সেসা হেয়ার অয়েল রিভিউ

সেসা হেয়ার অয়েল রিভিউ

আজ আপনাদের সামনে আমি মানুষের সৌন্দর্যের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং নারীদের সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ মাথার চুল এবং চুলের যত্নে ব্যবহার করার জন্য সেসা হেয়ার অয়েল (SESA Hair Oil) এর রিভিউ  তুলে ধরবো ।

গেল কিছুদিন আগে আমি খুব চুলের সমস্যায় ভুগছিলাম।  ঠিক তখনি আমার এক বান্ধবী আমাকে এই সেসা হেয়ার অয়েল (SESA Hair Oil)  এর সম্বন্ধে আমাকে জানায় আর আমি তখনি এটি কিনে ফেলি ব্যবহার করার জন্য এবং এর সম্বন্ধে সকল ধরণের তথ্যের ভিত্তি যাচাই করার জন্য।

%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b2-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%89

যদিও আমি নিজেও প্রতিদিন তেল ব্যবহার করিনা তবে ব্যবহারের রুটিন টা আসলে সম্পূর্ণ নির্ভর করে ঋতুর তারতম্য এবং পরিবেশের উপর।

সেসা হেয়ার অয়েল আপনার মাথার চুলের ওপর বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহারের ফলে যেই ধরণের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে সেসব ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আপনার চুলকে সুরক্ষা প্রদান করতে সহযোগিতা করবে।

এছাড়াও আপনার চুলের মাঝে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি যুগিয়ে আপনার চুলকে করে তুলবে আরও বেশি শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত।

আজ আমি সেসা হেয়ার অয়েল এর রিভিউ নিয়েই কথা বলছি মানে কিন্তু এই নয় যে আমি শুধু চুলের যত্নে একটা হেয়ার অয়েলই ব্যবহার করেছি, আমি চুলের যত্নে আরও অনেক ধরণের তেল ব্যবহার করেছি ।

কিন্তু, এই সেসা হারবাল হেয়ার অয়েল এর মাঝে এমন কিছু আছে যার জন্য এর ব্যবহারের পরিমান একটু বেশি কারণ এর মাঝে যেসব উপাদান মিশ্রিত আছে তার মাঝে সবগুলো উপাদানই প্রাকৃতিক এবং ভেষজ চলুন আরেকটু বিস্তারিত দেখে নেই এই হেয়ার অয়েল সম্বন্ধে ।

ভাল দিকঃ

এটি আমার চুলে আগের থেকে বেশি শাইনি ভাব ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে এছাড়া চুল আগের থেকে অনেক বেশি ঝরঝরেও হয়েছে।

যদিও আমি চুল পড়া জনিত সমস্যায় অনেকদিন ধরে ভুগেছি কিন্তু এটি ব্যবহারের ফলে চুলপড়া জনিত কোন সমস্যা আমি লক্ষ্য করিনি।

খারাপ দিকঃ

এর গন্ধ অনেক কড়া।


রেটিংঃ

 

সেসা হেয়ার অয়েল এর গুণাবলীঃ

১. সেসা হেয়ার অয়েল (SESA Hair Oil) এর মুল্য আপনার হাতের নাগালেই এবং এটি প্রায় ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত এর মেয়াদ থাকে।

২. এটি আপনি যেকোনো সুপারশপ, অনলাইন কিংবা ফার্মেসি অথবা মেডিকেল কেয়ার সেন্টার এই পাবেন।

৩. এটি আপনার চুলকে অনেক মোলায়েম, ঝলমলে মানে সিল্কি করে তুলবে।

৪.  আপনার মাথায় যদি খুশকি এবং মৃত বা খসখসে চামড়ার জন্য চুলকানি ধরণের কোন সমস্যা থাকে অথবা এলার্জি জনিত সমস্যা থাকলেও এটির ব্যবহারে সেসব থেকে মুক্তি পাবেন।

৫. এর মাঝে থাকা নারিকেল তেল আপনার মাথার চুলকে ঝরঝরে পাতলা এবং বাউন্সি হতে সাহায্য করবে।

৬. এর মাঝে কোন রাসায়নিক উপাদান নেই, তৈলপ্যাক নামক বিশেষ পদ্ধতি দ্বারা প্রস্তুত হয়েছে।

৭. ব্রাহ্মী এবং ব্রিঙ্ঘরাজ আপনার চুল গজাতে সাহায্য করবে।

৮.  আমি এটি ব্যবহারের পর কোন ধরণের সাইড এফেক্ট মানে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য কিংবা অনুভব করিনি।

সেসা হেয়ার অয়েল ব্যবহারে যেসব সমস্যা আমি পেয়েছিঃ

১. এই হেয়ার অয়েলটি খুব করা ঘ্রাণ সমৃদ্ধ।

২. আমি চুলপড়া রোধে এর কোন কার্যকারিতা লক্ষ্য করিনি কিন্তু আবার আমার মা বলেছে এটি ব্যবহার করার পর উনার চুলপড়া বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই এই লক্ষ্য অনুসারে যদি আপনি এটি ব্যবহার করতে চান তবে এই সম্পর্কে আমার কোন মতামত নেই।

সেসা হেয়ার অয়েল এর দাম এবং যেখানে পাবেনঃ

আপনি সেসা হেয়ার অয়েল ক্রয় করতে চাইলে বাংলাদেশে এর দাম পরবে ৮৯০ টাকা মাত্র

এবং পরিমাণ থাকবে ৯০মিলিঃ এবং আপনি এটি প্রায় তিন বছর ব্যবহার করতে  পারবেন। বাংলাদেশে আপনি এটি দারাজ ডট কম এর ওয়েবসাইট থেকে কিনতে পারবেন

লিংকঃ https://www.daraz.com.bd/beauty-bazar-sesa-hair-oil-90ml-64618.html

সেসা হেয়ার অয়েল এর উপাদান সমূহঃ

সেসা হেয়ার অয়েল এর মাঝে প্রায় ১৮টি ভিন্ন ধরণের উপদান রয়েছে যেমন ইক্লিপ্টালবা, এব্রুসপ্রেকাটরিয়াস, এনাসাইক্লাস পাইরিথ্রাম ইত্যাদি। সেসা হেয়ার আপনার চুলকে প্রাকৃতিক এবং স্বাভাবিক ভাবে লম্বা করতে সাহায্য করবে ।

sesa-hair-oil-review

এর মাঝে থাকা ত্রিফলা আপনার চুলকে করবে ঝলমলে।

চুলের বৃদ্ধিতে ও চুল গজাতে ক্যাস্টর অয়েলের উপকারিতা এবং ব্যবহার


সেসা হেয়ার অয়েল ব্যবহার পরবর্তী চুল পড়া, চুল বৃদ্ধি সহ সকল ধরণের অভিজ্ঞতাঃ

সেসা হেয়ার অয়েল একটি সাদা রঙের বোতলের মাঝে মেরুন রঙের ক্যাপ আটকানো অবস্থায় আপনি পাবেন। আমার এর প্যাকেটজাত করার প্রক্রিয়াটি ভালো লেগেছে। শীতের সময় চারপাশ এত রুক্ষ হয় এবং ঠাণ্ডার ফলে অনেক তেলই জমে যায়।

আমিও এর বোতলের সুবিধার কারনে শীতকালে এটিকে মাইক্রোওয়েভ ওভেন এর মাঝে অল্প গরম করে ব্যবহার করতে পারি। সেসা হেয়ার অয়েল এর রঙ একদম হালকা সবুজ রঙের ।

সম্ভবত এটি ব্রাহ্মী, আমলা এবং অন্যান্য হারবাল উপকরন ব্যবহারের ফলে সবুজ রঙ ধারন করেছে। তবে আগেই বলেছি এর গন্ধ অনেক কড়া।

কীভাবে আমি সেসা হেয়ার অয়েল ব্যবহার করিঃ 

 আমি  সাধারণত রাতের বেলায় এই তেল ব্যবহার করি। একটা ছোট্ট গোল ধরণের বাটির মাঝে প্রথমে পরিমাণ মতো প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেই। তারপর মাইক্রোওয়েব ওভেন এ রেখে কিছুটা গরম করে নেই আপনারা এভাবে অথবা যেকোনো উপায়ে এটিকে সামান্য গরম করে নিতে পারেন।

তারপর আমার হাতের আঙ্গুলে অল্প করে তেল নিয়ে একদম মাথার স্ক্যাল্প মানে চুলের গোঁড়ার দিকের চামড়ায় ভালোভাবে আলতো করে মেসেজ করি তারপর ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ চুলের মাঝে আলতো করে লাগিয়ে নেই। তারপর চুল বেঁধে কিংবা বেণী করে ঘুমাতে যাই।

তারপরদিন সকালে চুলগুলো ভালো করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলি সাধারণত আমি ডাভ শ্যাম্পু ব্যবহার করি কারণ এটি চুল থেকে খুব ভালো করে তেল সরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে তবে। এই হেয়ার অয়েল এর মাঝে প্রায় সবকিছুই আছে যা যা এর প্রস্তুতকারকেরা বলেছে।

এটি চুলের লুক সত্যি অনেক পরিবর্তন করে দেয় কিন্তু এর গন্ধ সত্যি অনেক বেশিই কড়া প্রায় কয়েকদিন থেকে যায় চুলের মাঝে। জানিনা আপনাদের কাছে এটির অভিজ্ঞতা কেমন তবে আমার কাছে খুবই বিরক্তিকর লাগে। এছাড়া বাদ বাকি সকল দিক একদম ঠিকঠাক আছে।

সেসা হেয়ার অয়েল ব্যাবহার করে আমি যেসব ফলাফল পেয়েছিঃ

আমি সত্যি এই হেয়ার অয়েলটি অনেক পছন্দ করি। কারণ পূর্বের দিনগুলো থেকে এটি ব্যবহারের পর যখন আমার চুলগুলো আরও মজবুত আর ঝলমলে অনুভব করেছি তখন সত্যি অনেক ভালো লেগেছে।

এই হেয়ার অয়েল এ থাকা লেমন অয়েল আপনার চুলের মাঝে ভিটামিন সি ও ই এর অভাব পূরণ করবে। সর্বোপরি আমি বলতে চাই এই হেয়ার অয়েলটি যথেষ্ট উপকারি একটি হেয়ার অয়েল হতে পারে আপনার জন্যে। তারপরেও নিজে থেকে যাচাই করে ব্যবহার করে নিবেন। চুলের যত্ন নেবার জন্য যেকোনো জায়গায় আপনি এটি পাবেন। আর রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার হয়নাই তাই নিশ্চিন্তে আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন।

অনেক কথা হল বন্ধুরা আশা করি আপনারা সবাই সেসা হেয়ার অয়েল সম্পর্কে মোটামুটি ভালো একটা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছেন। আগামী পর্বে আবার কথা হবে আপনাদের উপকারে হয়তো ভিন্ন কোন টিপস, সমস্যা-সমাধান কিংবা রিভিউ নিয়ে।

একবার ভেবে দেখুন কে না ভালোবাসে চুল কে? কে না চায় তার চুল সুন্দর শক্তিশালী এবং প্রাণবন্ত থাকুক সবসময়।

প্রত্যেকটি নারীই চায় তার চুল থাকুক ঝলমলে সুন্দর ঝরঝরে এবং প্রনবন্ত। অনেক প্রাচীন কাল থেকেই চুলের যত্নে বিভিন্ন ধরণের ভেষজ উপদান ব্যবহার হয়ে আসছে আর ইদানিং কালে তো ভেষজ রাসায়নিক বিভিন্ন ধরণের ভালো খারাপ পণ্যে বাজার ছেয়ে গেছে।

আর এইরকম পরিস্থিতিতে আপনি কি করেই বা আপনার চুল কে সঠিক ভাবে যত্ন নিবেন?? আর প্রতিদিনের এই দূষণ আর বিভিন্ন ধরণের উপাদান ব্যবহারের ফলে যখন চুলের অবস্থা আপনার নাজেহাল তখন বিব্রতকর অবস্থা আর হতাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক।

তাই আগেই বলে নিচ্ছি যখনি যাই ব্যবহার করবেন না কেন যেখান থেকেই পরামর্শ নিন বা নিজের ইচ্ছেতেই ব্যবহার করেন না কেন প্রথমেই পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করে তারপর সেই পন্যের ওপর ভরসা করবেন।

Comments

comments

Join the discussion

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।