ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ (Yamaha R15 V3 )

ইয়ামাহা আর১৫  ভি৩ (Yamaha R15 V3 )


Yamaha R15 V3 ভার্সনটি আর১৫ এর সবচেয়ে প্রতীক্ষিত আপডেট গুলোর একটি। ইয়ামাহা আর১৫ ১৫০সিসি সেগমেন্টের সবচেয়ে সফল স্পোর্টস বাইক।

ইয়ামাহা নতুন বাইক, ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ হচ্ছে আর১৫ সিরিজের একটি যোগ্য আপগ্রেড।

ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ (Yamaha R15 V3 )

বাইকটি ৩টি রঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে, রেসিং ব্লু, ম্যাট ব্ল্যাক, ম্যাট রেড। এই স্পোর্টস বাইকটি বেশ মজবুত এবং দেখতেও খুব বাল্কি ।

ইয়ামাহা আর১৫  ভি২ দীর্ঘদিন ধরে পুরানো ডিজাইনটি ধরে রেখেছে তাই, একই প্রাইস রেঞ্জের মধ্যে ইয়ামাহাকে যেহেতু হোন্ডা সিবিআর ১৫আর

এবং পালসার  এর সাথে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সেহেতু ভি৩ কে বেশ চমৎকার একটা আপগ্রেড দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

Yamaha R15 V3 প্রাইস

Tk 550,000

 

 স্টাইলিশ, দেখতে এরোডাইনামিক এবং স্লিকার এলইডি হেডল্যাম্প ইয়ামাহার আর৬ এর ডিজাইন থেকে সরাসরি নেয়া হয়েছে।  ১৫০সিসি সেগমেন্টের বাইকগুলোর মধ্যে ইয়ামাহার সবচেয়ে বেষ্ট ডিজাইনটি হল আর১৫ ভি৩ ।

 যদিও এই সেগমেন্টের মধ্যে ইয়ামাহার এই বাইকটি অনেক প্রতীক্ষিত ছিল তারপরও মডেলটিতে এবিএস এর না থাকাটা অনেকটা হতাশাজনক।

ডিজাইন এবং স্টাইল

ইয়ামাহা আর১৫ ৩.০ ভার্সনটি আপডেট করার মাধ্যমে বাইকপ্রেমীদের ইমপ্রেস করার জন্য চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখে নি। স্টাইলিং বেশ চমকপ্রদ এবং ১৫৫সিসি এর লুকের বেশিরভাগটাই ইয়ামাহার অন্যান্য বাইক অর্থাৎ ইয়ামাহা আর১ এবং ইয়ামাহা আর৬ থেকে নেয়া হয়েছে।

yamaha-r15-v3-productreviewbd

বাইকটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে দেখতে আকারে অনেক বড় লাগে। এই বাজেট স্পেসের মধ্যে আসা সবচেয়ে এরোডাইনামিক বাইকগুলোর মধ্যে এটি একটি। বাইকটির ফেয়ারিং একে একটি হৃষ্টপুষ্ট চেহারা দিয়েছে।

এর ব্যাক সাইড এবং ফুয়েল ট্যাঙ্কও সরাসরি ইয়ামাহা আর১ এবং আর৬ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয়েছে।

রাউন্ডার ভিজরও বাইকটিকে এরোডাইনামিক এবং আকারে বিশাল চেহারা দিয়েছে। বাইকটির শার্প এলইডি হেডল্যাম্প স্টায়লিশ ইয়ামাহা আর১৫ ভার্সন ৩ এর সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফ্রন্টের এয়ার ইনটেক কে আরো প্রশস্ত করা হয়েছে যার নেয়া হয়েছে মূলত ইয়ামাহা আর১২৫ এর ডিজাইন থেকে।

ওভারঅল ক্লাস স্টাইলের সেরা প্রিমিয়াম লুকের স্পোর্টস বাইক এটি। আসল বিষয় হলো ইয়ামাহা আর১৫ ভার্সন ৩ বাইকটিতে বেশ আন্তর্জাতিক ফিল পাওয়া যায়

ইঞ্জিন এবং গিয়ারবক্স

কেবলমাত্র ফ্রন্ট সাইডের ডিজাইনেই নয়, ইয়ামাহা আর১৫ ভার্সন ৩ ভার্সন ২ এর তুলনায় পাওয়ারেও আপগ্রেড হয়েছে।

নতুন আর১৫ এ ১৫৫.১ সিসি সিঙ্গিল সিলিন্ডার ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে যেটা ১০,০০০ আরপিএম এ সরবোচ্চ ১৯.০৪ বিএইচপি শক্তি উৎপাদন করতে পারে এবং

৮৫০০ আরপিএম এ সরবোচ্চ ১৪.৭ এনএম টর্ক সরবরাহ করতে পারে। এটা ভি২ এর চেয়ে অনেকটায় বেশি কারন ভি২ সরবোচ্চ ১৬.৮ বিএইচপি শক্তি উৎপাদন করতে পারে।

এক্সিলারেশন এবং পারফর্মেন্স

ইয়ামাহার নতুন ভার্সন ইয়ামাহা আর১৫ এর পারফর্মেন্স এর পূর্ববর্তী ভার্সনের চেয়ে বেশ কিছুটা ভালো বলতে হয়।

বাইকটি ভার্সন ২.০ এর তুলনায় উচ্চ মানের। যদিও বাইকটিকে একটি নতুন চেহারা দেয়া হয়েছে এবং এর রাইডিং ও আরামপ্রদ।

এই সেগমেন্টের বাইকগুলোর মধ্যে মার্কেটে এই মডেলটিই সবচেয়ে জনপ্রিয়। বাইকটির ফুয়েল ইঞ্জেকশন ইঞ্জিনটি বেশ ভালোই পারফর্মেন্স দিচ্ছে এবং

সমস্ত নতুন ভ্যারিয়েবল ভ্যালু একচুয়েশন(ভিভিএ) সমস্ত আরপিএম লেভেলেই ইঞ্জিনকে সঠিক পরিমানে পাওয়ার জেনারেট করতে সাহায্য করে।

 

ইন্সট্রুমেন্ট কনসোল

ইয়ামাহা আর১৫ ভার্সন ৩.০ তে ইন্সট্রুমেন্ট কনসোলের জন্য ষড়ভুজাকৃতির স্ক্রিন রয়েছে।

বাইকটিতে ইন্সট্রুমেন্ট কনসোলের সবকিছুই ডিজিটাল। বাইকটি প্রজুক্তিগত হলেও এতে নান্দনিক মান যোগ করা হয়েছে।

এলইডি ইনডিকেটর গুলো এখানেও রাখা হয়েছে যেটি ভিন্ন মাত্রার আকর্ষণ জাগায় বাইকটির প্রতি। কনসোলে ডিজিটাল স্পিডোমিটার, ওডোমিটার, টেকোমিটার, ফুয়েল গেজ ইত্যাদি রয়েছে।

মাইলেজ এবং সেফটি

স্পোর্টস বাইক ব্যবহারকারীদের একট প্রিমিয়াম ফিল দেয় কিন্তু ফুয়েল ইফেসিয়েন্সি এই সেগমেন্টের জন্য একটি প্রধান উদ্বেগের  কারন হয়ে দাঁড়ায়।

বাইকটি কোথাও কোথাও প্রায় ৩৫-৪৫ কিলোমিটার মাইলেজ দিতে পারে এবং সেতা ১৫৫সিসি বাইকের জন্য যথেষ্ট। এর ডুয়াল এলইডি হেডল্যাম্প রাস্তায় দারুন ভিজিবিলিটি দিতে সক্ষম।

যদিও বর্তমানের এন্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম সুবিধাটি বাইকটিতে পাওয়া যাবে না।

 

ব্রেক এবং সাসপেন্সান

আর১৫ ভার্সন ৩ এর ফ্রন্টে রয়েছে ইউএসডি টেলেস্কোপিক ফরক এবং রিয়ারে রয়েছে মনো-শক সাসপেন্সান।

যে সকল বাইকগুলোতে পারফর্মেন্স এবং কমফোরট নিশ্চিত করাটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয় সেগুলোতে সাধারানত এই ধরনের সাসপেন্সান ব্যাবহার করা হয়।

ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ এর ডিস্ক ব্রেককেও আপগ্রেড করা হয়েছে। এই বাইকটিতে পুরোনো মডেলের বাইকের ২৬৭ মিলিমিটার ফ্রন্ট ডিস্ক এবং ২২০ মিলিমিটার রিয়ার ডিস্ক ব্রেকের তুলনায় ২৮২ মিলিমিটার বড় ফ্রন্ট ডিস্ক এবং ২৪০ মিলিমিটার বড় রিয়ার ডিস্ক ব্রেক রয়েছে।

যেটাকে সেফটির জন্য খুব ভালো আপগ্রেড বলতে হবে।

 

টায়ার, হ্যান্ডলিঙ্ক এবং শেড

ইয়ামাহা আর১৫ এ ১৩২৫ মিলিমিটার হুইলবেজ রয়েছে এবং ১০০/৮০-১৭এম/সি ৫২পি (100/80-17M/C 52P)দিয়ে ফ্রন্ট এবং ১৪০/৭০-১৭এম/সি ৬৬ এস (140/70-17M/C 66S)দিয়ে রিয়ার সাজানো হয়েছে।

রাস্তায় বাইকটি অসাধারণ গ্রিপ নিশ্চিত করে যেটা মূলত এই ধরনের রেস ট্র্যাক বেজড মডেল গুলোর জন্য খুব প্রয়জনীয় একটি বিষয়।

বাইকটির হ্যান্ডলিং এবং রাইডিং ও আরোহীকে একটি চমৎকার প্রিমিয়াম ফিল দিবে। ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ ৩টি আকর্ষণীয় রঙ্গে পাওয়া যাচ্ছেঃ রেসিং ব্লু, ম্যাট ব্ল্যাক এবং ম্যাট রেড।

 

শেষ কথা

সর্বোপরি বাইকটিতে মজবুত গড়ন এবং স্টাইলিশ টেল ইন্ড এর সাথে দারুন রকম আপ মার্কেট ফিল রয়েছে।

বাইকটি একটি রেসট্যাক মেশিন এবং পারফর্মেন্সের যতগুলো দিক রয়েছে সাম্ভাব্য তার সব গুলোই দিয়ে থাকে।

বাইকটিকে একটি দীর্ঘ সময় পর ইয়ামাহার সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মডেল হিসেবে দেখা যেতে পারে। ইয়ামাহার ফ্যানরা বাইকটিকে এর একটি যোগ্য আপডেট হিসেবে দেখতে পাবেন, যদিও মডেলটিতে এবিএস এর না থাকাটা খুবই হতাশাজনক।

বাইকের এবিএস অপশন  হোন্ডা সিবিআর ১৫০আর (Honda CBR150R) এবং সুজুকি জিএসএক্স আর১৫০ (Suzuki GSX-R150) এর সাথে প্রতিযোগীতায় ইয়ামাহা আর১৫  ভার্সন ৩.০ কে উচ্চ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারত।

২০১৭ সালের নতুন ইয়ামাহা বাইক, ইয়ামাহা এফ জেড এস,এফজেড এফআই

নতুন ইয়ামাহা বাইক, Yamaha Vixion 2017 Edition লঞ্চ হয়েছে

ইয়ামাহা আর ১৫ ( Yamaha R15) নাকি হোন্ডা সিবিআর(Honda CBR) ?

Comments

comments

Join the discussion

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।