্রটেক্টেড  করে রাখবে ফলে আপনি সকল সাইটে অটো লগ ইন করতে পারবেন এবং পাসওয়ার্ড মনে রাখার কিংবা ভুলে যাবার কোন ঝামেলাই নেই ।

তবে এখানেও একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন সাইটের জন্য কিংবা লগ ইন এর জন্য ব্যবহার করবেন না ।

আপনি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার থেকে স্ট্রং পাসওয়ার্ড এর সাজেশন নিয়ে আরো শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দ্বারা আপনার অনলাইন দুনিয়া রাখতে পারেন অনেক বেশি নিরাপদ ।

৩। টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন

আপনি যদি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দুইটাই ব্যবহার করেন তবে আরেকটি বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে পারেন আর সেটি হল দুই স্তর বিশিষ্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম কিংবা টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন।

গুগল মেইল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাইটের মাঝেই এই ব্যবস্থা রয়েছে ।

এর  মাধ্যমে পাসওয়ার্ড এর সাথেও অন্যান্য তথ্য দিতে হয় লগ ইন করবার জন্য । এসব তথ্য শুধু মাত্র আপনিই জানতে পারবেন ফলে অন্য কারো পক্ষে লগ ইন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে এবং একাউন্ট থাকবে  অনেক বেশি সিকিউর ।

আপনার একাউন্টের মাঝে এই ব্যবস্থা থাকলে আজই চালু করে নিন ।

যারা জিমেইল ব্যবহার করছে তারা ফোন ভেরিফিকেশন সিস্টেম চালু করতে পারবেন টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন হিসেবে । ফেসবুক সহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমের মাঝেও এই ধরণের ভেরিফিকেশন লগ ইন সিস্টেম রয়েছে ।

৪। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে ক্রয়

অনলাইনে বিভিন্ন কেনা বর্তমান সময়ের ট্রেন্ড এবং ঘরে বসেই  পেমেন্ট করে সকল জিনিস পাওয়া যাচ্ছে এর চাইতে বড় সুবিধা হয়তো আর কিছু নেই ।

ভেবেছেন কি আপনার পেমেন্ট এর জন্য যেই ক্রেডিট কার্ড আপনি ব্যবহার করছে সেটি যদি হ্যাকার এর হাতে পরে কি হতে পারে ?

যদিও সকল ভালো ই-কমার্স সাইটের মাঝে সিকিউর পেমেন্ট মেথড চালু থাকে এবং ক্রেডিট কার্ড ফ্রড প্রোটেকশন অন থাকে তারপরেও আমার মতে অনলাইনে কেনা কাটার জন্য সবচাইতে ভালো মাধ্যম মোবাইল পেমেন্ট সিস্টেম ।

এপল পে , এন্ড্রয়েড পে , বিকাশ , রকেট ইত্যাদির মাধ্যমে আজকাল অনায়াসেই যেকোন ই-কমার্স সাইটের পেমেন্ট পরিশোধ করা যায় মুহূর্তের মাঝে । তাই এ ব্যপারে সতর্ক থাকবেন এবং ভালো মত সিকিউরিটি ওমান সম্পন্ন ওয়েবসাইট থেকে পন্য কিনবেন ।

 

৫। লিংক ক্লিক করা /  স্প্যাম ইমেইল ক্লিক

বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমেই হ্যাকারদের একটি জাল হল আকর্ষণীয় সব লিংক দিয়ে রাখা । আসলে আপনি যেগুলোকে লিংক ভাবছেন সেগুলো হচ্ছে এক ধরণের হ্যাকিং ট্রিক্স । এগুলোকে বলা হয় ফিশিং ।

আপনি এইসকল ফিশিং সাইটের লিংক এ ক্লিক করার সাথে সাথে আপনার কম্পিউটার এর সকল তথ্য চলে যেতে পারে হ্যাকার এর কাছে এবং রিমোট লগিং সহ কি লগিং এর মাধ্যমে নিমিষেই হাতিয়ে নিতে পারে আপনার মুল্যবান সকল তথ্য ।

তাই সাবধান , শুধু শুধু অপ্রয়োজনীয় কোন লিংক এ ক্লিক করবেন না ।

ইমেইল ভালো করে বুঝে ওপেন করবেন স্প্যাম  ইমেইল যদিও জিমেইল এর স্প্যাম এর মাঝে আলাদা জমা হয় তারপরেও এসব ব্যপার থেকে সবসময় থাকবেন সতর্ক ।

ফিশিং সাইট গুলো দেখতে অবিকল মেইন সাইটের মতো হয়ে থাকে ।

যেমন ফেসবুক এর মাঝে ফিশিং সাইট হিসেবে বিভিন্ন লিংক আসবে আপনি ক্লিক করার পর একদম ফেসবুক লগইন পেজ এর মতো অবিকল পেজ আপনার সামনে চলে আসবে ।

আপনি ফেসবুক ভেবে সেখানে তথ্য প্রবেশের সাথে সাথেই সকল তথ্য চলে যাবে হ্যাকার এর কাছে । এছাড়াও বিভিন্ন হ্যাকার বিভিন্ন কিছু হ্যাক করার জন্য আলাদা আলাদা ফিশিং সাইট তৈরি করে থাকে তাই সাবধান ।

৬। পাবলিক ওয়াইফাই এর ব্যবহার

স্কুল, কলেজ , ভার্সিটি সকল জায়গায়ই এখন ওয়াইফাই থাকে । এবং অনেক জায়গায় রয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই জোন । শুনলে ওবাক হতে পারেন একজন হ্যাকার এর জন্য এর চাইতে ভালো জায়গা আর হয়না আড়ি পেতে শিকার ধরার জন্য ।

 পাবলিক ওয়াইফাই গুলোর সিকিউরিটি ব্যবস্থা অধিক শক্তিশালী থাকেনা এবং সবাই ব্যবহার করতে পারে ।

 একজন হ্যাকার সহজেই তখন  স্পুফিং এর মাধ্যমে আপনার সকল তথ্য নিয়ে নিতে পারে নিজের আওতায়।  বাইরে এধরণের ওয়াইফাই ব্যবহারে অনেক বেশি সতর্ক থাকুন ।

গুরুত্বপূর্ণ লগ ইন থেকে বিরক্ত থাকুন যেমন , অনলাইন ব্যাংক  একাউন্ট , সামাজিক মাধ্যম ইত্যাদি ।

৭। ওএস আপডেট না করা

কম্পিউটার এর মাঝে আমরা অনেকেই যুগের পর যুগ কোন রকম সমস্যা না হলে উইন্ডোজ পরিবর্তন করিনা ।

আবার অনেকে হয়তো সময়মত করে থাকি ।

যাই হোক , আপনার কম্পিউটার এর সকল কাজ ফাস্ট এবং সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত সময় অনুযায়ী উইন্ডোজ আপডেট রাখা ।

কারণ হল , এপল , গুগল , মাইক্রোসফট প্রত্যেকটি কোম্পানি নিয়মিত তাঁদের ওএস এর জন্য আপডেট সিকিউরিটি প্যাচেস  তৈরি করে রাখে । এসকল প্যাচেস হ্যাকার এর হাত থেকে বাঁচতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে থাকে ।

এছাড়াও নতুন ওয়ানাক্রাই র‍্যানসমওয়্যার এর  অ্যাটাক এখন পর্যন্ত অনেকেই হয়তো ভুক্তভোগী হয়েছেন ।

যদি সময়মতো এসব ভুল না করতে হয়তো এরকম ঝামেলা থেকে বাঁচতে পারতেন আর তাই সময় অনুযায়ী প্রোটেকশন নিন আপনার অনলাইন দুনিয়ার এবং কাজ করুন নিশ্চিন্তে ।

 

Summary
Article Name
যে ৭ টি ভুলের কারণে আপনার অনলাইন সিকিউরিটি হুমকির সুম্মুখিন হতে পারে
Description
এসব কাজের জন্য প্রয়োজন পরে একাউন্ট ওপেন করার আর সেই একাউন্ট ওপেন করার পর সিকিউরিটি জোরদার করার জন্য আমরা পাসওয়ার্ড সহ বিভিন্ন প্রোটেকশন সিস্টেম চালু করে রাখি । কিন্তু, ভেবে দেখেছেন কি আপনার এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্সোনাল তথ্য আরেকজনের হাতে চলে গেলে কি হতে পারে ?
Author
Publisher Name
http://productreviewbd.com/

Comments

comments

Join the discussion

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।