স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৭ -রিভিউ

স্যামসাংগ্যালাক্সি এস৭ এসেছে সর্বাধুনিক সব প্রযুক্তি আর অনন্য সব বৈশিষ্ট্য নিয়ে । এটিতে রয়েছে সুপার এমোলেড টেকনোলোজি, অত্যাধুনিক স্মার্টফোন ক্যামেরা যা স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ কে এনে দিয়েছ চূড়ান্ত খ্যাতি আর স্মার্টফোনের জগতে আধিপত্য। অল্প আলোতেও উজ্জ্বল ছবি তোলার ক্ষমতা সম্পন্ন ১২ মেগা পিক্সেলের ক্যামেরা, গেম লঞ্চার সম্বলিত  এই ফোনটির পরবর্তী আপগ্রেডেশন হল স্যামসাংগ্যালাক্সি এস৭ এইজ  যা আমরা আমাদের পরবর্তী রিভিউতে লিখব ।

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এর ভাল দিক

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এর  স্ক্রিন এর অপর সাইড উন্নত মানের অ্যালয় মেটালের বর্ডারের দেয়া।

এটি হাতে ধরে রাখতে সহজ আর আরামায়ক।

স্ক্রিনটি উজ্জ্বল, আভিজাত্যময় আর দেখতে খুব সুন্দর ।

আপনি এর সাথে মাইক্রো এসডি পরিবর্তন করতে পারবেন বা নতুন যোগ করতে পারবেন।

ওয়্যারলেস পরিবর্তন যোগ্য  ।

আধুনিক উন্নত ক্যামেরা সংযোজন।

এটি  ৩০ মিনিট পর্যন্ত পানি নিরধোক যা আইপি৬৮  রেটিং এ প্রমাণিত ।

ব্যাটারির  লম্বা আয়ু আশ্চর্যজনকভাবে বেশি ।

ডিজাইন এবং ফাংশনগুলি চমৎকার।

ফিংগার প্রিন্ট সেন্সর রয়েছে।

স্যামসাংগ্যালাক্সি এস৭ এর খারাপ দিক

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এর   স্পিকারটি ছোট এবং দুর্বল

ফিংগার প্রিন্ট ম্যাগনেট

এর ব্যাটারিটি পরিবর্তনযোগ্য বা খোলা যায়না

এফ এম রেডিও ফাংশন নাই

কোন আই আর ব্লাস্টার নাই

ডিজাইনে কোন স্টেরিও স্পিকার নাই

মার্স ম্যলো অপারেটিং সিস্টেম সমসময় ধীরগতি সম্পন্ন।

মাত্র ৩২ জিবি আভ্যন্তরীণ মেমোরি ।

ব্যবহারকারীরা যা বলেনঃ

স্যামসাংগ্যালাক্সি এস৬ কে পুনরায় ডিজাইন   করার ফলশ্রুতিতে এসেছে টাচ উইজ আর ফ্লাগশীপ সম্বলিত স্মার্টফোন স্যামসাংগ্যালাক্সি এস ৭। এর ব্যবহারকারীরা এর ডিজাইন, ফিচার,উপযোগিতা,ক্যামেরা আর ব্যাটারির আয়ুর উপর ভিত্তি করে ১০ এর ভিতর সামগ্রিক ভাবে রেটিং করছেন ৯.১ ।

স্যামসাং মোবাইল এর দাম

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এর বাংলাদশ  এ মূল্য  ৭৯,৯০০ টাকা । এটি বাজারে এসেছে ২০১৬ সালের মার্চের ১১ তারিখ।

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য

  • স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এর পুরুত্ব মাত্র ৭.৯ মিমি. ওজন ১৫২ গ্রাম, অ্যালয় মেটাল আর সামনে পিছনে গ্লাস এর তৈরি, IP68  সার্টিফাইড আর কালো আর গোল্ডেন রঙের পাওয়া যাচ্ছে ।
  • অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমের দুইপাশে উন্নত মানের গ্লাস দিয়ে তৈরি ।
  • ১ ইঞ্চি কোয়াড এইচডি ডিসপ্লে, সুপার AMOLED ডিসপ্লে, কিউএইচডি (১১৪০ বাই ২৫৬০) রেজুলেসান ( ৫৭৭ পিপিয়াই),করনিং গরিলা গ্লাস ৪ দিয়ে তৈরি ।
  • শক্তিশালী ৩০০০ এএমএইচ ব্যাটারি ।
  • ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা , সামনের দিকে ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং ক্ষমতা আর লিড ফ্ল্যাশ ।
  • দ্রুত আর তারবিহীন চার্জিং ক্ষমতা ।
  • আলাদা মাইক্রো এসডি সংযোগ করা যাবে।
  • অ্যান্ড্রয়েড ৬.০.১ মার্স ম্যালো অপারেটিং সিস্টেম এর সাথে TouchWiz আর স্যামসাং পে। songjojon ache
  • ৫ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা ।
  • প্রসেসর এক্সিনজ ৮৮৯০ কোয়াড কোর ২.৫ গিগা হার্জ মুংগুজ এর সাথে ১.৬ গিগাহার্জ কর্টেক্স এ ৫৩।
  • ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানার ।

 স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এর  ডিজাইন

আপনি কি এখন পর্যন্ত গ্যালাক্সির এর ফোনটি হাতে নিয়েছেন? আমার মনে হয় এটি এই পর্যন্ত সবচেয়ে সুন্দর দেখতে এবং ছুতে আরামদায়ক ফোন। এটা দেখতে অনেক্টাই গ্যালাক্সি এস৬ এর মতো । কারণ এটি গ্যালাক্সি এস৬ এর মতো একই  কাঠামোতে উন্নত গ্লাস আর অ্যালয় মেটাল দিয়ে তৈরী । ফোনটির কর্নারের প্রান্ত বাঁকানো ।  আর এর বাঁকানো কর্নারের জন্য এটি হাতের তালুতে ধরতে সহজ।

samsung-GalaxyS7-display-design

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ আইফোন ৬ এর তুলনায় দেখতে মসৃণ আর এর ক্যামেরাটি নেক্সাস ৬পি এর তুলুনায় ভাল । প্রচুর বিক্রি আর গ্রাহকদের চাহিদার কারনে স্যামসাং তাদের গ্যালাক্সি এস৬ এবং গ্যালাক্সি এস৬ এইজ এর তুলুনায়  ২০১৫ সালে ডিজাইনে খুব বেশী পরিবর্তন করেনি। স্যামসাং এর প্রস্তুতকারীরা  তাদের ফোনের মডেলের লুক বা বৈচিত্রে প্রতি বছর বছর পরিবর্তন করে না যেটা  অ্যাপেল, এইচটিসি , এলজি বা হুয়াই করে থাকে। আপনারা হয়ত ইতিমধ্যে জেনে গেছেন যে,  সারা পৃথিবীতে মোবাইল জগতে অন্যতম সুন্দর দেখতে মোবাইল ফোন হল স্যামসাং এস৬।আর এর পরেই আছে গ্যালাক্সি এস৭ এইজ। ধারনা করা অমুলক নয় যে, ২০১৬ ফোন হল গ্যালাক্সি এস৭ এইজ।

আসুন এখন আমরা দেখি ফোনটির সামনের আর পিছনের দিকে  যা গরিলা গ্লাস ৪ দিয়ে তৈরি যার মধ্যে মেটাল রীম বাঁকানো রয়েছে ।

ফোনটিতে ডাবল বাটন রয়েছে যার ওপরদিকে লক আর স্ট্যান্ডবাই সুইচ। পরবর্তীতে আমরা গ্যালাক্সি এস৭ এর আরও তথ্য নিয়ে আপনাদের সামনে  হাজির হবো ।

এই ফোনের ক্যামেরার লেন্সটি গ্লাসবডির ফ্ল্যাশ এর সাথে বসানো হয়েছে । এটা গ্যালাক্সি এস৬ আর গ্যালাক্সি এস ৭ এইজ এর একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ।এছাড়া আপনি এই ফোনের পিছনের দিকের লক্ষ্য করলে দেখবেন এর সাইড গুলী সামান্য বাঁকানো আর এই সামান্য বাঁকানো ডিজাইনটি  গ্যালাক্সি এস৭ কে তার গ্রাহকের নিকট অতি আরামদায়ক করে তুলেছে।

Samsung-galaxy-s7-camera

আরও আছে  সত্যিকারের ফিঙার প্রিন্ট ম্যাগনেট । কিছু সময় ব্যবহার করার  পর ফোনটা ফিঙার প্রিন্ট, আঙুলের ছাপ এর জন্য  মলিন লাগবে ।

Samsung-galaxy-s7-curved-design

উপরের দিকের পাশে রয়েছে মাইক্রো এসডি  স্লট আর মাইক্রোফোন । হেড ফোনের সকেটটি রয়েছে নীচের দিকে । নীচের দিকে আরও আছে স্পীকার  আর  মাইক্রো  ইউএসবি পোর্ট চার্জ দেয়ার জন্য ।

Samsung-galaxy-s7-charger-position

গ্যালাক্সি এস ৭ এর সাইজ গ্যালাক্সি এস ৬ মতোই ৫.১ ইঞ্চি  পুরু। এর ডিজাইন , আকার আর পরিমাপের জন্য এটি ধরা বা এক হাতে অপারেট করা সহজ । এর ডান পাশে আছে পাওয়ার বা লক কী আর বাম পাশে আছে সাউণ্ড কম বেশী করার কী ।

galaxy-s7-micosdslot

আপনি ফোনটির ভিতরকার মেমোরি মাইক্রো এসডি দিয়ে ৩২ জিবি থেকে ২০০ জিবি  পর্যন্ত বাড়াতে পারবেন আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ।

Samsung-galaxy-s7-microphone-microsd-slot

গ্যালাক্সি এস ৭ ফোনটি আইপি ৬৮ পানি নিরোধক  আর তাই এটি ৫ ফুট পানির নীচে ৩০ মিনিট থাকলেও অক্ষত থাকেবে । একই  সাথে মাইক্রো ইউএসবি  পোর্টটিও পানি নিরোধক  ।

আইপি ৬৮ রেটিং  মানেই হল আপনি যদি গ্যালাক্সি এস ৭ কে ১ মিটার পানির নীচে ৩০ মিনিট ডুবিয়ে রাখেন এটি অক্ষত থাকবে । কিন্তু সমস্যা হল গ্যালাক্সি এস ৭ চার্জ হবে না যদি এর চার্জপোর্ট এর ভিতর কোন পানি থাকে । সুতারং  চার্জ দেয়ার আগে চার্জপোর্ট ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে ।

 

samsung-galaxy-s7-

স্যামসাংকে গ্যালাক্সি এস ৭  এর  জন্য এর ডিজাইন নূতন করে করতে হয়নি কারণ গ্যালাক্সি  এস ৬ এইজ  অসাধারণ সুন্দর করে  ডিজাইন করা হয়েছে আর এস৭, এস ৬ এইজ  এর উপর আর একটু উন্নত করেই তৈরি করা হয়েছে।  স্যামসাং এর স্ক্রিন এ বাইডিফল্ট ঘড়ি, তারিখ নূতন টেক্সট ম্যাসেজ এর সংখ্যা, ব্যাটারির লেভেল, মিসড কল আর ক্যালেন্ডার দেখায় ।

এতো কিছুর পরেও আপনি হোয়াটঅ্যাপ আর ফেইসবুক মেসেঞ্জার এর নোটিফিকেশাণ এর আইকণ  বাইডিফল্ট দেখতে পাবেন না ।গ্যালাক্সি এস ৭  এর সর্বদা অন বা চালু এই বৈশিষ্ট্যটি দারুণ । আপনি ইচ্ছা করলে এটি বন্ধ করে রাখতে পারেন। স্যামসাং এর মতে সর্বদা অন বা চালু এই বৈশিষ্ট্য টি  প্রটি ঘণ্টায়  মাত্র ১% এরও কম ব্যাটারি ব্যবহার করে।

ক্যামেরা

ছবি তোলার জন্য অল্প আলোতেও এস৭ আইফোন ৬এস এর চাইতে অনেক ভালো। ছবি অনেক উজ্জ্বল। সত্য কথা বলতে কি এই অতি দামী ফোনটি ছবি তোলার সময় ডিজিটাল সাউণ্ড হয় যদিও শব্দ অনেক নিচু। এস৭ এ আছে অপটিকাল ইমেজ  এশটা এসটাবিলাইজার যা ছবিকে ব্লার হওয়া থেকে রক্ষা করবে ।

camera

স্যামসাং এর আগের মডেল যেমন  এস৬ এর ক্যামেরাও দারুণ। সাম স্যামসাং এর অন্য মডেল এর ফোন গুলির ক্যামেরার কোয়ালিটিও খুব চমৎকার । .

এস ৬ এর ১৬ মেগাপিক্সেল এর পরিবর্তে এস৭ এ রয়েছে ১২ মেগা পিক্সেল এর ক্যামেরা। মানে হল নূতন এস ৭ মডেলে পিক্সেল কমেছে।

আমি আরও খুশী এজন্য যে, আমার এই অতি পছন্দনীয় ফোনটিতে রয়েছে ডূয়াল পিক্সেল সেন্সর। গ্যালাক্সি এস ৭ আর এস ৭  এইজই প্রথম ডূয়াল পিক্সেল সেন্সর ব্যবহার করলো যে প্রযুক্তিটি আসলে ডিএসএলআর ক্যামেরার জন্য তৈরি করা হয়েছে। আপনি এই ফোনের ক্যামেরার সাহায্যে দ্রুততর ওটো ফোকাশ আর উজ্জ্বল ভালো কোয়ালিটির ছবির শট নিতে পারবেন ।

Camera-focus-galaxy-s7

ক্যামেরা অ্যাপ এর মধ্যে রয়েছে ভলিউম কী , অণ স্ক্রিন সাটার কী। ছবি তোলার জন্য  এই গ্যালাক্সি  এস৭ এ রয়েছে অনেক অনেক রকমের মোড আর এফেক্ট।  তার মধ্যে  স্যামসাং এর অটো মোড সবচেয়ে উত্তম । মোড এর মধ্যে আছে প্যানারোমা, সিলেক্টীভ ফোকাস , শ্লো মোসান ইত্যাদি । ভিডিও যোগ করা হয়েছে ফূড আর হাইপার ল্যাপস দিয়ে।

Camera-options-on-samsung-galaxy-s7

 

স্যামসাং এর গ্যালাক্সি এস৭ এ  মোসান পিকচার আর মোসান প্যানোরোমা যোগ করেছে । মোসান পিকচার প্রথম যোগ করা হয় আইফোণ  ৬এস আর ৬ এস প্লাস এ ।

Camera-options

সুতারং এটা বলা যায়  যে, এস৭ অ্যাপলের ফোন থেকে খুব বেশী দুরে নেই। এরপর আমরা গ্যালাক্সি এস৭ আর আইফোণ ৬এস এর তুলনামুলোক আলোচনা করবো।

মাইক্রো এস ডি স্লটএর বৈশিষ্ট্য

স্যামসাং এর গ্যালাক্সি এস-৭ একটি ফ্লাগশীপ ডিভাইস । কিন্তু , স্যামসাং গ্যালাক্সি এস-7 এর ভিতরে ৬৪ জিবি বা ১২৮ জিবি আভ্যন্তরীণ মেমোরি নেই  যা ছিল এস ৬ এ । এজন্যই আপনি মাইক্রো এসডি স্লট যুক্ত করতে পারেন যা ৩২ জিবি  বীল্ট ইন মেমোরি  তবে এটি ২০০ জিবি পর্যন্ত স্লট কার্ড সাপোর্ট করে। স্যামসাং গ্যালাক্সি গ্র্যান্ড প্রাইম, স্যামসাং গ্যালাক্সি জে৫, স্যামসাং গ্যালাক্সি কোর প্রাইম এ সুবিধা উপস্থিত নেই

 কি কি করতে পারি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস-7 এ-

গেমিং

স্যামসাং গ্যালাক্সি ৫.১ ইঞ্ছি সুপার AMOLED ডিসপ্লে এটকে অত্যাধুনিক গেমিং ডিভাইস এ পরিনত করেছে। আপনি অতি সহজেই গেম আপলোড করতে পারবেন যাআপনার ফোনটিকে ধীরগতি সম্পন্ন করে দেবেনা। গেম  লঞ্চার  সত্যি গ্যালাক্সি এস৭ আর গ্যালাক্সি এস৭ এইজ এর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য ।

GameLauncher-of-galaxy-s7

আপনি যখনই কোনও গেম ডাউনলোড করবেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি গেম লঞ্চার   ফোল্ডারে যোগ হবে । আপনি যেকোনো গেম যোগ বা বিয়োগ করতে পাড়েন। গেম লঞ্চার এর মাধ্যমে আপনি ন্যাভিগেশন কে লক করতে পারেন ব্যাক,হোমে বা মাল্টি -টাসকিং এ।

GameLauncher-work

গেম খেলার সময় আপনি  নোটিফিকেশন ডিজঅ্যাবেল করে রাখতে পারেন ।এই গেম লঞ্চার দিয়ে ন্যাভিগেশন কী কে লক করে রাখা যায় ।

GameLauncher-galaxy-s7-options

অতীতে অনেকবার আমাকে এই কাজটি  বার বার করতে হয়েছে।  এখন এই ফাংসান টি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৭ এ থাকায় আমি ভীষণ খুশী । এটা খুব দরকারি আর কার্যকরী ।

মুভি এবং টিভি

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৭ এ নিজস্ব কোণো ভিডিও প্লেয়ার  অ্যাপ নেই। কিন্তু  মুভি ও টিভি  দেখার জন্য আপনাকে গ্যালারী অ্যাপ দিয়ে মুভি লাই ব্রেরীতে   এ প্রবেশ করতে হবে। আপনার ফোনে  অথবা  গুগল এর প্লে মুভি এবং টিভি তে গিয়ে আপনি আপনার কেনা কণণ্টেণ্ট  উপভোগ করতে পারবেন।  আবার,আপনি সর্বশেষ  রিলিজকৃত মুভি বা টিভি শো এনজয় করতে পারবেন।

একটি কষ্টকর ব্যাপার হল এর স্পীকারটি হ্যাণ্ডসেট এর নীচের  দিকে অবস্থিত আর যার জন্য  আপনার হাতে এটি চাপা পড়ে শব্দ শুনতে বাঁধার সৃষ্টি হতে পারে ।

মিউজিক

ফোনটির অডিও কোয়ালিটি খুবই মনোমুগ্ধকর যখন আপনি হেডফোন ব্যবহার  করবেন । তবে , ভিডিও চলার সময় আভ্যন্তরীণ স্পীকার চালু থাকায় প্লেব্যাক একটু নিচু্ হয়ে যায় । এস৭  গুগল এর মিউজিক অ্যাপ এর সাহায্যে  মিউজিক প্লেয়ার ব্যবহার করে।

সবসময়য় চালু থাকার বৈশিষ্ট্য (Always on features)

আমি  সত্যিই স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৭এর সবসময়য় চালু থাকার বৈশিষ্ট্যে মুগ্ধ। এছাড়া একই সাথে সব সময়য় চালু থাকার সাথে সাথে স্যামসাং এর স্ক্রিন এ বাইডিফল্ট ঘড়ি, তারিখ নূতন টেক্সট ম্যাসেজ এর সংখ্যা, ব্যাটারির লেভেল, মিসড কল আর ক্যালেন্ডার দেখায় । এল জি  এর জি ৫ এও একই ফিচার রয়েছে।

ব্যাটারির লম্বা আয়ূ

আর স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৭ এ ৩০০০ এমএএইচ  শক্তি সম্পন্ন  ব্যাটারি সংযুক্ত করেছে যা গ্যালাক্সি এস ৬ এ ছিল ২৫৫০ এমএএইচ  । ব্যাটারিগুলি সত্যি আগের তুলনায় বড় আর শক্তিশালী । ক্যামেরার পর অন্য যে ফিচারটি এই ফোনের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তা হল এর ব্যাটারির আয়ূ।  একটি ফুল ব্যাটারি দিয়ে সারাদিন অনেক বেশী এই ফোনটি নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায় । চার্জিং টাইমেও আপনি ভীষণ খুশী হবেন। অল্প সময়ে তার দিয়ে বা তার ছাড়া আপনি চার্জ দিতে পারবেন।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে  পারে যে, একবার  চার্জ দিয়ে  সারাদিন ফোনটি ব্যবহার করা যাবে কিনা । হ্যাঁ , অবশ্যই যাবে। দুই দিন যাবে না কিন্তু এক দিন যাবে। এর মধ্যে আপনি অনেক বেশী কথা বলার পাশাপাশি  গেম খেলা বা অন্যান্য কাজের পরেও ৫% চার্জ থেকে যাবে ।

সিএনইটি টেস্ট এর মাধ্যমে দেখা গেছে যে, এস৭ এ ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত  চার্জ থাকে । একই টেস্টে আইফোন এর স্কোর হল ১০ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ।

ফিঙ্গার প্রিন্টস্ক্যানার

স্যামসাং এর এস ৬ অথবা নোট ৫ এর চেয়ে এই ফোনটির ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর অনেক বেশী দ্রুততর। স্যামসাং আসলে তাদের পূর্ব ফোনগুলির চেয়ে এই ফোনের  ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর কে উন্নত করেছে।

গ্যালাক্সি এস ৭ আন বক্সিং

নূতনভাবে ডিজাইন করা  বক্সের উপরে উজ্জ্বল রঙে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ লেখা থাকে। আসল বক্সটি আর একটি ফ্লাপ বক্স দিয়ে কভার করা থাকে। অতএব আপনাকে আগের বক্সের মতো টাইট ফিটিং বক্স টেনে তোলার ঝামেলা  আর করতে হবে না ।

GalaxyS7_Unboxing

গ্যালাক্সি এস ৭ এর হার্ড ওয়্যার ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য

গ্যালাক্সি এস ৭ এর আয়তন হল ১৪২.৪ বাই৬৯.৬ বাই৭.৯ মিমি. যা গ্যালাক্সি এস ৬ এর চাইতে ছোট এবং সরু । গ্যালাক্সি এস ৬ এর আয়তন  হল ১৪৩.৪ বাই ৭০.৫ বাই ৬.৮ মিমি. । গ্যালাক্সি এস ৭ এর ওজন হল ১৫২ গ্রাম  আর গ্যালাক্সি এস ৬ এর ওজন হল ১৩৮ গ্রাম। তার মানে হল গ্যালাক্সি এস ৭ একটু ভারী কিন্তু আপনি সেটা অতটা বুজতে পারবেন না।

 গ্যালাক্সি এস এর  শেষ কথা

গ্যালাক্সি এস ৭ ফোনটি দামী কিন্তু এর কার্যকরীতর  জন্য এটাই স্বাভাবিক এটি অত্যাধুনিক একটি স্মার্টফোন । ব্যাটারির আয়ূ এস৬ তুলনায় ভালো তারপরেও গ্যালাক্সি এস ৭  এ রাতে আপনার চার্জ দিতে হবে এবং এলজি  এর জি ৫ এর মতো এর ব্যাটারিটি  সংযোজন যোগ্য নয় ।

 এর মাইক্রো এসডির  সাপোর্ট আরও আধুনিক আর উন্নত । তবে, সারসংক্ষেপ  হল গ্যালাক্সি এস ৬ এর তুলনায় এস৭ সব ক্ষেত্রেই  উন্নত আর পৃথিবী বিখ্যাত ফোন গুলির মধ্যে এটি অন্যতম । যদি আপনার বাজেটে সমস্যা না থাকে তবে আপনি এটি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আধুনিক সময়ের সাথে থাকার জন্য। আপনি  ছোটো আকারের স্যামসং গালক্সী এস৭ ও  স্যামসং গালক্সী এস৭ এইজ এর রিভিউ পড়তে পারেন এখানেই samsung galaxy s7 and samsung galaxy s7 edge । আর এখন থেকেই তৈরি হন গ্যালাক্সি  এস৮ এর জন্য।

বাংলাদেশ সম্প্রতি  স্যামসং গালক্সী জে নেক্সট ফোন টিও ভীষণ আলোচিত এটির  সম্পর্কে আপনি ধারনা নিতে পারেন

সামসাং গ্যালাক্সি এস ৭ এর স্পেসিফিকেশন

প্রস্তুত কারক -স্যামসাং

ডাইম্যানসান-১৪২.৪ বাই ৬৯.৬  বাই ৭.০ মিমি.

ওজন -১৫২ গ্রাম

ব্যাটারি সাইজ- ৩০০০ এমএএইচ

স্ক্রিন সাইজ- ৫.১ ইঞ্চি

ডিসপ্লে  প্রযুক্তি-  -এমোলেড

সামনের ক্যামেরা -৫ মেগা  পিক্সেল

রিআর ক্যামেরা -১২ মেগা  পিক্সেল

ফ্লাশ লাইট -ডূয়াল লিড

অ্যান্ড্রয়েড ভারসান -৬.০.১ মার্সম্যালো

ইউজার ইন্টার ফেইস -টাচউইজ

রেম -৪ জিবি

ইন্টারনাল স্টোরেজ -৩২ জিবি ও  ৬৪ জিবি

সরানোযোগ্য স্টোরেজ-মাইক্রো এসডি

চিপ সেট স্যামসং এক্সী নজ ৮৮৯০

কোয়ালকম’স স্নাপ ড্রাগন ৮২০ প্রসেসর

কোড় সংখ্যা -৮ ও ৪

সর্বোচ্চ  স্পীড – ২.৬ গিগাহাডর্জ  ও ২.১৫ গিগাহাডর্জ

কানেকটিভিটি- এইচএসপিএ,  এলটিই ,এনএফসি, ব্লু টুথ ৪.২

 

Comments

comments

Join the discussion

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।