নোকিয়া ৬ (Nokia 6) রিভিউ

নোকিয়া ৬ (Nokia 6) রিভিউ


এইচএমডি গ্লোবাল এর উন্মোচন করা নোকিয়া ৮ এর পূর্বে কোম্পানির সর্বাধিক বিক্রিত স্মার্টফোন ছিল নোকিয়া ৬। নোকিয়া ৬ এই কোম্পানির প্রথম লঞ্চ করা ৩টি নোকিয়া ব্রান্ডের এন্ড্রয়েড স্মার্ট ফোনের (নোকিয়া ৩ এবং নোকিয়া ৫ এর সাথে (নোকিয়া মোবাইল ২০১৭)) একটি। ২০০০ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত অ্যানালগ মোবাইল হ্যান্ডসেটের জগৎ মাতিয়ে রেখেছিল ‘নোকিয়া ৩৩১০

Click to read >>শক্তিশালী ব্যাটারির নোকিয়া ২ (Nokia 2) এখন বাজারে

 

নকিয়া নতুন মোবাইল, নোকিয়া ৬ এর রিভিউ নিয়ে আজকে আমাদের আলোচনা ।

নোকিয়া 6 মুলত একটি মিড-রেঞ্জের স্মার্ট ফোন যার লক্ষ্য হল স্পেসিফিকেশনের বিশাল তালিকার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে গ্রাহকদের দুর্দান্ত রকমের এন্ড্রয়েড এর স্বাদ প্রদান করা।

নোকিয়া ৬ (Nokia 6) রিভিউ

মিড রেঞ্জার ফোন হিসেবে  ও আপ টু ডেট এন্ড্রয়েড এর স্বাদ প্রদানের যে প্রমিজ নোকিয়া করেছিল তা কি রাখতে পেরেছে?

Click to read >>

দারুন সব ফিচারের সম্ভার নিয়ে মিড রেঞ্জের নোকিয়া ৭(Nokia 7)

চলুন, খুঁজে বের করার চেষ্টা করি।

 

প্রথমেই এর কিছু ভাল দিক এবং খারাপ দিক দেখে নেই, তারপর জানবো বিস্তারিতঃ

পজিটিভ দিকঃ

  • ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি
  • চমৎকার ডিসপ্লে
  • মান্থলি সিকিউরিটি আপডেট

নেগেটিভ দিক

  • দুর্বল ক্যামেরা পারফর্মেন্স
  • ফাস্ট চারজিং নেই
  • এভারেজ পারফর্মেন্স

 

 

স্পেসিফিকেশন

এবার এক নজরে এর স্পেসিফিকেশন গুলো দেখে নেই

  • ডিসপ্লেঃ ৫.৫ ইঞ্চি আইপিএস এলইডি, ১৯২০*১০৮০ রেজুলেশন
  • প্রসেসরঃ অক্টা কোর কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৪৩০
  • র‍্যাপঃ ৩ জিবি
  • ইন্টারনাল স্টোরেজঃ ৩২ জিবি
  • ক্যামেরাঃ ফ্রন্ট ৮ মেগাপিক্সেল, ব্যাক ১৬ মেগাপিক্সেল
  • ব্যাটারিঃ ৩০০০ এমএএইচ, নন রিমুভেবল
  • সফটওয়্যারঃ অ্যান্ড্রয়েড 7.1.1 (নুগাট)
  • ডাইমেনশন এবং ওজনঃ ১৫৪* ৭৫.৮* ৭.৯ মিলি মিটার এবং ১৬৯ গ্রাম

 

 

নোকিয়া মোবাইলের দাম :বাংলাদেশে নোকিয়া ৬  ফোনটির দাম

নোকিয়া ৬ দ্বন্দ্ব বাধিয়ে দেয়ার মত একটি ফোন। যেখানে এর কিছু অংশ অসধারন সুন্দর, সেখানে কিছু অংশ অনেকটায় আধুনিকতার বাইরে। যাইহোক বাংলাদেশে এই ফোনটি এখন পাওয়া যাচ্ছে ২২,৫০০ টাকায়।

 

ডিজাইন

আসুন, শুরুতেই এর আউট লুক কেমন সেটা দেখি, নোকিয়া ৬ দেখতে এক কথায় দারুন! এটাই সম্ভবত এই প্রাইস-রেঞ্জের এন্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে বেষ্ট লুকিং ফোন এবং বলতে গেলে  এক কথায় আউটস্ট্যান্ডিং।ফোনের ডিজাইনের কিছু অংশ নোকিয়ার পুরোনো লুমিয়ার পোর্টফলিও এর কিছু ডিভাইসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

৭.৮৫ মিলি মিটার এবং ১৬৯ গ্রাম ওজনের নোকিয়া ৬ কে খুব একটা স্লিম অথবা হালকা যাবে না তবে ফোনটি বেশ প্রিমিয়াম লুকের এবং হাতে ধরলে ফোনটি ঠিক কতটা মজবুত তা বোঝা যায়।

nokia-6-productreviewbd

৬০০০ সিরিজের এলোমিনিয়াম দিয়ে তৈরি হয়েছে ফোনটির বডি। সলিড বিল্ডের টাফ বডির নোকিয়া ৬ এর সুপ্রাচীন বৈশিষ্ট্যকেই যেন ফিরিয়ে এনেছে।

সত্যি বলতে, ছোট বেলায় বাবা চাচার নোকিয়া ফোনগুলোর কথা মনে পড়ে যায় যাদের অক্ষয় সেট  বলা হত এবং মোবাইল নিয়ে খেলতে গিয়ে ফেলে দিলেও মাথায় চাটি খাওয়ার ভয় থাকতো না।

ক্রেতারা নিশ্চিত থাকুন বিশেষ কারো সাথে ফাইট করে ফোনটি আছাড় মারতে পারবেন অনায়াসে, কোনো ব্যাপারই না এটা নোকিয়া ৬ এর জন্য! যে কোন টাফ বডির ফোনেও কোথাও না কোথাও দুর্বল পয়েন্ট থাকে কিন্তু নোকিয়া ৬ এ তেমন কিছুই খুঁজে পাওয়া যায় নাই।

এর গোপন রহস্যটা হচ্ছে ফোনটির ব্যাক বডির এক্সটেনশন পার্ট বেশ বড় যেটা অনেকটা এক্সট্রা বাম্পারের কাজ করে এবং পুরোটা মেটাল মেড হয়ার কারোনে অতিরিক্ত রকমের সুরক্ষা পেয়ে যায়।

নোকিয়া ৬ কে উল্টো করে ধরলেই দেখতে পাবেন সুপরিচিত “নোকিয়া” এর ব্রান্ডিং নেম। এর ম্যাট ফিনিস লুক বেশ মসৃণ দেখায় এবং খুব একটা আঙ্গুলের ছাপ ফোনটিতে পড়ে না। রিয়ার পার্টে অন্যান্যদের মত নোকিয়ারও আছে ক্যামেরা এবং ফ্ল্যাশ।

ওভারল নোকিয়া ৬ একাধারে সুদর্শন এবং শক্তিশালী, দারুন প্রিমিয়াম লুকের এবং এর বিল্ড কোয়ালিটি এমন যে আপনি নিশ্চিত থাকুন যে রোজকার ব্যবহারের শত অত্যাচারেও ফোনটি উফ পর্যন্ত করবে না।

 

ডিসপ্লে

গঠনগত সৌন্দর্য দিয়ে নোকিয়া ৬ আমাদের মন তো অনেকটায় কেড়েছে, চলুন দেখি রুপ চেহারা অর্থাৎ ডিসপ্লে আমাদের কতটা মোহিত করতে পারে।

৫.৫ ইঞ্চির ফুল এইচডি (১৯২০*১০৮০) আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে নকিয়া ৬ স্মার্ট ফোনকে দিয়েছে প্রিমিয়াম লুক । সাথে আছে ২.৫ডি কার্ভ গ্লাস এবং স্ক্রিন প্রটেকশনের জন্য রয়েছে করনিং গোরিলা গ্লাস যার কারনে খুব একটা স্ক্র্যাচ পড়ার  ভয় নেই তবে আমার পরামর্শ হবে একটা স্ক্রিন প্রটেকটর লাগিয়ে নেয়া, যার ফলে আপনার ভালোবাসার ফোনটি থাকবে ১০০% সুরক্ষিত।

ডিসপ্লের উপরে একটি পোলারাইযার স্তর রয়েছে যা সানলাইটের রিফ্লেকশন কমানোর জন্য ফিল্টারের মত কাজ করবে।

ডিসপ্লের ব্রাইটনেস মোটের উপর বেশ ভালো এবং কালার রিপ্রোডাকশন খুব চমৎকার এবং এর ভিউইং অ্যাঙ্গেল এককথায় অসাধারণ।

পারফর্মেন্স

নোকিয়া ৬ স্মার্টফোনে্র স্পেসিফিকেশন অনুরুপ একই প্রাইস সেগমেন্টের অন্যান্য স্মার্ট ফোনের তুলনায় কিছুটা পরিমিত মনে হয় এমনকি কিছুটা কম বলেও মনে হতে পারে।

স্ন্যাপড্রাগন ৪৩০ এমন কোন মানের প্রসেসর নয় যেটা যা নির্ভরযোগ্যভাবে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে যাবে, আবার একেবারেই যে আপনাকে হতাস করবে তাও নয়।

৩জিবি র‍্যাম বেশির ভাগ ইউজারের জন্যই যথেষ্ট হতে পারে, এবং নোকিয়া ৬ কে তৈরিই করা হয়েছে এমনভাবে যে কোন ঢিলেমি ছাড়ায় আপনার দৈনন্দিন কাজগুলো দারুনভাবে করে দেবে।

যাইহোক খুঁজতে শুরু করলে পূর্ণিমার চাঁদে যেমন কলংকের খোঁজ পাওয়া যায়, তেমন নকিয়া ৬ এও কিছু খুঁত খুঁজে বের করা যায়। ব্যাপকভাবে মাল্টিটাস্কিং করলে ফোনটি কিছুটা সময় নিতে পারে অর্থাৎ স্লো হয়ে যেতে পারে।

এর মানে হচ্ছে, নোকিয়া ৬ এর গেমিং পারফর্মেন্সে কোন সমস্যা নেই এমনকি গ্রাফিক্স ইনটেনশিভ গেমস গুলতেও কোন সমস্যা নজরে পড়ে না, যদিও গেম শুরু হতে কিছু নেয়।

 

নোকিয়া ৬ এ দেয়া হয়েছে ৩২ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ যেটাকে মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করে ১২৮ জিবি পর্যন্ত বাড়িয়ে নেয়া যাবে।

ব্যাটারি

নোকিয়া ৬ এ ৩০০০ মিলি আম্পায়ার ব্যাটারি দেয়া হয়েছে যা থেকে খুব বিশেষ কিছু আশা করা যায় না, তবে ফোনটি খুব সহজেই একটি পুরোদিন সাপোর্ট দিতে পারবে এবং তার থেকে বেশিও দিতে পারে।

ব্যাটারির একটায় দুর্বল দিক আর তা হল এতে ফাস্ট চারজিং এর সুবিধা নেই ।

নোকিয়া ৬  এ সাউন্ড বৃদ্ধির জন্য ডল্বি এটমস রয়েছে যা লাউড এবং খুব ক্লিয়ার অডিও দেয়।

কোন যায়গা বা এলাকা যেখানে নেটওয়ার্ক এ সমস্যা হতে পারে সেখানেও নোকিয়া ৬ এর সেলুলার নেটওয়ার্ক অক্ষত থাকে।

এমনকি কিছু চিহ্নিত এলাকা যেখানে নেটওয়ার্ক এক্টিভ রাখার জন্য অন্যান্য ফোনগুলো স্ট্রাগল করে সেখানে নোকিয়া ৬ বহাল তবিয়তে নেটওয়ার্ক সারভিস দিয়ে যায়।

 

হার্ডওয়্যার

যথারীতি ফ্রন্টে হোম বাটনে ডাবল প্রেস করলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার হিসেবে কাজ করবে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ত্রুটিহীন ভাবে কাজ করে কিন্তু বাটনটি অজাচিতভাবেই ফোনের একেবারে নিচের দিকে দিয়ে দিয়েছে।

তার মানে অবশ্য এই নয় যে চুক্তি ভঙ্গের মত কোন অন্যায় করে ফেলেছে নোকিয়া, আসোলে বেশি নিচে হওয়ায় ব্যবহার করতে কিছুটা সময় লাগে।

নোকিয়া ৬ এ হাইব্রিড ট্রে দেয়া হয়েছে, যেটায় ২টি ন্যানো সিম ব্যবহার করা যাবে অথবা একটায় সিম অন্যটায় মাইক্রোএসডি কার্ড ব্যবহার করা যাবে।

এটিতে চারজিং এর জন্য মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট  দেয়া হয়েছে যেখানে অন্যান্য নতুন ফোনগুলোতে ইউএসবি-সি পোর্ট আছে, এটি কিছুটা হতাসাজনক বলতেই হয়।

 

ক্যামেরা

নোকিয়া ৬ এ ১৬ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরার সাথে আছে এবং এফ/২.০ এপেচার এর সাথে আছে ডূয়াল এলইডি ফ্ল্যাশ। যা আশা করেছিলাম, ক্যামেরাটি ডেলাইটে অতি হাই লেভেল অফ ডিটেইল এ ক্যাপচার করতে পারে। কনট্রাস্ট ব্যাপক সুন্দর এবং ফটোও আসে দারুন। কিন্তু কালার কম হওয়াটা মাথায় বাড়ি পড়ার মত, আসলে আরো একটু ভালো হওয়া উচিত ছিল।

লো লাইট কন্ডিশনে ছবির ডিটেইল খুভব একটা সন্তোষজনক নয়। আলো না থাকলে মাঝে মাঝে কিছি শট একেবারেই ব্ল্যাক আসে।

৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা ভালো আলোয় সেলফি নেয়ার ক্ষেত্রে বেশ ভালোয় কাজ করে তবে লো লাইটে এই এমন কিছু ভালো কাজ করতে পারে না।

নোকিয়া ৬ ১০৮০পি/৩০এফপিএস এ ভিডিও ধারন করতে সক্ষম তবে এটা এমন কিছু ব্যাতিক্রম নয়।সর্বোপরি নোকিয়া ৬ এর ক্যামেরা বেশ ভাল তবে দামের তুলনায় কিছুটা প্রশ্ন থেকে যায়।

 

সফটওয়ার

নোকিয়া ৬ এর অপারেটিং সিস্টেম হল অ্যান্ড্রয়েড 7.1.1 (নুগাট) যদিও পরবর্তীতে  অ্যান্ড্রয়েড 8.0 (অরিও) তে আপগ্রেড করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। ফোনটির চিপসেট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৪৩০ যেটা এমন কিছু আহামরি দারুন পারফর্মেন্স দিতে পারবে বলে মনে হয় না। এর সিপিইউ অক্টা-কোর, ১.৪ গিগা হার্জ।

 

নকিয়া মোবাইল এর দাম:

নকিয়া ৩: ১২ হাজার ৫০০ টাকা। নকিয়া ৫: ১৫ হাজার ৯৯০ টাকা। নকিয়া ৬: ২২ হাজার ৫০০ টাকা। নকিয়া ৩৩১০: ৪ হাজার ২৫০ টাকা।

নকিয়া মোবাইলের দাম: নকিয়া বাংলাদেশে তার মোবাইল গুলোর নতুন দাম নির্ধারন করেছে।

Comments

comments

Join the discussion

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।