কিভাবে একটি ব্যবহৃত গাড়ির ইঞ্জিন পরীক্ষা করবেন

কিভাবে একটি ব্যবহৃত গাড়ির ইঞ্জিন পরীক্ষা করবেন

কেউ কখনও সহজে একটি গাড়ি বিক্রি করে না কারণ এটি খুব ভাল চলে, সহজে রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়। আপনি যখন কোন ব্যবহৃত গাড়ি দেখেন তখন দূর থেকেই এর প্রেমে পড়ে যান। আসলে ব্যবহৃত জিনিস মানেই খারাপ বুঝায় না, এমনকি খুব পুরনো গাড়িও যদি খুব যত্নের সাথে ব্যবহার করা হয়, তাহলে এটিও খুব ভাল থাকে। তাই আপনি যদি আপনার টাকা জলে ফেলতে না চান তাহলে সর্বপ্রথমে আপনার গাড়ির ইঞ্জিনটি ভাল করে দেখতে হবে।

প্রথম অংশঃ কিভাবে একটি ব্যবহৃত গাড়ির ইঞ্জিন পরীক্ষা করবেন-

পরীক্ষা শুরু করুনঃ

১/গাড়ির নিম্নাংশে স্পট, ছিদ্র অথবা ঝল ঝরে পড়ে কিনা পরীক্ষা করুনঃ আপনি গাড়ির নিম্নাংশের ভূমিতে কোন দাগ বা ঝল ঝরার চিহ্ন আছে কিনা পরীক্ষা করে দেখুন। যদি থাকে তাহলে পরীক্ষা করে দেখুন এগুলো পুরনো তেলের কিংবা নতুন কোন দাগ কিনা। সম্ভবত, এখানে কোন ছিদ্র আছে যার জন্য উপর থেকে তেল পড়ছে।

oil-leak-car-productreviewbd

২/দাগটি কোন ধরনের তরলের সৃষ্টি তা শনাক্ত করুনঃ জলের দাগ ব্রেক লাইন, কুলিং সিস্টেম, ট্রান্সমিশন, পাওয়ার স্টিয়ারিং থেকেও হতে পারে। কোন ভেজা দাগ পেলে, অবশ্যই এটিকে আঙ্গুলে লাগিয়ে পরীক্ষা করুন।

  • লালচে দাগ সাধারণত ট্রান্সমিশনের হয়ে থাকে। কালচে দাগগুলো শুধু পুরনো তেলের হয়। সবুজ অথবা কমলা দাগগুলো কুল্যান্টের হয়ে থাকে।
  • পরিষ্কার দাগগুলো শুধুমাত্র পানির হয়ে থাকে। আপনি যখন আঙ্গুলের মাথা দিয়ে স্পর্শ করার পর যদি মনে হয় এটি পানি ও তেল দুইয়েরই দাগ তাহলে নিচের স্টেপগুলোতে ভালভাবে নজর দিন।

৩/গাড়ির কাঠামো পরিদর্শন করুনঃ বিক্রেতারা তাদের গাড়ি বিক্রি করার জন্য আপনাকে অনেক কিছু বুঝাবে এবং অনেকে চাইবে ইঞ্জিনের অংশ পরিষ্কার করে রাখার জন্য। কিন্তু নিচের অংশ তাদের অগোচরে থেকে যায়। তাই আপনাকে ছিদ্র এবং তরল পদার্থের দাগ যেগুলো লেপ্টে থাকে কিন্তু নিচে পড়ে না সেগুলোও খুঁজে বের করতে হবে।

oil-spill-productreviewbd

  • ভেজা ও গাঢ় দাগ, এবং তেলজাতীয় দাগগুলো খুঁজে বের করুন। তেল রাখার স্থান ও গ্যাসকেটের জায়গায় কোন ময়লা দাগ আছে কিনা তাও খুঁজে বের করুন।
  • নতুন, ভেজা অথবা তৈলাক্ত ময়লা সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। কোন জিনিস কতটুকু ভেজা, শক্ত, ও তৈলাক্ত তাও খুঁটিয়ে দেখবেন এবং এইগুলার একটি নোট রাখবেন।
  • কোন জায়গা থেকে যদি ভেজা কিছু পড়তে দেখেন, তাহলে তা খুঁজে বের করুন। যদি কোন ছিদ্র পান তাহলে আপনি আপনার পছন্দ পরিবর্তন করতে পারেন। কিছু ছিদ্র তেমন গুরুতর হয় না, আর কিছু ছিদ্র খুবই মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

২য় অংশঃ কিভাবে একটি ব্যবহৃত গাড়ির ইঞ্জিন পরীক্ষা করবেন-

ইঞ্জিন পরিদর্শন করুনঃ

১/হুডটিকে উপরে তুলুন ও বাজে কোন গন্ধ আসে কিনা নোট করুনঃ ইঞ্জিনটি চালু করার পূর্বে হুডটিকে উপরে তুলে দেখুন সেখান থেকে কোন গন্ধ আসছে কিনা। যদি আসে তাহলে ইঞ্জিনে ভাল করে খেয়াল করুন এবং গন্ধগুলো নোট করুন।

oil-leak-car-engine-productreviewbd

  • একটি ভাল ইঞ্জিন রাবার এবং প্লাস্টিকের সাথে গ্যাস এবং তেলের গন্ধ ছড়াবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আপনি প্লাষ্টিকের অংশ থেকে বাষ্পের গন্ধ পাবেন। কিন্তু আপনি যদি বেশি তেল অথবা গ্যাসের গন্ধ পান তাহলে বুঝবেন ফুয়েল সিস্টেমে ছিদ্র আছে।
  • আপনি যদি তার্পিনের গন্ধ পান তাহলে বুঝবেন গাড়িটি কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়েছে। আর আপনি যদি অজমাটবাধা কোন কিছুর গন্ধ পান তাহলে কুলিং সিস্টেমে কোন ছিদ্র আছে কিনা পরীক্ষা করুন। ঝাঁঝালো ও টক কোন গন্ধ আপনাকে ব্যাটারির কোন অংশ ভাল করে পরীক্ষা করার ইঙ্গিত দেয়।

 

২/আপনার ইঞ্জিন ও এর আশপাশের অংশ ভাল করে দেখুনঃ ইঞ্জিনে কি আপনি কোন নকশা, খোলা ধাতাব পদার্থ, অথবা ময়লা দেখতে পেয়েছেন? এগুলো অনেক সময় ছিদ্র এবং ত্রুটিসমূহ লুকানোর জন্য করা হয়ে থাকে।

  • ময়লায় আচ্ছাদিত ইঞ্জিন আপনাকে কোথায় তেল ও গ্যাস পড়ছে, কোন অংশটি মেরামত করা হয়েছে তা নির্দেশ করে। যা থেকে বুঝতে পারবেন গাড়িটি ন্যূনতম কিছুদিনের ভিতরে কাজ করানো হয়েছে।
  • এটেলো কাদাজাতীয় ও নোংরা ইঞ্জিনের মধ্যে ছিদ্র থাকতে পারে। আপনি ওই কাদার পথ অনুসরণ করে ছিদ্রটি খুঁজে বের করতে পারবেন।

৩/তেলের লেভেল পরীক্ষা করুনঃ তেল মাপার কাঠিটিকে উঠান, পরিষ্কার করুন এবং আবার নামান এবং উপরে তুলুন। দেখুন কোন তেল আছে কিনা। অনেক গাড়িই গরম না হলে তেলের সঠিক স্তর বুঝা যায় না।

checking_oil_car

  • আপনার ইঞ্জিন যদি আটোমেটিক ট্রান্সমিশনসম্পন্ন হয় তাহলে তেল মাপার জন্য আরেকটি কাঠি পাবেন। এটি দিয়ে পূর্বের পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
  • আপনার যদি পাওয়ার স্টিয়ারিং হয় তাহলে একটি পাম্প পাবেন। এটিতে সাধারণত ঢাকনাসহ একটি ছোট মাপকাঠি থাকে। পরীক্ষা করে দেখুন এখানে কোন তেল আছে কিনা। আপনি এর সাথে ব্রেক ফ্লুইডও পরীক্ষা করতে পারেন।
  • সর্বশেষে কুল্যান্ট লেভেল ও ওয়াসার ফ্লুইড লেভেল পরীক্ষা করুন।

৪/বেল্ট ও হোসগুলো পরীক্ষা করুনঃ রাবারে কোন ফাটল থাকলে তা তাড়াতাড়ি বদলাতে হবে। হোসগুলোকে চাপুন ও বেল্টগুলোকে সরিয়ে দেখুন। বেল্টগুলো যদি অল্পও পুরনো দেখায়, তবুও তাদেরকে বদলাতে হবে। প্রথমত, আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে এখানে কোন বেল্ট আছে কিনা। যদি কপিকলগুলোতে কোন বেল্ট না পান তাহলে এটি ভাল লক্ষণ। নরম কুলিং পাইপগুলো খুঁজে বের করুন। পাইগুলো যেখানে লাগানো আছে তার আশেপাশে ছিদ্র আছে কিনা খুঁজুন।

belts_and_hoses-car-test-productreviewbd

৫/ব্যাটারী ও টার্মিনালগুলো পরীক্ষা করুনঃ ব্যবহৃত গাড়িগুলোর ব্যাটারীতে নালার মত থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়, তাই যদি মাঝেমধ্যে গাড়িটি লাফিয়ে উতে তাহলে এতে নিরুৎসাহিত হবেন না। এখন ব্যাটারীটিতে কোন ছিদ্র ও খোলা ক্যবল আছে কিনা তা ভাল করে দেখুন। টার্মিনালে সাদার জমাটবাধা কিছু আছে কিনা দেখুন। আবার প্রতিদিনের পুরাতন ময়লার আস্তরণ থাকলেও বুঝতে হবে যে এই ব্যটারিটি বা টার্মিনালটি ভাল নয়, যদিও এটি কোন ভাল মিস্ত্রী দ্বারা সারানো যাবে।

৬/বায়ুনিরোধক ফিল্টারগুলোও দেখুনঃ আপনি যদি কোন ডিলারের কাছ থেকে গাড়ি কিনেন তাহলে এর বায়ুনিরোধক ফিল্টারগুলো পরিষ্কার ও নতুন থাকবে, কিন্তু যদি কোন ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেন তাহলে এটি পুরাতন ও ময়লা হয়ে থাকবে যা বদলানোর প্রয়োজন হবে। যদি বায়ুনিরোধক ফিল্টারটি বদলানোর প্রয়োজন হয় তাহলে অন্যান্য ফিল্টারগুলোও যেমন তেল, গ্যাস, ট্রান্সমিশন ফিল্টার এগুলোও বদলানো লাগবে।

৭/টার্বোর সংযোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হোনঃ গাড়িটি যদি টার্বো চার্জারের হয় তাহলে আপনি এই সম্পর্কে কিছু বুঝতে পারবেন না যদি না গাড়িটি চালু না থাকে। যদিও আপনার ন্যূনতম এটি সংযুক্ত আছে কিনা বা কোন ছিদ্র আছে কিনা তা পরীক্ষা করার দরকার।

৮/ইঞ্জিন অংশটি সম্পূর্ণভাবে ভাল করে পুনরায় দেখুনঃ ইঞ্জিন অংশে কোন তার বা হোস ঢিলা আছে কিনা তা পরীক্ষা করুন। কোন গর্ত বা সম্ভাব্য মিসিং পার্ট খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। নতুন গাড়িগুলোতে ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রপাতি ও জটিল ভ্যাকুয়াম সিস্টেমগুলো ভাল করে লক্ষ্য করুন।

৩য় অংশঃ কিভাবে একটি ব্যবহৃত গাড়ির ইঞ্জিন পরীক্ষা করবেন-

শেষবারের জন্য পরীক্ষা করুন-

১/গাড়ির হুডের নিচের অংশে ভাল করে দেখুনঃ হুডের নিচের অংশ থেকে আপনি অনেক কিছু অনুমান করতে পারবেন। আপনি অবশ্যই এটিকে ভালভাবে পেতে চাইবেন। হুডের নিচের অংশে কোন জায়গা যদি ঝলসিত, অগ্নিদগ্ধ, কুঁচকানো অথবা অপসারিত থাকে, তাহলে বুঝতে হবে ইঞ্জিনটিতে পূর্বে আগুন লেগেছিল।

২/এগজষ্ট পাইপটি পরীক্ষা করুনঃ এগজষ্টে ছিদ্রের কারণে ইঞ্জিনে আগুণ লেগে যেতেপারে। যদি এর ভিতরে কাল থাকে তাহলে বুঝবেন এটি খুব খারাপ বা ভালও নয়, সাদা দাগ থাকলে বুঝবেন এটি এত ভালভাবে চলবে না যার কারণে ইঞ্জিন গরম হয়ে যেতে পারে।

৩/গাড়ী চালু হয় কিনা পরীক্ষা করুনঃ আপনি গাড়িটিকে চালু করার সময় তিন ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।

  • প্রথমবারেই চালু হয়ে যাবে।
  • চালু হতে কিছু সময় নিবে।
  • চালু হবে না।

৪/চালু না হওয়ার কারণ বের করুনঃ গাড়িটি চালু না হলে ব্যাটারী এবং সংযোগগুলো পরীক্ষা করুন। টার্মিনালের প্রতি অতিরিক্ত নজর দিন, এবং ক্যাবল ও স্পার্ক প্লাগ পরিষ্কার, শক্ত ও ভালভাবে লাগানো কিনা তা নিশ্চিত করুন।

৫/চালু করার পর ইঞ্জিনের শব্দ শুনুনঃ গাড়িটি চালু করার পর ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশের শব্দ শুনুন।

  • “টিকটিকটিকটিক” শব্দ হলে বুঝবেন ভাল্ব অথবা বেল্ট ঢিলা থাকার করণে এই রকম শব্দ হচ্ছে।
  • “নকনকনকনক” আওয়াজ হলে এটি খুবই খারাপ লক্ষণ এবং এই জন্য আপনি এই গাড়ি পরিত্যাগ করতে পারেন।
  • তীক্ষ্ম বা কোঁ কোঁ আওয়াজ সাধারণত বেল্ট থেকে আসে। এজন্য বেল্ট পরিবর্তন করতে পারেন।
  • বিকট আওয়াজ হলে ইঞ্জিন অথবা ট্রান্সমিশন বদলাতে পারেন যদিও এটি গুরুতর কিছু নয়।

৬/গাড়িটিকে পরীক্ষামূলকভাবে চালাতে পারেনঃ যদি সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে গাড়িটিকে আপনি চালিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। আপনি এটিকে কোন মিস্ত্রীর কাছে নিয়ে গেলে তারা আপনি যে ত্রুটিগুলো মিস করেছেন যেমন পাওয়ারের সমস্যা, খারাপভাবে কাঁপা অথবা অন্যান্য বাজে ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করতে পারবে।

Join the discussion

61 thoughts on “কিভাবে একটি ব্যবহৃত গাড়ির ইঞ্জিন পরীক্ষা করবেন

  1. Great – I should definitely pronounce, impressed with your web site. I had no trouble navigating through all the tabs and related info ended up being truly easy to do to access. I recently found what I hoped for before you know it at all. Reasonably unusual. Is likely to appreciate it for those who add forums or something, website theme . a tones way for your customer to communicate. Excellent task..

  2. My programmer is trying to persuade me to move to .net from PHP. I have always disliked the idea because of the costs. But he’s tryiong none the less. I’ve been using WordPress on various websites for about a year and am concerned about switching to another platform. I have heard excellent things about blogengine.net. Is there a way I can import all my wordpress content into it? Any help would be really appreciated!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।