ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ (Yamaha R15 V3) বনাম ইয়ামাহা আর১৫ ভি২( Yamaha R15 V2)

ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ (Yamaha R15 V3) বনাম ইয়ামাহা আর১৫ ভি২( Yamaha R15 V2)


কয়েকমাস আগে ইয়ামাহা নতুন বাইক, ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ ইন্দোনেশিয়াতে লঞ্চ হয়েছে। কম ওজনের সুপার স্পোর্ট সিরিজের মধ্যে এটিই সবচেয়ে পাওয়ারফুল ভার্সন, ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ এর স্টক ভার্সনের মত অন্য কোন ভেরিয়েন্টই এতটা পাওয়ার আউটপুট করতে পারে না।

প্রকৃতপক্ষে, এর তৃতীয় সংস্করণে পরিবর্তনের তালিকাটি বিশাল, এত দীর্ঘ সময় পরে বলতে গেলে মোটরসাইকেলের প্রায় সব দিককেই কভার করতে পেরেছে।

yamaha-r15-v3-productreviewbd

ইয়ামাহা বাইক দামঃ

প্রিমিয়াম লুক এবং দারুন চমৎকার ফিচার ঠাসা রয়েছে ইয়ামাহার বাইক দুটিতে। বাইকপ্রেমীদের জন্য অন্যতম একটি আকর্ষণ এই দুটি বাইক। ফিচার সমৃদ্ধ এবং এরোডাইনামিক, প্রিমিয়াম লুকের এই বাইক দুটির দামও কিছুটা বেশি।

ইয়ামাহা আর১৫ ভি২ এর দাম বাংলাদেশে প্রাই ৪,৮০,০০০ টাকা হতে পারে অপরদিকে ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ এর দাম আরো খানিকটা বেশি হবে, প্রায় ৫,৫০,০০০ টাকা।

 

এখানে আমরা ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ এর সাথে আর১৫ ভি২ এর তুলনামুলক আলোচনা করবো, অর্থাৎ দেখবো দুটির মাঝে কি কি পার্থক্য বা নতুনত্ব রয়েছে।

চলুন তাহলে শুরু করিঃ

ডিজাইনঃ

ডিজাইন নিয়ে বলার শুরুতেই বলতে হয় ইয়ামাহা আর১৫ ভি২ এর ডিজাইন সব দিক দিয়ে বেশ চমৎকার।

ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ (Yamaha R15 V3)

এই নতুন মোটরসাইকেলটির ডিজাইন ফ্ল্যাগশিপ ইয়ামাহা আর১ এবং এবং রেস স্পিক আর৬ থেকে ভীষনভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে করা হয়েছে যার কারনে এই ৩টি বাইকের মধ্যে অনেককিছুই একইরকম দেখতে পাওয়া যায়।

ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ বেশ আধুনিক যেখানে আর১৫ ভি২ দেখতে অনেকটা পুরানো স্কুল রেস ডিজাইনের মতো যা পরবর্তী প্রজন্মের আর১ এর সাথে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

ফুয়েল ট্যাঙ্ক এখন দেখতে সাইজে বেশ বড় মনে হলেও অরজিনাল ভার্সনের তুলনায় এখনো ১ লিটার তেল কম ধরে।

 

২। হেডলাইটঃ

 ইয়ামাহা আর১৫ এর আরো একটি বড় বিষয় হলো এর হেডলাইট। আর১৫ ভি২ এর বিশাল এক জোড়া হ্যালোজেন ইউনিটের যায়গায় থার্ড জেনারেশন  মটরসাইকেলটিতে রয়েছে এক জোড়া এলইডি হেডলাইট।

নতুন হেডলাইট গুলি মসৃণ, ডিজাইনারকে বাতাস চলাচল এবং ওজন কমানোর জন্য যাইয়া বাঁচাতে সাহায্য করেছে।

এলইডি হওয়ার করনে লাইটদুটি একসাথে কাজ করলেও ব্যাটারি থেকে পাওয়ার খরচ কম করে।

আর১৫ ভি২ এর ফ্রন্ট সাইডের লুক কিছুটা নাক উচু মত হওয়ায় ভি৩ এর ফ্রন্টে কিছুটা এরোডায়নামিক, ম্যাচিউর লুক দেয়া হয়েছে যেটা অবশ্য এই ধরনের হেডলাইট ছাড়া সম্ভব ছিলো না।

 

৩। ইঞ্জিনঃ

ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ তে রয়েছে ১৫০সিসি সেগমেন্টের এই যাবত পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ইঞ্জিন।

১৫৫.১সিসি, সিঙ্গিল সিলিন্ডার, লিকুইড কুলড, ফুয়েল ইঞ্জেকশোন মটর ১০,০০০ আরপিএম এ ১৯.০৪বিএইচপি এবং ৮,৫০০  আরপিএম এ ১৪.৭ এনএম টর্ক সরবরাহ করার জন্য ভালো।

ইঞ্জিনটি ৬ স্পিড গিয়ারবক্সে কাজ করে। বর্তমান জেনারেশন আর১৫ (১৬.৮ বিএইচপি এবং ১৫ এনএম) এর তুলনায় আর১৫ ভি৩ এর যোগ্যতা অনেক সন্তোষজনক।

 

৪। স্লিপার ক্ল্যাচঃ

ইয়ামাহা আর১৫ ভার্সন ৩ এর ৬ স্পিড গীয়ারবক্স ট্র্যাকে আরো ভালো পারফর্মেন্স দেয়ার জন্য স্লিপার ক্ল্যাচের সাথে যুক্ত হয়ে যায়।

স্লিপার ক্ল্যাচের অপরনাম হলো ব্যাক টর্ক লিমিটার, মাত্র এই ৩টি শব্দ দ্বারাই যন্ত্রটির কার্যকারিতা সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।

এটি ডি-এক্সিলারেশন চলাকালীন সময়ে ইঞ্জিনের ব্রেকিংয়ের প্রভাবকেই কেবল দূর করে না, এর ফ্রিহুইল মেকানিজম পেছনের চাকাকে একটি যায়গায় থামিয়ে রাখতেও সাহায্য করে।

যখনই রিয়ার হুইল তার লিমিটের চেয়ে অতিরিক্ত ইঞ্জিনকে পুশ করতে শুরু করে তখনই আরোহী এবং মটরসাইকেলটিকে সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে বাঁচাতে ক্ল্যাচটি নিজে থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

 

৫।ভিভিএঃ

ইয়ামাহা আর১৫ ভার্সন ৩ তে ভিভিএ টেকনোলোজি দিয়ে সাজানো হয়েছে। এর পূর্ণ রুপ হলো ভ্যারিয়েবল ভ্যালু একচুয়েশন, এই প্রজুক্তিটি কম স্পিড এবং বেশি স্পিড রেঞ্জের জন্য ইনটেক ক্যাম লবস নির্বাচন করে।

সিফটিং পয়েন্ট (এক্ষেত্রে ৬০০০ আরপিএম) হিসেবে একটি নির্দিষ্ট আরপিএম থাকে এবং এর ফলস্বরূপ উভয় প্রান্তই লিনিয়ার এক্সিলারেশনে থাকে।

এটা আরোহীকে রেভ রেঞ্জের নিম্ন প্রান্ত এবং উচ্চ প্রান্ত উভয় দিকেই সমান অনুপাতের শক্তি পাওয়ার অনুভূতি উপভোগ করতে সহায়তা করে।

সেটআপ থেকে যদি ভিভিএ কে সরিয়ে দেয়া হয় তবে এটা নিশ্চিত যে আরোহীকে একটি নির্দিষ্ট এরপিএম লিমিটের উপরে বাইকটি চালাতে হবে।

৬। সাসপেন্সনঃ

২০১৭ সালের ইয়ামাহা আর১৫ এর মডেল আর১৫ ভি৩ তে রেগুলার সাসপেন্সান এর পরিবর্তে নতুন ইউএসডি ফ্রন্ট ফরক ব্যবহার করা হয়েছে।

আপসাইড ডাউন ফরক এর সুবিধা হলো এটি হ্যান্ডলিংকে ইমপ্রুভ করে, অধিক নির্ভরযোগ্যতার জন্য বড় স্লাইডার এবং হার্ড ব্রেকের পরে হাই ক্যাপাসিটির মোটরসাইকেলগুলোতে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করতে সাহায্য করে।

ইউএসবি ফরক গতানুগতিক ফরকগুলোর চেয়ে সব দিক থেকেই উন্নত এবং হালকা।

যখন আমরা ব্রেক করি তখন মোটর সাইকেল বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু সব ধকল সাসপেনশনের উপর দিয়ে যায় কারণ এটি হলো টায়ার এবং বাকি অংশের মধ্যে সংযোগের অংশ।

 

৭। ইন্সট্রুমেন্ট কনসোলঃ

ইয়ামাহা আর১৫ ভি২ এর কনসোল এই সেগমেন্টের বাইকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে চমৎকার। এখুনো প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় ফিচার কিছু কম আছে যার কারনে থার্ড জেনারেশনের মডেল গুলোতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট কনসোল ব্যবহার করা হয়েছে।

ভি৩ এর কনসোলে এখন ফিচারগুলো হলো ইন্সট্যান্টেনাশ মাইলেজ, এভারেজ ফুয়েল ইউজড, গিয়ার শিফট ইনডিকেটর, ডিজিটাল টেকোমিটার এবং ভিভিএ ইনডিকেটর।

 

৮। শেডঃ

 ইয়ামাহা আর১৫ ভি২ তার লঞ্চের প্রথম থেকেই উজ্জ্বল শেডের জন্য সুপরিচিত।

প্রায় এক দশক ধরে প্রতি বছরই তারা সক্রিয় ভাবে রঙের খেলা খেলে আসছে, মোটর সাইকেলগুলিতে এক জোড়া নতুন শেডের দেখা পাওয়া জেত।

এইবার ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ তার বডি প্যানেলের জন্য ২টি ম্যাট এবং একটি উজ্জ্বল শেড নিয়ে এসেছে।

রেসিং ব্লু কে গ্লস ফিনিস দেয়া হয়েছে যেখানে ম্যাট শেড প্রেমীদের জন্য রয়েছে দুটি বিকল্প, কালো এবং লাল।

 

৯। টায়ারঃ 

বর্তমানের ভার্সন গুলোর তুলনায়  ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ উন্নতমানের টায়ার ব্যবহার করে। ভি৩ এর ফ্রন্ট টায়ারের মাপ হলো ১০০/৮০-১৭ যেখানে রিয়ারের টায়ার কিছুটা আকারে বড়, ১৪০/৭০-১৭।

পুরোনো ভার্সনের তুলনায় আর১৫ এর নতুন উন্নত হাই পারফর্মেন্স ইঞ্জিন রিয়ার হুইলের জন্য অনেক বেশি পাওয়ার সরবরাহ করতে পা্রে আর এটা বাইকটির অন্যতম আকর্ষণ।

আর১৫ ভি২ এ ৯০/৮০-১৭ এবং ১৩০/৭০-১৭ পরিমাপের টায়ার আছে যথাক্রমে ফ্রন্ট এবং রিয়ার এ। আর১৫ ভি৩ এর প্রশস্ত টায়ার একই সাথে প্রশস্ততর সাইড ওয়াল মটর সাইকেলটিকে যে কোন সংঘাত খুব সহজেই মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।

 

১০। ব্রেকঃ

ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ এর ফ্রন্টে বিশাল সাইজের ২৮২ মিলিমিটার এবং রিয়ারে ২৪০ মিলিমিটার ডিস্ক ব্রেক রয়েছে।

এই কম্বিনেশনটি ভি২ এর ২৬৭ মিলিমিটার ২২০ মিলিমিটার এর তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।

বড় সারফেস এরিয়া নতুন বাইকের ভালো ব্রেকিং জন্য সহায়ক।

তবে দুর্ভাগ্যবশত অনেক প্রতীক্ষিত এন্টি লক ব্রেকিং সিস্টেম (এবিএস) ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ তেও নেই। ২০১৭ এর ওয়াইজেডএফ-আর১৫ (YZF-R15)মডেলে এটায় ছিল সবচেয়ে প্রত্যাশিত ফিচার গুলোর একটি।

 

১১। ডাইমেনশনঃ

আর১৫ ভি৩ বর্তমান জেনারেশনের মডেলের চেয়ে ২০ এমএম দীর্ঘ, ৫৫ এমএম প্রশস্ত এবং ৬৫ এমএম লম্বা।

ভার্সন ৩ এর অতিরিক্ত এক কেজি ওজন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর রূপান্তরে সীটের উচ্চতাও ১৫ এমএম বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইয়ামাহা থার্ড জেনারেশন মডেলে (ভি৩) গ্রাউন্ড সারফেস দিয়েছে ১৫৫ এমএম যেখানে বর্তমান জেনারেশন (ভি২) ১৬০ এমএম এর সাথে ভালোই ছিল।

ফুয়েল ট্যাঙ্ক এর পরিপাম এখন ১১ লিটার যদিও বিভিন্ন ডিজাইন ব্যবহারের কারনে সিটিং পজিশনের পরিবর্তন হয়েছে। ফুয়েল ট্যাঙ্কের ফ্ল্যাট টপের

ডিজাইনটি বৃহত্তর আর সিরিজের মটরসাইকেল থেকে অনুপ্রানিত হয়ে করা হয়েছে।

 

২০১৭ সালের নতুন ইয়ামাহা বাইক, ইয়ামাহা এফ জেড এস,এফজেড এফআই

নতুন ইয়ামাহা বাইক, Yamaha Vixion 2017 Edition লঞ্চ হয়েছে

Comments

comments

Join the discussion

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।