হোন্ডা সিবি ১৫০আর স্ট্রীটফায়ার-Honda CB150R Streetfire Indonesian Version

হোন্ডা সিবি ১৫০আর  স্ট্রীটফায়ারঃHonda CB 150R Streetfire Indonesian Version


 

দারুন চমৎকার রেসিং মেশিনহোন্ডা মোটরসাইকেল, সিবিআর ১৫০আর Honda CB150R (Indonesian Version) এর ন্যাকেড অথবা স্ট্রীটফায়ার ভার্সন হচ্ছে ১৫০আর স্ট্রীটফায়ার যেটাও মূলত হোন্ডা গ্লোবাল এর  সহায়ক প্রতিষ্ঠান গুলোর একটি পিটি এস্ট্রা হোন্ডা মোটরের তৈরি করা।

হোন্ডা সিবি ১৫০আর স্ট্রীটফায়ার-Honda CB150R Streetfire

এই বাইকের ডিজাইন ২০১৬ সিবি ৫০০এফ এবং সিবি ৬৫০এফ থেকে অনুপ্রানিত হয়ে করা হয়েছে।

Click to read>>হোন্ডা লিভো ১১০ [ Honda Livo 110সিসি]

ব্রেকিং নিউজঃ নুতুন Honda LIVO 110CC মোটরসাইকেল 

সিবিআর হচ্ছে একটি সুপার স্পোর্টস যেখানে এটা হচ্ছে একটা স্ট্রীট ন্যাকেড যাকে দৈনন্দিন শহর পথে চলাচলকে আরো আরামদায়ক করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

তাহলে চলুন, আর অনর্থক কথা না বাড়িয়ে দেখি বাইকটিতে আর কি আছে।

 

Price:   3,70,000 – 3,80,000 BDT (হোন্ডা বাইক দাম)

ইঞ্জিনঃ

হোন্ডার অন্যান্য বাইকগুলোর মতই সিবি ১৫০আর হচ্ছে ১৫০ সিসি স্ট্রীট ন্যাকেড বাইক ক্যাটেগরির ফ্ল্যাগশিপ এবং রাস্তায় এর পারফর্মেন্স এক্কেবারে রাজার মত।

সিবিআর ১৫০আর এর ইঞ্জিনের মতই এর ইঞ্জিনও একই ইউনিটের। সুতরাং এটিরও ১৪৯.১৬ সিসি, সিঙ্গিল সিলিন্ডার, ৪ স্ট্রোক, ৪ ভাল্ভ, লিকুইড কুলড সাথে আছে অটো ফ্যান, সিঙ্গিল স্পার্ক, পিজিএম ফুয়েল ইঞ্জেক্টেড, ডিওএইচসি সুপার স্মুথ এবং রিভিং মেশিন আছে।

১৪৯.১৬ সিসি সিলিন্ডার ডিস্প্লেসমেন্ট থাকার কারনে এর ইঞ্জিনেরও একইরকম ৫৭.৩ মিলিমিটার বোর এবং ৫৭.৮ মিলিমিটার স্ট্রোক আছে। কমপ্রেশন রেশিও একই, ১১.৩:১।

বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন জ্বালানীর অবস্থা বিবেচনা করা হলেও ওকটেন ইঞ্জিনের জন্য ভালো নয়।

ইঞ্জিনটি পিজিএম-এফআই ফুয়েল ইঞ্জেকশন সিস্টেমের সাহায্যে  ফুয়েল গ্রহন করে এবং একই রকম ইসিইউ অথবা ইলেক্ট্রিক কন্ট্রোল ইউনিটের সাহায্যে কন্ট্রোল করা হয়।

বাইকটির পিজিএম-এফআই ফুয়েল ইঞ্জেকশন সিস্টেমটি হোন্ডা আবিষ্কার করেছে যাতে  সরবোচ্চ দক্ষতা দিতে পারে

এবং

বিভিন্ন রাইডিং কন্ডিশন, আবহাওয়া, উচ্চতা, বাতাসের তাপমাত্রা, ইঞ্জিনের তাপমাত্রা ইত্যাদির কারনে যাতে পারফর্মেন্সকে কম্প্রোমাইজ না করতে হয়।

 

হোন্ডা ইঞ্জিনকে সামান্য ডিটিউন্ড করেছে যার ফল হলো ৯০০০ এরপিএম এ ১৬.৯ পিএস পিক পাওয়ার এবং ৭০০০ এরপিএম এ ১৩.৮ এনএম এর সরবোচ্চ টর্ক।

ফুয়েলসহ বাইকটির ওজন ১৩৬ কিলোগ্রাম যা সিবিআর ১৫০আর এর চেয়ে ১ কিলোগ্রাম বেশি যদিও পাওয়ার অনুপাতে ওজনের রেশিও হয় ৫.৬৪ এইচপি প্রতি ১০০ কেজির জন্য।

যার কারনে বাইকটিকে কিছুটা স্লো বলা যায়।

 

ট্রান্সমিশনঃ

হোন্ডা সিবি ১৫০আর একইরকম ৬ স্পীড স্ট্যান্ডার্ড ট্র্যান্সমিশনে ১ ডাউন এবং ৫ আপ কনফিগারেশন আছে, অর্থাৎ সারপ্রাইজ হওয়ার মত তেমন কিছু নেই এতে।

ট্র্যান্সমিশনে একটি ওয়েট মাল্টি প্লেট ক্লাচ আছে।

 

ডিজাইনঃ

আগেই যেমন বলা হয়েছে যে বাইকটি হলো একটি ন্যাকেড স্ট্রীট ফাইটার এবং এর ডিজাইন সিবি ৫০০এফ এবং সিবি ৬৫০এফ থেকে অনুপ্রানিত হয়ে করা হয়েছে।

ফ্রন্টের সমস্ত নতুন এলইডি হেডল্যাম্প এবং শার্প এলইডি টেল লাইট এবং টার্ন সিগন্যাল লাইট ডিজাইন দেখতে দারুন সুন্দর।

এলইডি কে নির্বাচন করাটাও বেশ দক্ষতার পরিচয় কারন, এলইডি ভীষণ উজ্জ্বল, দীর্ঘমেয়াদী, এনার্জি এফিসিয়েন্ট এবং প্রচুর উৎপাদনের জন্য দাম কম।

বাইকটির ডিজাইন অনেকটা এগ্রেসিভ এবং এরোডাইনামিক। এর ফুয়েল ট্যাঙ্ক দেখতে বেশ মজবুত, এবং ট্যাঙ্কের ঢাকনা এর এরোডাইনামিক লুককে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাইকটির ইউনিবডি সীট হলেও মার্কেটের অন্যান্য ইউনিবডি সীটের বাইকের তুলনায় সুপিরিওর। বাইকটির রিয়ার ইন্ড দেখতে খুব স্পোরটি।

ইঞ্জিনটিতে গোল্ড ফিনিশ দেয়া হয়েছে যেটা বাইকের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশস্ত এবং স্পোর্টই ৫ স্পোক সিবিআর ১৫০আর হুইলস দেখতে খুব স্টাইলিশ।

দুইটি এডিশনে বাইকটি পাওয়া যাবে, স্ট্যান্ডার্ড এবং স্পেশাল। স্ট্যান্ডার্ড এডিশন ৩টি রঙের পাওয়া যাবে, ম্যাচো রেড ব্ল্যাক, র‍্যাপিড রেড হোয়াইট এবং ওয়াইল্ড নিওন গ্রিন ব্ল্যাক।

স্পেশাল এডিশনের রঙ দুটি, র‍্যাপ্টার ব্ল্যাক এবং হোন্ডা রেসিং রেড।

 

ইন্সট্রুমেন্ট কনসলঃ

হোন্ডা সিবি 150 আর ইন্দোনেশিয়ার  ভার্সনটিতে একই ডিজিটাল ইউনিট একটি নীল ব্যাকলিট, কালো ও সাদা এলসিডি ডিসপ্লে দেয়া হয়েছে হোন্ডার অন্যান্য বাইকগুলোর মতো।

এর একটি টেকোমিমিটার, স্পিডোমিটার, ট্রিপ মিটার, ওডোমিটার, গিয়ার কাউন্টার, ঘড়ি, ফুয়েল গেজ এবং এভারেজ ফুয়েল কনজাম্পশন  মিটার আছে।

রাইডারকে সাহায্য করার জন্য রয়েছে কিছু ইন্ডিকেটর।

 

সুইচ গিয়ারঃ

সুইচ গিয়ারগুলো সিবিআর ১৫০আর এবং সাধারণ হোন্ডার মতই। বাইকটিতে এএইচও(AHO) থাকায় কোন ইঞ্জিন বন্ধের সুইচ এবং হেডলাইট সুইচ নেই।

বড় হোন্ডা বাইকগুলোর মতো করে হর্ন এবং টার্ন সিগন্যাল সুইচগুলোর স্থান পরিবর্তন করা হয়েছ।

তার মানে হলো, হর্ন সুইচ টার্ন সিগন্যাল সুইচের যায়গায় এবং টার্ন সিগন্যাল সুইচ হর্ন সুইচের যায়গায়।

বাইকটিতে একটি পাস লাইট সুইচ আছে।

 

ইলেক্ট্রিক্যালঃ

হোন্ডা সিবিআর ১৫০আর এ ব্যবহৃত ইলেক্ট্রিক্যালের সমান এই বাইকেও ১২ভি, ৫এএইচ মেনটেনেন্স ফ্রি ব্যাটারি এবং এসি জেনারেটর আছে। বাইকটি একটি ডিজিটাল ট্র্যানসিসটোরাইজড ইগ্নিশন সিস্টেম ব্যাবহার করে।

বাইকটিতে ব্রাইটেস্ট লো/হাই বিম ক্লিয়ার লেন্স, ডিসি এলইডি হেড ল্যাম্প, এলইডি টেল/ব্রেক লাইট আছে।

বাইকটিতে একটি ব্যাঙ্ক এঙ্গেল সেন্সরও আছে যেটা পড়ে যেতে চাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইঞ্জিনকে বন্ধ করে দেবে।

 

চেসিস এবং ডাইমেনশনঃ

হোন্ডা ঠিক সিবিআর ১৫০আর এর মতো সিবি ১৫০আর এ ফাউন্ডাশন হিসেবে একটি ডাইমন্ড ট্রাশ ফ্রেম ব্যবহার করেছে যেটা মহাসড়কে, শহরের রাস্তায় এমনকি কর্নার গুলোতেও দৃঢ়তা এবং স্ট্যাবিলিটি এনে দিবে।

হোন্ডা সিবি ১৫০আর এর পুরো ডাইমেনশনেই পরিবর্তন আনা হয়েছে, ওভারল দৈর্ঘ্য ২০১৯ মিলিমিটার, প্রস্থ ৭১৯ মিলিমিটার, উচ্চতা ১০৩৯ মিলিমিটার, গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স উচ্চতা ১৬৯ মিলিমিটার এবং ছোট ১২৯৩ মিলিমিটারের হুইল বেজ।

এর ওজন (টুল কিট এবং ৯০% জ্বালানি সহ) ১৩৬ কিলোগ্রাম।

এর অর্থ হলো বাইকটি সিবিআর ১৫০আর এর চেয়ে বড় এবং লম্বা যেটা অবশ্য খুব একটা পার্থক্য করে না, কারন এখুনো খুব সহজেই রাস্তায় বাইকটি কন্ট্রোল এবং ম্যানেজ করা যায়।

ছোট হুইল বেজ এবং বেশি উচ্চতা বরং বাইকটিকে সহরতলিতে চালোনায় আরো স্থায়িত্ব দিয়েছে এবং সাথে ক্ষীপ্র ও দ্রুতগতির করেছে।

 

সাসপেন্সনঃ

হোন্ডা সিবি ১৫০আর বাইকটিতে হোন্ডার অন্যান্য বাইকের মতোই সাসপেন্সন সেট আপ রয়েছে।

সুতরাং এটা হলো ফ্রন্টে টেলিস্কোপিক ফরক এবং রিয়ারে ৫ স্টেপ এডজাস্টেবল স্প্রিং লোডেড হাইড্রোলিক টাইপ প্রো-লিঙ্ক মনোশক যেটা আয়তাকার সুইং আরমের সাথে যুক্ত।

স্ট্যাবিলিটি প্রদানের জন্যই মূলত এখানে এই পরিবর্তনটি হয়েছে।

 

হুইল, ব্রেক এবং টায়ারঃ

সিবিআর ১৫০আর এর মতো একইরকম চাকা, ব্রেক এবং ট্যায়ার স্ট্রীটফায়ারেও ব্যবহার করা হয়েছে। একইরকম ১৭ ইঞ্চি ৫ স্পোক স্প্লিটেড এলোয় হুইল

এবং

ব্রেক এবং টায়ারও পূর্বের মতোই ২৭৬ মিলিমিটার ডিস্ক সাথে ফ্রন্টে আছে নিশিন ডুয়াল ক্যাপলার যেটা এই সেগমেন্টের বাইকের মধ্যে বেষ্ট, এবং ২২০ মিলিমিটার রিয়ার ডিস্কের সাথে ফিট করা নিশিন সিঙ্গিল ক্যাপলার।

টায়ারের সাইজগুলি হলো ফ্রন্টে ১০০/৮০-১৭” এবং রিয়ারে ১৩০/৭০-১৭”। উভয় চাকায় টিউবলেস এবং প্রতিযোগিতায় দারুন গ্রীপ দেয়।

 

পারফর্মেন্সঃ

অবাক করা বিষয় হলো, হোন্ডা সিবি ১৫০আর বাইকটি সিবিআর ১৫০আর এর মতোই পারফর্মেন্স দেয়, ০-১০০ মাত্র ৯ সেকেন্ডেরও কম সময় নেয়, এর এরোডাইনামিক ডিজাইনকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়।

কিন্তু বেশি স্পিডে স্ট্রীটফায়ার যে একটি ন্যাকেড বাইক সে পার্থক্যটা বোঝা যায়। বাইকটি এভারেজ মাইলেজ দেয় ৪৫-৫০ কিলোমিটার পার আওয়ার।

বাইকটির অটো ফ্যান সাথে লিকুইড কুলড ইঞ্জিন অন্যান্য এয়ার কুলড ইঞ্জিনের চেয়ে বেশি কুলার এবং বেটার পারফর্মেন্স দেয়।

বাইকটিতে ডাইমন্ড ট্রাস ফ্রেম থাকায় কর্নারগুলোতে এবং হাই স্পিডে খুব ভালো ভাবেই হ্যান্ডেল করা যায় কিন্তু অফ রোডে কিছুটা সাফার করে বাইকটি।

 

কমফোরট এবং হ্যান্ডেলিংঃ

এমন কোন গঠনগত পরিবর্তন বাইকটিতে আনা হয়নি যেটার কারনে সিবিআর ১৫০আর এর মত হ্যান্ডেলিং দিতে পারবে না।

এর প্রশস্ত, বিস্তৃত এবং ভীষণ নরম ইউনিবডি সীটের সমন্বয় বরং সিবিআর এর চেয়ে বেশি স্বস্তি এবং আরামদায়ক।

বাইকটিতে একটি ব্যাঙ্ক এঙ্গেল সেন্সর আছে, সুতরাং বাইকটি যদি পড়ে যাওয়ার মত হয় অথবা ৭৫ ডিগ্রিতে বেঁকে যায় তবে ইঞ্জিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাৎক্ষণিক বন্ধ হয়ে যাবে।

শেষ কথাঃ ইন্দোনেশীয় ভার্সনের হোন্ডা সিবি ১৫০আর আরো একবার প্রমান করে যে,  “হোন্ডা সব সময়ই হোন্ডা” হোন্ডার অন্যান্য বাইকগুলোর মত।


বাংলাদেশের বাজারে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের (বিএইচএল) ১৫০ সিসিতে একমাত্র বাইক হোন্ডা সিবি ট্রিগার

Comments

comments

Join the discussion

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।